ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Amar Sangbad

ইনস্টাগ্রাম

Amar Sangbad

এক্স

Amar Sangbad


লিংকডইন

Amar Sangbad

পিন্টারেস্ট

Amar Sangbad

গুগল নিউজ

Amar Sangbad


হোয়াটস অ্যাপ

Amar Sangbad

টেলিগ্রাম

Amar Sangbad

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Amar Sangbad


ফিড

Amar Sangbad

ঢাকা শনিবার, ১৮ জুলাই, ২০২৬

নতুন পাম্প বসাতে ধীরগতি

মো. মাসুম বিল্লাহ

সেপ্টেম্বর ২৬, ২০২২, ০১:১৯ এএম

নতুন পাম্প বসাতে ধীরগতি

নগরবাসীর পানির সমস্যা সমাধানে পাম্পগুলো রিপেয়ারিংয়ের পাশাপাশি আগের স্থানগুলোতে নতুন করে গভীর পাম্প বসানোর কাজ করছে ঢাকা ওয়াসা। বর্তমানে ঢাকা ওয়াসার আট শতাধিক পাম্প রয়েছে। এগুলোর মধ্যে ১০০টির বেশি পাম্পে বোরিং (গভীর) করানোর কাজ করছে সংস্থাটি।

রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় পানির সংকট সৃষ্টি হওয়ার পর গত জুলাইয়ের শেষের দিকে নতুন করে পাম্প বসানোর কাজ শুরু হলেও তা ধীরগতিতে চলছে। যার কারণে বিভিন্ন এলাকায় এখনো পানি সংকট রয়ে গেছে। নতুন করে পাম্প বসানোর অংশ হিসেবে গুলশান লেক পাড়েও প্রায় দুই মাস ধরে নতুন পাম্প বাসানোর কাজ চলছে।

গতকাল রোববার পাম্প বসানোর স্থানটি সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, সাত-আটজন শ্রমিক, টেকনিশিয়ান পাম্পটি গভীরতম করার কাজে নিয়োজিত আছেন। বিভিন্ন আকৃতির পাইপ মেশিনের সাহায্যে পাম্পের গভীরে নিয়ে যাওয়ার কাজ করছেন তারা।

এছাড়া, বোরিং করানোর জন্য বিভিন্ন মেশিন এখানে রাখা আছে। তবে, দীর্ঘদিন ধরে কাজ চলমান থাকায় এই এলাকার কিছু কিছু স্থানে পানির সংকট রয়ে গেছে।

যদিও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বলছে, পাম্পটি গভীরতম করার কাজ শেষ হলে এই এলাকাসহ আশপাশের এলাকায় আর পানির সংকট থাকবে না।

সেখানে দায়িত্বরত ঢাকা ওয়াসার মডস জোনের রিপেয়ারিং সেকশনের কর্মকর্তা হাবিবুর রহমান বলেন, অনেক গভীরে পাইপ দিয়ে পাম্পটি রেডি করা হচ্ছে। এর কাজ শেষ হতে প্রায় ৯০ দিন অর্থাৎ তিন মাস সময় লাগে। এর মধ্যে প্রায় দুই মাসের বেশি সময় অতিবাহিত হয়েছে। আমরা প্রতিদিন সাত-আটজন শ্রমিক নিয়ে কাজ করছি।

তিনি বলেন, আমরা কাজে বিলম্ব করছি, আসলে বিষয়টি তা নয়। কাজটি অনেক সময়ের এবং পরিশ্রমের। তাই কাজের ধীরগতি, এ কথা বলা যাবে না। আমরা সবাই মিলে দ্রুত এবং মানসম্পন্নভাবে কাজটি করার চেষ্টা করছি।

এই কাজে অংশ নেয়া নির্মাণশ্রমিক বদিউল আলম বলেন, প্রথমে পাম্পটির পুরাতন পাইপগুলো মাটির গভীর থেকে তুলতে হয়েছে। এরপর মেশিনের সাহায্যে নতুন পাইপগুলো আরও গভীরে ঢুকিয়ে বোরিং করার কাজ করেছি।

