Amar Sangbad
ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩, ২০ মাঘ ১৪২৯

পাঁচ বছর ধরে বন্ধ রয়েছে ওসমানী উদ্যান

সংস্কারকাজ শেষ হচ্ছে কবে

রায়হান উদ্দিন

রায়হান উদ্দিন

জানুয়ারি ২৫, ২০২৩, ০৩:৩১ এএম


সংস্কারকাজ শেষ হচ্ছে কবে

ওসমানী উদ্যান। নগরবাসীর একটু সুশীতল ছায়া পাওয়ার পাশাপাশি কিছুটা বিনোদন বা শরীরচর্চার জন্য ২০১৮ সালে শুরু হয় এর সংস্কারকাজ। ২৯ একর জায়গার ওপর তখন ব্যয় ধরা হয়েছিল প্রায় ৫৮ কোটি টাকা। ৯ থেকে ১০ মাসের মধ্যেই কাজ শেষ করার কথা ছিল। কিন্তু এরই মধ্যে ৩০ মাস পার হলেও এখনো শেষ হয়নি নির্মাণকাজ। নানা কারণে বাতিল করা হয়েছে পূর্বের টেন্ডার, নেয়া হচ্ছে ঠিকাদারদের বিরুদ্ধে মোটা অঙ্কের জরিমানাও। আর নতুন টেন্ডারে শিগগিরই শুরু হবে উদ্যানের কাজ। চলতি বছরই অবশিষ্ট ৩০-৩৫ শতাংশ কাজ শেষ করার প্রত্যাশা কর্তৃপক্ষের। অথচ বন্ধ থাকা উদ্যান এখন মাদকের অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে। সব মিলিয়ে একঘেয়েমি আর অবসাদ না কমলেও ‘গোস্সা নিবারণী উদ্যান‍‍`ই যেন গোস্সা করে রয়েছে।

এ সমস্যা কবে শেষ হবে— এমন হাজারো প্রশ্ন নগরবাসীর। তারা বলছেন, ওসমানী উদ্যানে যেতে না পারলে আমাদের গোস্সা বা রাগ কীভাবে কমাব? দ্রুত উদ্যানের কাজ শেষ করে তা খুলে দেয়ার দাবি তাদের। জানা যায়, ২০১৮ সালের ২৭ জানুয়ারি গোসসা নিবারণী পার্কের (ওসমানী উদ্যান) নির্মাণকাজের উদ্বোধন করেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র মোহাম্মদ সাঈদ খোকন। ২০২০ সালের ৩০ জুনের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও ৩০ মাসেও শেষ হয়নি এর সংস্কারকাজ। ফলে পাঁচ বছর ধরে বন্ধ থাকা উদ্যানটি এখন মাদকের অভয়ারণ্য আর আগাছায় ভয়ঙ্কর জঙ্গলে পরিণত হয়েছে। এ সুযোগে সেখানে দিন-রাত হচ্ছে অসামাজিক কার্যকলাপও।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন (ডিএসসিসি) কর্তৃপক্ষ বলছে, পার্কটির সংস্কারকাজ প্রায় ৬০-৬৫ শতাংশ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। নানা কারণে পূর্বের ঠিকাদারদের টেন্ডারও বাতিল করা হয়েছে। পাশাপাশি ঠিকাদারদের বিরুদ্ধে করা হচ্ছে মোটা অঙ্কের জরিমানাও। নতুন টেন্ডারের মাধ্যমে আসছে ফেব্রুয়ারিতেই কাজ শুরু হবে এবং চলতি বছরই কাজ শেষ হবে বলে জানায় কর্তৃপক্ষ। ডিএসসিসি আরও জানায়, নাগরিকদের মন ভালো করতে বা গোসা নিবারণ করতে উদ্যানটিতে থাকছে আলাদা আলাদা বসার জোন, বাচ্চাদের জন্য বিশেষ জোন ও বিভিন্ন রাইডস, ওয়াকওয়ে, লেক- যেখানে সারা বছরই পানি থাকবে, ওয়াশরুম, আন্ডারগ্রাউন্ড পার্কিং, লাইব্রেরিসহ নাগরিকদের মন ভালো করতে এতে থাকছে সব ধরনের সুযোগ-সুবিধাও। এছাড়াও উদ্যানটিতে বাউন্ডারি করাসহ ভেতরে নতুন নতুন গাছও লাগানো হবে।

