ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Amar Sangbad

ইনস্টাগ্রাম

Amar Sangbad

এক্স

Amar Sangbad


লিংকডইন

Amar Sangbad

পিন্টারেস্ট

Amar Sangbad

গুগল নিউজ

Amar Sangbad


হোয়াটস অ্যাপ

Amar Sangbad

টেলিগ্রাম

Amar Sangbad

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Amar Sangbad


ফিড

Amar Sangbad

ঢাকা শনিবার, ১৮ জুলাই, ২০২৬
জাতীয় জ্বালানি নিরাপত্তা দিবস আজ

নিরাপদ ও নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি উন্নয়নের প্রধান হাতিয়ার

মহিউদ্দিন রাব্বানি

আগস্ট ৯, ২০২৩, ০২:৩৭ পিএম

নিরাপদ ও নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি উন্নয়নের প্রধান হাতিয়ার

এলএনজি জ্বালানি খাতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। পাশাপাশি গ্যাস অনুসন্ধান কাজ জোরদার করছে 
—ড. তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী
প্রধানমন্ত্রীর জ্বালানি-বিষয়ক উপদেষ্টা

জ্বালানি নিরাপত্তায় আমদানির পাশাপাশি নিজস্ব গ্যাস অনুসন্ধান ও উত্তোলনে নজর দিতে হবে 
—ম তামিম, জ্বালানি বিশেষজ্ঞ

দেশের সার্বিক উন্নয়নে জ্বালানি খাত অন্যতম চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করে। যেকোনো দেশের টেকসই উন্নয়নে জ্বালানি খাতকে অগ্রাধিকার দিতে হয়। পাশাপাশি জ্বালানি খাতের সার্বিক উৎপাদন ও ব্যবস্থাপনা থেকে দেশটির অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি বিষয়ে ধারণা পাওয়া যায়। জ্বালানির পর্যাপ্ত জোগান না থাকলে শিল্পের চাকা থেমে যায়। স্থবির হয়ে পড়ে উন্নয়নযাত্রা। আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত নীতি অনুযায়ী আমাদের মতো অর্থনীতিতে ১ শতাংশ জিডিপি বৃদ্ধির জন্য ১.৮ থেকে ২ শতাংশ জ্বালানির ব্যবহার বৃদ্ধি প্রয়োজন হয়। 

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু কর্তৃক গৃহীত কিছু যুগান্তকারী পদক্ষেপ ও তার সরকার প্রণীত বিদ্যুৎ এবং জ্বালানি-বিষয়ক কিছু সাংবিধানিক বিধান, আইন ও নীতিমালা এ দেশের জ্বালানি নিরাপত্তার মূল স্তম্ভ হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে। এক কথায় বঙ্গবন্ধুই বিদ্যুৎ-জ্বালানি নিরাপত্তার গোড়াপোত্তন করেন। বঙ্গবন্ধু সংবিধানের ১৪৩ অনুচ্ছেদে রাষ্ট্রের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে দেশীয় জ্বালানি ও খনিজসম্পদের ওপর রাষ্ট্রীয় মালিকানা প্রতিষ্ঠা করেন। এই আইনি অধিকারের ধারণাটি তৎকালীন সময়ে আন্তর্জাতিক আইনাঙ্গনে খুবই নতুন ছিল।ঔপনিবেশিক শক্তি ও বহুজাতিক কোম্পানিসমূহের অনুকূলে খনিজ ও জ্বালানিসম্পদের ওপর প্রদত্ত ইজারাভিত্তিক মালিকানা জাতীয় স্বার্থে বাতিল করে জারি করা বঙ্গবন্ধুর এই বিধান সমকালীন সময়ে পৃথিবীর খুব কম দেশই তাদের সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করতে পেরেছিল। বঙ্গবন্ধুর এই পদক্ষেপ ছিল তারই নেতৃত্বে বাঙালির মুক্তি সংগ্রামের ইতিহাসে একটি যুগান্তকারী মাইলফলক অর্জন।

১৯৭৫ সালের আজকের এই দিনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বহুজাতিক কোম্পানি শেল অয়েলের কাছ থেকে তিতাস, রশিদপুর, হবিগঞ্জ, বাখরাবাদ ও কৈলাসটিলা গ্যাসক্ষেত্র কিনে রাষ্ট্রীয় মালিকানা প্রতিষ্ঠা করেন। স্বাধীনতা-পরবর্তী সময়ে জ্বালানি খাতে এই সিদ্ধান্তকে দূরদর্শী পরিকল্পনা হিসেবে বিবেচনা করা হয়। যার মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছিল মাত্র ৪.৫ মিলিয়ন পাউন্ড। যার ওপর ভিত্তি করেই এখন দাঁড়িয়ে আছে বাংলাদেশের জ্বালানি খাত। পরবর্তীকালে এই গ্যাসক্ষেত্রগুলো জাতীয় জ্বালানি নিরাপত্তার বড় নির্ভরস্থল হয়ে ওঠে।  বর্তমান সরকার ২০০৯ সালে দায়িত্ব নেয়ার পর ২০১০ সালের ১২ আগস্ট এক পরিপত্রে ৯ আগস্টকে জাতীয় জ্বালানি নিরাপত্তা দিবস ঘোষণা করে। এরপর থেকে প্রতি বছর এই দিন সরকার জাতীয় জ্বালানি নিরাপত্তা দিবস হিসেবে পালন করে আসছে। প্রতি বছরের মতো এবারও জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগ দেশবাসীকে জ্বালানি ব্যবহারে সাশ্রয়ী হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মোঃ সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক পৃথক বাণী দিয়েছেন।

