ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Amar Sangbad

ইনস্টাগ্রাম

Amar Sangbad

এক্স

Amar Sangbad


লিংকডইন

Amar Sangbad

পিন্টারেস্ট

Amar Sangbad

গুগল নিউজ

Amar Sangbad


হোয়াটস অ্যাপ

Amar Sangbad

টেলিগ্রাম

Amar Sangbad

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Amar Sangbad


ফিড

Amar Sangbad

ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন, ২০২৬
বিশ্বকাপ ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো এবং কানাডার যৌথ আয়োজন

স্পোর্টস ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

জুন ১৮, ২০২৬, ০৪:২৯ পিএম

যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো এবং কানাডার যৌথ আয়োজন

যখন ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের রূপরেখা চূড়ান্ত হচ্ছিল, তখন ফুটবলবিশ্বের বড় একটা অংশ সংশয়ে ডুবেছিল। ৪৮টি দলের এই মহা-টুর্নামেন্ট কি আদৌ তার চিরচেনা রোমাঞ্চ ধরে রাখতে পারবে? নাকি অতিরিক্ত দলের ভিড়ে মূল আসরের মান কমে যাবে? দল বাড়লে কি গ্রুপ পর্বের ম্যাচগুলো ম্যাড়মেড়ে হয়ে যাবে না? এমন হাজারো প্রশ্ন আর সমালোচনার তীরে বিদ্ধ হয়েই মাঠে গড়িয়েছিল গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ।

তবে টুর্নামেন্ট শুরু হওয়ার পর প্রথম কয়েকদিনের খেলা দেখে সমালোচকদের সেইসব যুক্তি ধূলিসাৎ হয়ে গেছে। ফুটবলবোদ্ধা থেকে শুরু করে সাধারণ সমর্থক, সবাই এক বাক্যে স্বীকার করছেন, এই বিশ্বকাপ এখন পর্যন্ত কেবল সফলই নয়, বরং 'আশ্চর্যজনকভাবে চমৎকার'। মাঠের ফুটবল, গ্যালারির উন্মাদনা এবং অভাবনীয় সব অঘটন মিলিয়ে ২০২৬ বিশ্বকাপ তার প্রথম অধ্যায়েই এক অবিস্মরণীয় রূপ পরিগ্রহ করেছে।

ফিফা যখন সিদ্ধান্ত নেয় যে ৩২টি দলের পরিবর্তে এবার ৪৮টি দেশ অংশ নেবে, তখন ফুটবল পণ্ডিতরা একে 'বাণিজ্যিক চাল' হিসেবেই দেখেছিলেন। তাদের ধারণা ছিল, ফিফা র‍্যাংকিংয়ের নিচের সারির দলগুলো আসার ফলে প্রতিযোগিতার ভারসাম্য নষ্ট হবে এবং একতরফা গোলের বন্যা দেখা যাবে। কিন্তু মাঠের বাস্তব চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন।

প্রথম ম্যাচ থেকেই দেখা গেছে, তথাকথিত 'দুর্বল' বা আন্ডারডগ দলগুলো ইউরোপ ও লাতিন আমেরিকার পরাশক্তিদের চোখে চোখ রেখে লড়াই করছে। গ্রুপ পর্বে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা থেকে শুরু করে স্পেন কিংবা বেলজিয়াম, কোনো বড় দলই সহজে পার পায়নি। র‍্যাংকিংয়ের ৬১, ৬৭ কিংবা ৮৫ নম্বর দলগুলো প্রমাণ করে দিয়েছে যে, বিশ্বমঞ্চে তারা কেবল সংখ্যা বাড়াতে আসেনি, বুক চিতিয়ে লড়াই করতে এসেছে। ফুটবল এখন আর গুটিকয়েক দেশের একক সম্পত্তি নয়, বরং বিশ্বজুড়ে কৌশলী ও শারীরিক ফুটবলের মান কতটা উন্নত হয়েছে, তা এই টুর্নামেন্টের শুরুতেই স্পষ্ট।

এই বিশ্বকাপের এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় চমক বা 'শক' এসেছে কেপ ভার্দে দ্বীপপুঞ্জের কাছ থেকে। আটলান্টিক মহাসাগরের মাত্র সাড়ে পাঁচ লাখ মানুষের এই ছোট্ট দ্বীপরাষ্ট্রটি বিশ্বমঞ্চে খেলতে এসেই মুখোমুখি হয়েছিল ইউরোপীয় চ্যাম্পিয়ন মহাশক্তিধর স্পেনের। ফুটবলপ্রেমীরা ধরে নিয়েছিলেন, স্প্যানিশ আর্মাডা হয়তো কেপ ভার্দেকে গোলবন্যায় ভাসিয়ে দেবে।

