বিনোদন প্রতিবেদক
আগস্ট ৬, ২০২২, ০১:১৬ এএম
বহুদিন পর সিনেমা নিয়ে সারা দেশের মানুষের মধ্যে বেশ আগ্রহের সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষত গেলো ঈদে (১১ জুলাই) বিদ্যা সিনহা মিম, শরীফুল রাজহ ও ইয়াশ রোহান অভিনীত ‘পরাণ’ সিনেমাই মূলত দর্শককে দীর্ঘদিন পর হলেও হলে ফেরাতে এক ধরনের জোয়ারের সৃষ্টি করেছে। ‘পরাণ’র এই জোয়ার এখনো চলছে।
শো’র আগে হলে হলে টিকিট মিলছে না। সিনেমা-সংশ্লিষ্টদের কাছে এটা একটি বিরাট আনন্দের সংবাদ। শুধু ‘পরাণ’-এর ক্ষেত্রেই নয় ‘পরাণ’ মুক্তির ১৮ দিন পর মুক্তিপ্রাপ্ত (২৯ জুলাই) চঞ্চল চৌধুরী অভিনীত ‘হাওয়া’ সিনেমাটির ক্ষেত্রেও টিকিট না পাওয়ার কথা শোনা গেছে।
‘পরাণ’ আর ‘হাওয়া’ বাংলা সিনেমার দৃশ্যপটই বদলে দিয়েছে। আর এ জন্য প্রথমত সাধুবাদ জানাতে হয় ‘পরাণ’ টিমকে, পরবর্তীতে ‘হাওয়া’ টিমকে। ‘পরাণ’ নির্মাণ করেছেন রায়হান রাফি, ‘হাওয়া’ নির্মাণ করেছেন মেজবাউর রহমান সুমন।
কিন্তু এখন আবার প্রশ্ন জেগেছে সবার মনে যে, ‘পরাণ’ ও ‘হাওয়া’র এই ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে আগামীতে যে সিনেমাগুলো মুক্তি পাবে, সেসব সিনেমার প্রতি কী দর্শকের সেই ধরনের আগ্রহ রয়েছে?
যদি আগ্রহের সৃষ্টি না হয়ে থাকে, তাহলে এখন থেকেই দর্শকের মধ্যে আগ্রহ সৃষ্টির জন্য প্রচারের ক্ষেত্রে সেসব সিনেমারও এগিয়ে আসা উচিত। সেদিক দিয়ে মুক্তিযুদ্ধের গল্পভিত্তিক সিনেমা খিজির হায়াত খান পরিচালিত ‘ওরা সাতজন’ সিনেমাটি বিজয়ের মাসে মুক্তির লক্ষ্যে বলা যায় এখন থেকেই প্রচারে রয়েছে।
এরই মধ্যে সিনেমাটি বাংলাদেশ ফিল্ম সেন্সর বোর্ড বিনা কর্তনে ছাড়পত্র দিয়েছে। পরিচালক জানান, আগামী নভেম্বরে সিনেমার ট্রেলার প্রকাশ পাবে।
আর বিজয়ের মাসেই মুক্তি পাবে সিনেমাটি। সিনেমাটিতে পরিচালক খিজির হায়াত খান অভিনয় করেছেন মেজর লুৎফরের ভূমিকায়, মুক্তিযুদ্ধ শুরু হবার পর মূলত যুদ্ধে অংশ নেন তিনি।
সিনেমাটি প্রসঙ্গে খিজির হায়াত খান বলেন, ‘আমি সিলেট ক্যাডেট কলেজের এক্স ক্যাডেট। সেনাবাহিনীতেও ছিলাম। যে কারণে সেনাজীবন সম্পর্কে আমার অভিজ্ঞতা রয়েছে। সিনেমা নির্মাণ এবং তাতে অভিনয় করা খুব কঠিন।
কিন্তু গল্পের প্রয়োজনে এবং সিনেমার প্রয়োজনেই এতে আমার অভিনয় করা। দীর্ঘ ৪৫ দিন আমরা সবাই সিলেটে সিনেমাটির শুটিং করেছি। সাতজন বীর মুক্তিযোদ্ধার বীরত্বগাথা গল্প এই সিনেমায় দেখানোর চেষ্টা করা হয়েছে। তাদের হাত ধরেই বিজয় এসেছে।
সিনেমাটিতে অন্যান্য চরিত্রে যারা অভিনয় করেছেন, প্রত্যেকেই ভীষণ শ্রম দিয়েছেন। দিন-রাত অক্লান্ত পরিশ্রম করেছেন। যে কারণে ওরা সাতজন আমার দৃষ্টিতে হয়ে উঠেছে একটি পরিপূর্ণ মুক্তিযুদ্ধের সিনেমা। এখন শুধুই অপেক্ষা সিনেমাটি সবার সামনে তুলে ধরা। আমি বোঝাতে পারব না কেমন করে বিজয়ের মাস পর্যন্ত আমার সময় কাটবে।’
সিনেমাটিতে আরও যারা অভিনয় করেছেন, তারা হলেন ইন্তেখাব দিনার, জাকিয়া বারী মম, ইমতিয়াজ বর্ষণ, সাইফ খান, নাফিজ আহমেদ, খালিদ মাহবুব তূর্য প্রমুখ।