ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Amar Sangbad

ইনস্টাগ্রাম

Amar Sangbad

এক্স

Amar Sangbad


লিংকডইন

Amar Sangbad

পিন্টারেস্ট

Amar Sangbad

গুগল নিউজ

Amar Sangbad


হোয়াটস অ্যাপ

Amar Sangbad

টেলিগ্রাম

Amar Sangbad

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Amar Sangbad


ফিড

Amar Sangbad

ঢাকা শনিবার, ১৮ জুলাই, ২০২৬

ইসলামে পবিত্রতার বিবরণ: করণীয় ও ফজিলত

আমার সংবাদ ধর্ম ডেস্ক

আমার সংবাদ ধর্ম ডেস্ক

নভেম্বর ২৭, ২০২৫, ১১:২৬ এএম

ইসলামে পবিত্রতার বিবরণ: করণীয় ও ফজিলত

ইসলামে পবিত্রতা বা তহারা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। ইসলামী আইন ও আধ্যাত্মিক চর্চার ভিত্তি গড়ে ওঠে পরিচ্ছন্নতার ওপর। শারীরিক, মানসিক ও আধ্যাত্মিকভাবে মানুষকে আল্লাহর ইবাদতের উপযোগী করে তোলে পবিত্রতা। তাই 'পবিত্রতার বিবরণ' বলতে বোঝায় একজন মুসলমান কীভাবে পরিচ্ছন্ন থাকবে, কোন কাজগুলো তার জন্য আবশ্যক, এবং পবিত্রতার মাধ্যমে কী কী ফজিলত অর্জন করা যায় এসবের বিস্তারিত ব্যাখ্যা।

আরবি শব্দ তাহারা অর্থ পরিচ্ছন্নতা, পবিত্রতা, পরিশুদ্ধতা। এর দুটি দিক রয়েছে: হিস্‌সী পবিত্রতা শরীর, পোশাক, স্থান ও বস্তুর দৃশ্যমান পরিচ্ছন্নতা। মা'নাবী পবিত্রতা আত্মা, নৈতিকতা ও চিন্তার পরিশুদ্ধতা।

হাদিসে এসেছে, 'পবিত্রতা ঈমানের অর্ধেক।' এটি প্রমাণ করে যে পবিত্রতা ইসলামের মৌলিক অংশ এবং প্রতিটি ইবাদতের ভিত্তি।

শারীরিক পবিত্রতার করণীয়

গোসল করা: বড় নাপাকির পর ফরজ গোসল আবশ্যক। স্বাস্থ্যগত পরিচ্ছন্নতার জন্য নিয়মিত গোসল করা উত্তম।

ওযু করা: নামাজ, কুরআন স্পর্শ, তাওয়াফ ইত্যাদি ইবাদতের জন্য ওযু অপরিহার্য। মুখ ধোয়া, হাত-মুখ-পা ধোয়া, মাথা মাসেহ করা ও অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ পরিষ্কার করা ওযুর অংশ।

তায়াম্মুম: পানি না পাওয়া গেলে বা পানি ব্যবহার ক্ষতিকর হলে পরিষ্কার মাটি দিয়ে তায়াম্মুম করা যায়।

কাপড় ও জায়গা পরিচ্ছন্ন রাখা: নামাজ আদায়ের জন্য পোশাক ও স্থানের পরিচ্ছন্নতা ফরজ। নাপাকি লেগে গেলে তা ধুয়ে ফেলা আবশ্যক।

দেহ ও পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখা: নখ কাটা, বগল ও জননাঙ্গ পরিষ্কার করা, দাঁত ব্রাশ করা, মিসওয়াক করা ইত্যাদি সুন্নত। দুর্গন্ধ দূর করা, বাড়ি-ঘর ও পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখা ইসলামি সভ্যতার অংশ।

আধ্যাত্মিক ও নৈতিক পবিত্রতার করণীয়

হৃদয় পরিশুদ্ধ করা: হিংসা, অহংকার, কু-ইচ্ছা, লোভ, ঘৃণা ইত্যাদি দূর করা। সৎ চিন্তা, সহনশীলতা ও বিনয় ধারণ করা।

