ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Amar Sangbad

ইনস্টাগ্রাম

Amar Sangbad

এক্স

Amar Sangbad


লিংকডইন

Amar Sangbad

পিন্টারেস্ট

Amar Sangbad

গুগল নিউজ

Amar Sangbad


হোয়াটস অ্যাপ

Amar Sangbad

টেলিগ্রাম

Amar Sangbad

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Amar Sangbad


ফিড

Amar Sangbad

ঢাকা শনিবার, ১৮ জুলাই, ২০২৬

স্বেচ্ছাচারী সিদ্ধান্তে বঞ্চিত মেধাবীরা

রেদওয়ানুল হক

জুন ১০, ২০২৩, ১১:৫৬ পিএম

স্বেচ্ছাচারী সিদ্ধান্তে বঞ্চিত মেধাবীরা

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পদোন্নতি নীতিমালা

  • সংবিধান ও উচ্চ আদালতকে অবজ্ঞার অভিযোগ
  • বিশেষ মহলের কারসাজিতে অন্ধকারে গভর্নর
  • চাপা ক্ষোভে কর্মপরিবেশ বিঘ্নের শঙ্কা

বসিএসে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েও যোগদান করেননি রাহবার (ছদ্মনাম)। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে স্নাতকোত্তর শেষ করা মেধাবী এ শিক্ষার্থী ব্যাংকিং ক্যারিয়ারকে গুরুত্ব দিয়ে যোগ দিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের সহকারী পরিচালক পদে। এক্ষেত্রে স্বল্প সময়ে পদোন্নতি সুবিধার কথা বিবেচনায় ছিল তার। কিন্তু যোগদানের একবছর পর কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নতুন নীতিমালায় ওলটপালট হয়ে গেছে রাহবারের জীবনের হিসাব। হতাশায় ব্যাংকিং ক্যারিয়ার ছেড়ে দেয়ার চিন্তা করছেন; তবে চাকরিতে প্রবেশের বয়স শেষ হওয়ায় সে পথও বন্ধ। 

সম্প্রতি নবম (সহকারী পরিচালক) ও দশম (কর্মকর্তা) গ্রেডে প্রবেশন কর্মকর্তাদের পরবর্তী পদোন্নতির জন্য প্যানেল ভুক্তির ক্ষেত্রে চাকরিকাল দুই বছরের পরিবর্তে পাঁচ বছর করা হয়েছে। এই নীতিমালাকে রীতিমত বৈষম্যমূলক এবং সংবিধান, উচ্চ আদালত ও বাংলাদেশ ব্যাংকের চাকরি বিধির সরাসরি লঙ্ঘন হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। এ নীতিমালার কারণে দশম ও নবম গ্রেডের প্রবেশন পদের কর্মকর্তারা পুরো চাকরি জীবনে সর্বোচ্চ যুগ্ম পরিচালক পদে আসীনের সুযোগ পাবেন। যা ভুক্তভোগীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও হতাশা সৃষ্টি করেছে বলে জানা গেছে।

কয়েকজন কর্মকর্তা জানান, প্রবেশন পদে নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের পরবর্তী পদে পদোন্নতির ক্ষেত্রে সাধারণত দুই থেকে আড়াই বছর লাগে। কম সময়ে পদোন্নতির সুযোগ বিবেচনায় বুয়েট ও আইবিএ’ও মতো স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠানের মেধাবীরা বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তা বা সহকারী পরিচালক যোগদান করেন। কিন্তু পদোন্নতির নতুন শর্তে তারা ক্ষুব্ধ ও হতাশ। এ অবস্থায় আগামীতে মেধাবীরা এ পেশায় মুখ ফিরিয়ে নেবেন বলে মনে  করছেন সংশ্লিষ্টরা। তারা বলছেন,  নতুন কোনো নীতিমালা যদি করতেই হয়; তাহলে তা ভবিষ্যতে নিয়োগপ্রাপ্তদের জন্য কার্যকর করা হোক। তখন জেনে বুঝেই তারা চাকরিতে আসবেন। সূত্র জানায়, নতুন নীতিমালায় কর্মকর্তা বা সমমান পদ থেকে সহকারী পরিচালক বা সমমান এবং সহকারী পরিচালক পদ থেকে উপপরিচালক বা সমমান পদে পদোন্নতির ক্ষেত্রে ন্যূনতম চাকরিকাল ধরা হয়েছে পাঁচ বছর। নতুন নীতিমালার আগে এসব কর্মকর্তার পরবর্তী পদে প্যানেলভুক্তির জন্য আড়াই বছর (দুই প্যানেল বা দুই এসিআর সমমান) লাগত। সেই সুবাদে ২০১৯ সালে সরাসরি নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মকর্তারাও আড়াই বছরে পরবর্তী পদে পদোন্নতি পেয়েছেন। সেই হিসাবে পরবর্তী ব্যাচের প্রবেশন কর্মকর্তাদের পদোন্নতি ২০২৩ সালের অক্টোবরের মধ্যে হওয়ার কথা থাকলেও নতুন নীতিমালার কারণে তাদের প্যানেল ভুক্তি হতেই তিন-চার বছর বিলম্ব হবে। বিষয়টি সংবিধান ও বাংলাদেশ ব্যাংকের চাকরি বিধিমালার সাথে সাংঘর্ষিক উল্লেখ করে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা আমার সংবাদকে বলেন, সংবিধানের ২৯(১) ধারা অনুযায়ী, প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিয়োগ বা পদ লাভের ক্ষেত্রে সুযোগের সমতা থাকবে। অথচ একটি প্রবেশন পদ (১০ গ্রেড) থেকে আরেকটি প্রবেশন পদে (৯ম গ্রেড) পদোন্নতিতে ন্যূনতম চাকরিকাল পাঁচ বছর নির্ধারণ সংবিধান পরিপন্থি। আবার ‘ব্যাংক ফর ইন্টারন্যাশনাল সেটেলমেন্টস’ মানদণ্ড অনুযায়ী কেন্দ্রীয় ব্যাংকারদের সাথে কোনো বৈষম্য করা যাবে না। একইভাবে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পদোন্নতি নীতিমালার ১৭নং বিধিতে বলা হয়েছে, পদোন্নতির যোগ্য কর্মকর্তা পাওয়া না গেলে এবং শূন্যপদ পূরণ আবশ্যক হলে ফিডার পদের কর্মকর্তাকে ন্যূনতম তিন বছর চাকরি করা সাপেক্ষে চলতি দায়িত্ব দেয়া যাবে। আর সহকারী পরিচালক পদে সরাসরি নিয়োগ ও পদোন্নতির কোটা ১ অনুপাত ১ অনুসরণ করেই শূন্যপদ পূরণ করতে হবে। কিন্তু সহকারী পরিচালক পদে পদোন্নতির জন্য কর্মকর্তা পদে ন্যূনতম চাকরিকাল পাঁচ বছর নির্ধারণ করায় ৭০০টিরও বেশি সহকারী পরিচালক পদ দীর্ঘকাল শূন্য থাকবে। 

