নিজস্ব প্রতিবেদক
নভেম্বর ৩, ২০২৫, ০২:২২ পিএম
মোবাইল সিমের অতিরিক্ত ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে আনতে নতুন উদ্যোগ নিচ্ছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)।
সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী, একজন ব্যক্তির নামে সর্বোচ্চ ১০টি সিম থেকে তা কমিয়ে ৭টিতে সীমিত করার প্রস্তাব করা হয়েছে। এতে দেশে প্রায় ৩ কোটি ৮০ লাখ সিম কার্ড বন্ধ হয়ে যেতে পারে বলে প্রাথমিক হিসাব দিয়েছে সংস্থাটি।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী সম্প্রতি জানিয়েছেন, আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের আগে নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষার স্বার্থে এই সীমা কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, একজন মানুষের নামে ১০টি বা তার বেশি সিম থাকা অযৌক্তিক। সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড, প্রতারণা ও আর্থিক জালিয়াতির সঙ্গে অনেক সময় এই অতিরিক্ত সিম ব্যবহার জড়িত থাকে।
বিটিআরসির সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দেশে ১৮ কোটি ৮৭ লাখ সক্রিয় মোবাইল সিম রয়েছে। এর মধ্যে ৬ কোটি ৭৫ লাখ গ্রাহকের নামে একাধিক সিম আছে। প্রায় এক কোটি ২০ লাখ গ্রাহকের নামে ৬ থেকে ১০টি পর্যন্ত সিম সক্রিয়।
কমিশনের কর্মকর্তারা জানান, এদের মধ্য থেকেই ৩ কোটি ৮০ লাখ সিম নিষ্ক্রিয় হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যদি সরকার সাতটির সীমা চূড়ান্ত করে।
তবে মোবাইল অপারেটর কোম্পানিগুলো এ প্রস্তাবের বিরোধিতা করেছে। তাদের দাবি, এতে শুধু গ্রাহক নয়, সরকারও বড় ধরনের রাজস্ব ক্ষতির মুখে পড়বে।
রবি আজিয়াটার করপোরেট অ্যান্ড রেগুলেটরি অ্যাফেয়ার্স প্রধান সাহেদ আলম বলেন, অপরাধীরা সিম নয়, তথ্য চুরি করছে। ন্যাশনাল ডাটাবেজ সুরক্ষিত না থাকলে সিম কমিয়ে কোনো সুফল পাওয়া যাবে না।
বাংলালিংকের কর্মকর্তা তাইমুর রহমান বলেন, সব পক্ষকে একসাথে বসে প্রতারণা প্রতিরোধের বাস্তব সমাধান খুঁজে বের করতে হবে। সিম সংখ্যা কমানো সমস্যার মূল সমাধান নয়।
অন্যদিকে, বিটিআরসি বলছে, আইওটি বা বিভিন্ন মেশিন ভিত্তিক সেবার জন্য আলাদা সিরিজে সিম বরাদ্দের কাজ শুরু হয়েছে, যাতে সাধারণ গ্রাহক ব্যবহারের সিম আলাদাভাবে নিয়ন্ত্রিত থাকে।
বিটিআরসি চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) এমদাদ উল বারী বলেন, একজন মানুষের হাতে দশটি সিম থাকার যৌক্তিকতা আমরা দেখছি না। তাই সরকারের কাছে প্রস্তাব পাঠাব, যেন এই সংখ্যা আরও কমানো যায়।
বিশ্বের অন্যান্য দেশেও একক নামে সিম ব্যবহারে সীমা রয়েছে। ভারতে এক ব্যক্তি সর্বোচ্চ ৯টি, পাকিস্তানে ৫টি এবং মালদ্বীপে ১০টি সিম রাখতে পারেন।
প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের মতে, সিম সীমাবদ্ধতার পাশাপাশি এনআইডি ডাটাবেজ, ফেস ভেরিফিকেশন এবং সাইবার মনিটরিং জোরদার না করলে প্রতারণা পুরোপুরি বন্ধ হবে না।
বিটিআরসি জানিয়েছে, বিষয়টি নিয়ে সরকারের আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত জানতে চিঠি পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হলে পরবর্তী বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে মোবাইল অপারেটরদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হবে।
ইএইচ