জিহ্বার পবিত্রতা: মিথ্যা, গীবত, অন্যের বদনাম, অশ্লীল কথা পরিহার করা। সত্য কথা বলা, নরমভাবে কথা বলা উত্তম।

দৃষ্টির পবিত্রতা: হারাম ও অশ্লীল বিষয় থেকে চোখকে হেফাজত করা।

তওবা ও ইস্তিগফার: আল্লাহর কাছে দোয়া, স্মরণ ও ক্ষমা প্রার্থনা মানুষকে হৃদয়ের নাপাকি থেকে দূরে রাখে। এভাবে ইসলাম শরীর ও মন উভয়কে পরিশুদ্ধ রাখার নির্দেশ দেয়।

পবিত্রতা কেন প্রয়োজন-

ইবাদতের পূর্বশর্ত: নামাজ, কুরআন তিলাওয়াত, মসজিদে প্রবেশ এসব ইবাদত পবিত্রতা ছাড়া গ্রহণযোগ্য নয়।

মানবিক ও সামাজিক প্রয়োজন: পরিচ্ছন্নতা মানুষকে রোগ থেকে রক্ষা করে এবং সুস্থ-স্বাভাবিক জীবন নিশ্চিত করে।

ধর্মীয় মর্যাদা: মুমিনের পরিচয়ের অন্যতম চিহ্ন পবিত্রতা।

রাসুল (সা.) বলেন, পবিত্রতা ঈমানের অর্ধেক। বিশ্বাসের পরই পরিচ্ছন্নতা ঈমানের একটি শক্ত ভিত্তি।

কুরআনে আল্লাহ বলেন, আল্লাহ তাওবা কারীদের ভালোবাসেন এবং পরিচ্ছন্নতাকারীদের ভালোবাসেন। এতে বোঝা যায় যে পবিত্র থাকা আল্লাহর সন্তুষ্টির অন্যতম মাধ্যম 

ইবাদত কবুল হওয়ার পূর্বশর্ত: নামাজসহ অনেক ইবাদত পরিচ্ছন্নতা ছাড়া সঠিক হয় না। পবিত্রতা আধ্যাত্মিক শক্তি বাড়ায় ও খুশু-খুজু অর্জনে সাহায্য করে।

ফেরেশতারা সাথে থাকেন: ফেরেশতারা পবিত্র স্থানে অবস্থান করেন। নাপাকি ও অপবিত্র স্থানে তারা প্রবেশ করেন না। তাই পরিচ্ছন্ন পরিবেশে রহমত ও শান্তি নেমে আসে।

দুনিয়া ও আখিরাতে উপকারিতা: রোগব্যাধি থেকে রক্ষা, মানসিক প্রশান্তি, সামাজিক মর্যাদা বৃদ্ধি, রিযিকে বরকত, আখিরাতে সওয়াব।

পবিত্রতার সার্বিক গুরুত্ব: ইসলামে পবিত্রতা শুধু ধর্মীয় কাজের শর্ত নয়; বরং একটি পূর্ণাঙ্গ জীবনব্যবস্থার অংশ। একজন পরিচ্ছন্ন মানুষ আল্লাহর কাছে প্রিয় হয়, মানুষের কাছেও সম্মান পায়, এবং শারীরিক-মানসিকভাবে সুস্থ থাকে। তাই পবিত্রতার বিবরণ বলতে বোঝায় মানুষের বাহ্যিক ও আভ্যন্তরীণ উভয় ক্ষেত্রেই পরিপূর্ণ পরিচ্ছন্নতার দিকে ধাবিত করার ইসলামি নির্দেশনাসমূহ।

পবিত্রতা হলো শরীর, পোশাক, স্থান ও আত্মার পরিচ্ছন্নতা। ওযু, গোসল, তায়াম্মুম, পরিবেশ পরিচ্ছন্নতা এসব এর অংশ।

নৈতিক পবিত্রতা হৃদয়, জিহ্বা, দৃষ্টি ও আচরণকে শুদ্ধ করে। পবিত্রতা ঈমানের অংশ এবং প্রতিটি ইবাদতের মূল শর্ত।

আল্লাহর ভালোবাসা, ফেরেশতাদের সঙ্গ, দুনিয়া ও আখিরাতের বরকত সবই পবিত্রতার ফজিলত।

জেএইচআর

Link copied!