জানা গেছে, বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালক পর্ষদের ৪২৫তম সভায় নবম বা তদূর্ধ্ব গ্রেডভুক্ত পদে পদোন্নতির নীতিমালায় সব নিয়মকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে সংশ্লিষ্ট ডেপুটি গভর্নর কাজী সাইদুর রহমান নতুন নীতিমালা প্রকাশে একচ্ছত্র প্রভাব খাটিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ক্ষেত্রে গভর্নরকেও অন্ধকারে রাখা হয়েছে বলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন। তবে চেষ্টা করেও এ বিষয়ে সাইদুর রহমানের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অন্যদিকে সুপ্রিম কোর্টের রায় অনুযায়ী, কোনো কর্মচারী সাধারণত যেই আইনে নিয়োগ পান তিনি সেই বিধি মোতাবেক পদোন্নতি পাবেন। কিন্তু নতুন পদোন্নতি নীতিমালায় আপিল বিভাগের রায়কে অবজ্ঞা করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। উদাহরণ স্বরূপ, চলতি বছরের এপ্রিলে মহাহিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক (সিএজিএ) কর্তৃপক্ষ ‘নন-গেজেটেড এমপ্লয়িজ রিক্রটমেন্ট রুলস-১৯৮৩ বাতিল করে ২০২৩ সালের একটি নিয়োগ বিধিমালা জারি করলেও আপিল বিভাগের রায় মেনে আগের আইনে নিয়োগপ্রাপ্তাদের পদোন্নতিতে পূর্বের নিয়ম চালু রেখেছে। এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক মো. আবুল বশর বলেন, ‘নিয়ম মেনেই নীতিমালা করা হয়েছে। গভর্নরের নেতৃত্বে সবদিক বিবেচনায় নিয়ে করা হয়েছে।’

উল্লেখ্য, ১৯৯৯ সালের কর্মকর্তা ব্যাচে যোগদানকালীন অভ্যন্তরীণ পদোন্নতি ও সরাসরি নিয়োগের অনুপাত ছিল ৩ অনুপাত ১। কিন্তু ২০০১ সালে বিশেষ মহলের প্রভাবে ১ অনুপাত ১ করা হয়। এতে সহকারী পরিচালক পদে পদোন্নতি পেতে তাদের ৮ থেকে ৯ বছর লেগে যায়। ফলে বর্তমানে অফিসার ৯৯ ব্যাচ যুগ্মপরিচালক (পঞ্চম গ্রেড) পদে থাকলেও একই বছরের সহকারী পরিচালক ব্যাচ পরিচালক (তৃতীয় গ্রেড) হয়েছেন। বর্তমানে ১৯৯৯ সালের অফিসার ব্যাচ এবং তাদের ১৫ বছর পর ২০১৪ সালে নবম গ্রেডে যোগদান করা সহকারী পরিচালক ব্যাচ একই পদে (যুগ্ম পরিচালক) রয়েছেন। একইভাবে, ২০১৭ সালের অফিসার ব্যাচ ২০১৯ সালে পদোন্নতি পেলেও একই বছরে নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত সহকারী পরিচালক ব্যাচকে জ্যেষ্ঠতা প্রদানের জন্য পুলিশি তদন্ত ছাড়াই তড়িঘড়ি যোগদান করানো হয়। যা জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ২০১৪ সালের ‘জ্যেষ্ঠতা নির্ধারণ’ ধারার পরিপন্থী। এদিকে দেড় বছর আগে প্রকাশিত অফিসার নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিটি কুক্ষিগত করে নতুন করে তিনটি সহকারী পরিচালক নিয়োগ প্রক্রিয়া চলমান রাখা হয়েছে। ফলে চাকরিতে যোগদানের আগে ও পরে নতুন অফিসার ব্যাচের সামনে কমপক্ষে আটটি সহকারী পরিচালক ব্যাচ চাপিয়ে দেয়া হচ্ছে। আবার ২০১৮ সালের সহকারী পরিচালক ব্যাচকে দ্রুত যোগদান করানোর জন্য একই বছরের ক্যাশ অফিসার ব্যাচকে প্যানেল ইয়ারের ১১ দিন পর যোগদান করানো হয়। ফলে ক্যাশ অফিসার ব্যাচটির পদোন্নতি এক বছর পিছিয়ে যায়।
 

Link copied!