এই পাম্প সংলগ্ন একটি বাড়ির মালিক সাজেদুর রহমান বলেন, দুই মাস পেরিয়ে গেলেও এখনো কাজের শেষের দিকে আসতে পারেনি ওয়াসা। এতদিন ধরে পাম্প বন্ধ থাকায় আশপাশের অন্য পাম্পে চাপ পড়েছে। যার কারণে এই এলাকার কিছু স্থানে এখনো পানির সংকট রয়ে গেছে। তাদের কাজ আসলে ধীর গতিতে চলছে।

জানা গেছে, ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় গভীর নলকূপ স্থাপন-প্রতিস্থাপনের লক্ষ্যে কাজ করছে ওয়াসা। এছাড়া, বেশ কিছু নতুন পাম্প বসাতে চায় সংস্থাটি। কিন্তু এর জন্য জায়গা খুঁজে পাচ্ছে না তারা।

ঢাকা ওয়াসা সূত্রে জানা গেছে, ওয়াসার দৈনিক পানির চাহিদা ২৬৫ কোটি লিটার। এর ৬৪ শতাংশ আসে ভূ-গর্ভের পানি থেকে। বর্তমানে পানির স্তর বেশি নিচে চলে যাওয়ায় প্রায় এক হাজার ফুট নিচ থেকে পানি তুলতে হচ্ছে ঢাকা ওয়াসাকে। অন্যদিকে গন্ধবপুর পানি শোধনাগার চালু হলে ভূ-গর্ভের পানিরও ওপর নির্ভরতা প্রায় ৩০ শতাংশ কমে আসবে বলে দাবি করেছে সংস্থাটি।

এদিকে রাজধানীর শনির আখড়া, যাত্রাবাড়ী, সায়েদাবাদ, শ্যাওড়াপাড়া, ৬০ ফিট, কাজীপাড়া, মিরপুর-১৩, মোহাম্মদপুর, বাড্ডা, গুলশান, তেঁজগাওসহ বিভিন্ন এলাকায় পুরাতন পাম্পের স্থানের নতুন পাম্প বসানোর কাজ করছে ঢাকা ওয়াসা। মূলত যেসব এলাকায় পানির সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে, সেখানে পাম্পগুলো গভীর করার পাশাপাশি সংস্কারের কাজ করা হচ্ছে।

শনির আখড়া এলাকার বাসিন্দা জাকির হোসেন বলেন, দীর্ঘদিন ধরে আমাদের এলাকায় পানির সংকট চলছে। বারবার অভিযোগ জানানোর পর ওয়াসা তাদের পাম্প সংস্কারেরকাজ শুরু করেছে। এই সংস্কারকাজ দীর্ঘদিন ধরেই চলছে। তাদের কাজ যেন শেষই হচ্ছে। ধীরগতিতে কাজ চলমান থাকায় পানির সংকট এই এলাকায় লেগেই আছে।

মিরপুরে নতুন পাম্প এবং পুরাতন পাম্প সংস্কারের বিষয়ে মডস জোনের পাম্প অপারেটর আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, এগুলো টেকনিক্যাল কাজ। তাই শেষ হতে সময়ের প্রয়োজন। এ কাজগুলো মান ঠিক রেখে যত্নসহকারে করা হচ্ছে। আশা করা যাচ্ছে পাম্প সংস্কার এবং নতুন পাম্প বসানোর কাজ শেষ হলে পানি সংকটের এই দীর্ঘদিনের সমস্যা দূর হবে।

এদিকে পাম্প বসানোর জন্য নতুন জায়গা নির্ধারণ করা হয়েছে মধ্য বাড্ডা এলাকায়। মডস জোন থেকে এই জায়গা নির্ধারণ করা হলেও কাজ শুরু করতে পারেনি ঢাকা ওয়াসা।

নির্ধারিত এই স্থানে ওয়াসার মডস জোনের আওতাধীন রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে থাকা আব্দুল মালেক মিয়া বলেন, ঢাকা ওয়াসার পক্ষ থেকে বিভিন্ন এলাকায় নতুন করে পাম্প বসানোর জন্য জায়গা খোঁজা হচ্ছে। এ জন্য ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের বিভিন্ন এলাকার কাউন্সিলরদের জানানো হয়েছে। তারা জায়গা নির্ধারণ করে দিলে একযোগে পাম্প বসানোর কাজ শুরু হবে। তাই ইতোমধ্যে যেখানে স্থান পাওয়া গেছে, সে জায়গাগুলোতে কাজ শুরু করা হয়নি।

Link copied!