কিন্তু আটলান্টার মাঠে যা ঘটল, তা ফুটবল ইতিহাসের পাতায় স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে। পুরো ম্যাচজুড়ে স্পেনের বিশ্বমানের আক্রমণভাগকে বোতলবন্দী করে রাখে কেপ ভার্দের ডিফেন্ডাররা। বিশেষ করে তাদের ৪০ বছর বয়সী গোলরক্ষক ভোজিনহা একের পর এক অবিশ্বাস্য সেভ করে স্পেনকে স্তব্ধ করে দেন। ম্যাচটি গোলশূন্য (০-০) ড্রতে শেষ হয়।

এই ম্যাচটি কেবল মাঠেেই ঝড় তোলেনি, ঝড় তুলেছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও। ব্রাজিলের বিখ্যাত স্ট্রিমার ক্যাসিমিরো মিগুয়েল (কাজেই) তার 'কাজেইটিভি' লাইভ ব্রডকাস্টে ম্যাচ চলাকালীন লক্ষ্য করেন যে ভোজিনহার ইনস্টাগ্রামে ফলোয়ার সংখ্যা খুবই কম। তিনি রসিকতা করে তার কোটি ভক্তকে বলেন ভোজিনহাকে ফলো করতে। ম্যাচের পর দেখা যায়, যেখানে ভোজিনহার মাত্র কয়েক হাজার ফলোয়ার ছিল, সেটি মুহূর্তের মধ্যে লাখ লাখ ছাড়িয়ে যায়! ফুটবল কীভাবে রাতারাতি একজন সাধারণ মানুষকে বিশ্বনায়ক বানিয়ে দিতে পারে, এটি তারই অনন্য উদাহরণ।

ঐতিহাসিকভাবে আমরা বিশ্বকাপে অঘটন বলতে বড় দলের হারকে বুঝি। কিন্তু ২০২৬ বিশ্বকাপে অঘটনের সংজ্ঞা কিছুটা বদলে গেছে। এবারের বড় বড় অঘটনগুলো এসেছে ম্যাচ ড্র হওয়ার মাধ্যমে। ছোট ছোট দলগুলো কেবল রক্ষণাত্মক ফুটবল খেলে ড্র করেনি, তারা প্রতি আক্রমণ দিয়ে বড় দলগুলোকে ব্যব্যস্ত করে রেখেছে।

সিয়াটল স্টেডিয়ামে বেলজিয়ামের সোনালী প্রজন্মের অবশিষ্টাংশের মুখোমুখি হয়েছিল মিশর। কেভিন ডি ব্রুইনাদের তারকাখচিত দলের বিরুদ্ধে মোহাম্মদ সালাহর মিশর যে ফুটবল উপহার দিয়েছে, তা দেখার মতো ছিল। মিশরীয় সমর্থকরা পুরো সিয়াটল শহরকে যেন কায়রো বানিয়ে ফেলেছিলেন। মাঠে লড়াই করে তারা ১-১ গোলের দুর্দান্ত এক ড্র ছিনিয়ে নেয়।

লাতিন আমেরিকান পরাশক্তি উরুগুয়ের আক্রমণভাগকে স্তব্ধ করে দিয়ে সৌদি আরব গোল করে এগিয়ে যায় এবং ম্যাচটি ড্র করে মূল্যবান ১টি পয়েন্ট তুলে নেয়।

এই ম্যাচটি ছিল গতি ও নাটুকে আবহ মণ্ডিতে ভরপুর। কেউ কাউকে এক চুল জমি ছাড়েনি এবং শেষ পর্যন্ত ২-২ গোলের রোমাঞ্চকর ড্র নিয়ে মাঠ ছাড়ে দুই দল।

এই ড্রগুলো প্রমাণ করে, আধুনিক ফুটবলে দলগুলোর মধ্যে কৌশলগত ব্যবধান কতটা কমে এসেছে। কোনো বড় দলই এখন আর আগে থেকে পূর্ণ ৩ পয়েন্ট পকেটে পুরে মাঠে নামতে পারছে না।

গ্রুপ 'এল'-এর উদ্বোধনী ম্যাচে টরন্টোর মাঠে ঘানা এবং পানামার মধ্যকার ম্যাচটি ছিল ফুটবলীয় নাটকের চূড়ান্ত রূপ। অভিজ্ঞ কোচ কার্লোস কুইরোজের অধীনে ঘানা প্রথমার্ধে একটি শটও নিতে পারেনি। পানামা তাদের চমৎকার রক্ষণ ও পাসিং ফুটবল দিয়ে ঘানাকে আটকে রেখেছিল। কিন্তু ম্যাচের আসল রোমাঞ্চ জমা ছিল অতিরিক্ত সময়ে।