সরেজমিনে জানা যায়, রাজধানীর প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত উদ্যানটির দক্ষিণে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের নগর ভবন, আর উত্তরে বাংলাদেশ সচিবালয়। একদিকে দীর্ঘ সময় ধরে উদ্যানটি বন্ধ রয়েছে, অন্যদিকে সংস্কারকাজও বন্ধ হয়ে আছে। ফলে এটি এখন একটি জঙ্গলে পরিণত হয়েছে। পাশাপাশি বাউন্ডারি দেয়া টিনগুলোও ভাঙাচোরা ও নষ্ট হয়ে গেছে। ভেতরে সহসাই আসা-যাওয়া করছে ভবঘুরের দল। দল বেঁধে সেবন চলছে মাদক। নেই নিরাপত্তার বালাই, ভেতরে প্রবেশ করলেই ঘা আঁতকে ওঠার মতো দৃশ্য চোখে পড়ে। এমন গুরুত্বপূর্ণ একটি স্থানে এমন পরিস্থিতিতে ক্ষোভ প্রকাশ করে রাজধানীবাসী বলছেন, কর্তৃপক্ষের অবহেলার কারণে দীর্ঘ সময় পরও উদ্যানটির কাজ শেষ হচ্ছে না। বন্ধ উদ্যানে প্রশাসনের নাকের ডগায় চলছে সব ধরনের অপকর্ম।

উদ্যানের পাশে বসে দোকান করছেন- নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এমন কজন এ প্রতিবেদককে বলেন, বাউন্ডারি দেয়া টিনগুলো নষ্ট হয়ে গেছে। পাশাপাশি নেশাগ্রস্তরা টিনগুলো ভেঙে নিয়ে যাচ্ছে। ফলে সহজেই ভেতরে প্রবেশ করতে পারছে মাদকসেবীরা। পাশাপাশি সন্ধ্যা নামতেই ভেতরে প্রবেশ করছে পতিতারা। আর দিন-রাত মাদক ব্যবসায়ীরা সহজেই মাদক সরবরাহ করছে সেখানে। বিভিন্ন কাজে প্রায়ই নগর ভবনে ও পুরান ঢাকায় আসেন রাসেল হাওলাদার। তিনি আমার সংবাদকে বলেন, এত ব্যস্ত এলাকায় বসার জায়গা পাওয়া যায় না। আগে এ উদ্যানে বসে বিশ্রাম নিতে পারতাম, বন্ধ থাকায় তা আর হচ্ছে না। দ্রুত কাজ শেষ করে উদ্যানটি চালু করার দাবি জানান তিনি। একই কথা জানান পুরান ঢাকার বাসিন্দা আলফাজ হোসেন। তিনি বলেন, শুনেছি এখানে (উদ্যানে) এলে নাকি মন ভালো হয়ে যাবে বা রাগ কমে যাবে । কিন্তু আর কবে কর্তৃপক্ষ আমাদের গোস্সা কমাবে?

এ বিষয়ে ডিএসসিসির প্রকল্প পরিচালক মো. খায়রুল বাকের আমার সংবাদকে বলেন, এখনো ৩০-৩৫ শতাংশ কাজ বাকি আছে। ফেব্রুয়ারিতে কাজ শুরু হবে এবং চলতি বছরই সব কাজ শেষ হবে। সেখানে নাগরিকদের সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা থাকছে। উদ্যানে প্রবেশে কোনো টিকিটিং ব্যবস্থা থাকছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, এটি নিয়ন্ত্রণে ব্যবস্থা নেয়া হবে। তবে টিকিটিং সিস্টেম থাকবে কি না, তা এখনো বলা যাচ্ছে না।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রধান প্রকৌশলী সালেহ আহম্মেদ আমার সংবাদকে বলেন, এ উদ্যানের দুই বা তিনজন ঠিকাদার আছেন। সবাইকে জরিমানা প্রস্তাব দিয়ে মেয়রের কাছে ফাইল দিয়েছি। তিনি তা অনুমোদন করেছেন। তাদের একেকজনের জন্য কোটি টাকার ওপরে জরিমানা হবে। পাশাপাশি উদ্যানের কাজের জন্য ম্যাজিস্ট্রেটের মাধ্যমে আবার যৌথ পরিমাপ দিয়ে পরবর্তী কাজের জন্য কী লাগবে, তার একটি এসেসমেন্ট প্রায় শেষের দিকে। এক কথায় নতুন করে আবার টেন্ডার করে অবশিষ্ট কাজ শেষ করা হবে।

এছাড়াও উদ্যানটি বন্ধ থাকায় সেখানে মাদকসেবনসহ অসামাজিক কার্যকলাপ হচ্ছে। এটি সম্পত্তি বিভাগ দেখছে। তারপরও আমরা দেখব, এমনকি মেয়রের কাছেও বিষয়টি উপস্থাপন করা হবে। এ উদ্যানের চারদিকে এত সুন্দর অফিস রয়েছে; কিন্তু এ নির্জন জায়গাটা এখন একটা ভীতিকর অবস্থায় রয়েছে। সব মিলিয়ে স্থানীয় প্রশাসনের সহায়তায় সেখানের সব বিষয়ে দেখভাল করা হবে।

Link copied!