বদলি খেলোয়াড় ব্র্যান্ডন থমাস-আসান্টের চমৎকার এক ক্রস থেকে ২০ বছর বয়সী তরুণ ফুটবলার ক্যালেব ইরেনকি ম্যাচের ৯৫তম মিনিটে গোল করে ঘানাকে ১-০ ব্যবধানে জয় এনে দেন। এটিই চলতি বিশ্বকাপের এখন পর্যন্ত সবচেয়ে দেরিতে হওয়া জয়সূচক গোল। ম্যাচ শেষে কুইরোজ বলেন, আমরা যোদ্ধাদের মতো লড়াই করেছি এবং মগজ খাটিয়ে ম্যাচটা জিতেছি। পানামার জন্য এটি চরম হৃদয়বিদারক হলেও, নিরপেক্ষ দর্শকদের জন্য এটিই ছিল বিশ্বকাপের আসল সৌন্দর্য।

স্বাগতিক দেশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের (ইউএসএমএনটি) ওপর চাপটা ছিল অনেক বেশি। বিশ্বকাপের ঠিক আগে বেলজিয়াম এবং পর্তুগালের কাছে টানা হেরে বসায় আমেরিকান সমর্থকরা বেশ শঙ্কিত ছিলেন। কিন্তু মূল আসরে নিজেদের প্রথম ম্যাচেই তারা সেই শঙ্কা উড়িয়ে দিয়েছে। প্যারাগুয়ের বিপক্ষে ৪-১ গোলের এক বিধ্বংসী জয় দিয়ে টুর্নামেন্ট শুরু করেছে তারা।

ফোলারিন বালোগান ও জিও রেইনার দুর্দান্ত পারফরম্যান্স এবং গতিশীল ফুটবল শৈলী পুরো যুক্তরাষ্ট্র জুড়ে সকার বা ফুটবল উন্মাদনাকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে। বিশেষ করে সিয়াটল এবং ক্যালিফোর্নিয়ার ভেন্যুগুলোতে যে পরিমাণ দর্শক সমাগম হচ্ছে, তা আমেরিকার মাটিতে ফুটবলের এক নতুন বিপ্লবের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

এই বিশ্বকাপের অন্যতম বড় প্রাপ্তি হলো এর বৈচিত্র্যময় গ্যালারি এবং স্বাগতিক শহরগুলোর চমৎকার আতিথেয়তা। ৩৯টি দল যুক্তরাষ্ট্রে, ৭টি মেক্সিকোতে এবং ২টি কানাডায় তাদের বেস ক্যাম্প করেছে। বিভিন্ন দেশের সংস্কৃতির এই যে মিলনমেলা, তা উত্তর আমেরিকার স্টেডিয়ামগুলোকে এক একটি উৎসবের মঞ্চে পরিণত করেছে।

মেক্সিকোর ঐতিহ্যবাহী মারিয়াচি সুর, আমেরিকার আধুনিক স্টেডিয়াম লাইটিং আর কানাডার সুশৃঙ্খল আয়োজন, সব মিলিয়ে এই বিশ্বকাপ ফুটবলের চেয়েও বড় এক সাংস্কৃতিক উৎসবে রূপ নিয়েছে।  এছাড়া ফুটবলের সাথে আধুনিক স্ট্রিটওয়্যার এবং ফ্যাশন ব্র্যান্ডগুলোর কোলাবোরেশন (যেমন জর্ডান, নাইকি কিংবা অ্যাডিডাসের বিশেষ কালেকশন) তরুণ প্রজন্মকে এই টুর্নামেন্টের প্রতি ব্যাপকভাবে আকৃষ্ট করেছে।

টুর্নামেন্ট কেবল শুরু হয়েছে, গ্রুপ পর্বের প্রথম রাউন্ডের ম্যাচগুলো শেষ হতে চলেছে। কিন্তু এরই মধ্যে ২০২৬ বিশ্বকাপ নিজের জাত চিনিয়ে দিয়েছে। ৪৮ দলের ফরম্যাট নিয়ে যে নেতিবাচকতা তৈরি হয়েছিল, মাঠের ফুটবল সেই সংশয়কে উড়িয়ে দিয়েছে। নকআউট পর্বের ৩২ দলের লড়াই যখন শুরু হবে, তখন রোমাঞ্চের পারদ কোথায় গিয়ে ঠেকবে, তা সহজেই অনুমেয়।

দি অ্যাথলেটিক-এর ভাষায় বলতে গেলে, আমরা হয়তো ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে উন্মাদনাপূর্ণ, আনপ্রেডিক্টেবল এবং সমতায় ভরা একটি বিশ্বকাপ প্রত্যক্ষ করতে যাচ্ছি। যেখানে কোনো দলই নিরাপদ নয়, আর কোনো দলই ছোট নয়।

জেএইচআর

Link copied!