রাষ্ট্রপতি তার বাণীতে বিদ্যুৎ, জ্বালানি তেল ও গ্যাসের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে বলেছেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, সরকার অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির নিয়ামক হিসেবে জ্বালানিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে। দিবসটি উদযাপন উপলক্ষে সকাল সাড়ে ৯টায় ভার্চুয়ালি এক আলোচনা সভা শুরু হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে সংযুক্ত থাকবেন প্রধানমন্ত্রীর বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ-বিষয়ক উপদেষ্টা তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী, বীর বিক্রম। এদিকে গ্যাসক্ষেত্রগুলো সহজে দিতে চায়নি বহুজাতিক কোম্পানি শেল, বলা চলে বঙ্গবন্ধু তাদের বাধ্য করেছিলেন। সেদিনের সেই ঘটনার সাক্ষী বঙ্গবন্ধুর তৎকালীন একান্ত সচিব ড. ফরাসউদ্দিন এমন তথ্য জানিয়েছেন। তিনি জানান, বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন, দেখো তোমরা যদি বিক্রি না করো তাহলে নতুন আইনে আমরা অধিগ্রহণ করতে বাধ্য হবো। ইরানে তখন অধিগ্রহণের ঘটনা ঘটেছিল।

ওই ঘটনাকে বলা হয় বাংলাদেশের জ্বালানি খাতের টার্নিং পয়েন্ট। যে ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে এখন সাশ্রয়ী মূল্যে জ্বালানি দিতে সক্ষম হচ্ছে জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগ। বঙ্গবন্ধু নির্মম হত্যাকাণ্ডের শিকার হওয়ার মাত্র ছয় দিন আগে এই চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। ওই পাঁচটি গ্যাস ফিল্ডে তখন মজুত ছিল ২০.৭৯ ট্রিলিয়ন ঘনফুট। সর্বশেষ প্রাক্কলন অনুযায়ী ওই পাঁচটি গ্যাসক্ষেত্রের উত্তোলনযোগ্য গ্যাস মজুতের পরিমাণ ছিল ১৫.৪৪ ট্রিলিয়ন ঘনফুট, গ্যাসক্ষেত্রগুলো থেকে উত্তোলিত গ্যাসের গড় বিক্রয় মূল্য দাঁড়িয়েছে প্রায় চার লাখ ২৪ হাজার ৯৬ কোটি টাকা। ৪৬ বছর গ্যাস সরবরাহের পরও বর্তমানে ওই পাঁচটি গ্যাসক্ষেত্রে ৫.৫৬ ট্রিলিয়ন ঘনফুট অর্থাৎ প্রায় এক লাখ ৫২ হাজার ৭১৮ কোটি টাকা মূল্যের গ্যাস অবশিষ্ট রয়েছে।

এদিকে ভবিষ্যৎ জ্বালানি নিরাপত্তায় তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসকে (এলএনজি) গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার। কাতার ও ওমানের সঙ্গে চুক্তির পর স্থায়ী এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণে জোর দেয়া হচ্ছে। এ ছাড়া দেয়া হয়েছে ভাসমান টার্মিনাল নির্মাণের নতুন কাজ। শতভাগ জ্বালানি আমদানির দিকে ঝুঁকেছে দেশ। জ্বালানি খাতে সরকারের নীতি এবং গবেষণা প্রতিষ্ঠান হাইড্রোকার্বন ইউনিট দেশের প্রধান জ্বালানি গ্যাসের চাহিদা এবং সরবরাহের প্রক্ষেপণে এমন চিত্রই তুলে ধরেছে। যদিও সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে। এতে ভবিষ্যতে কোনো সংকট সৃষ্টি হবে না। হাইড্রোকার্বন ইউনিট বলছে, ২০৩০ সালে দেশে দৈনিক গ্যাসের চাহিদা বেড়ে হবে চার হাজার ৬২২ মিলিয়ন ঘনফুট। নতুন গ্যাস ক্ষেত্র আবিষ্কার না হলে একই সময়ের মধ্যে আবার দেশীয় গ্যাসের উৎপাদন কমে শূন্যের কোঠায় নেমে আসতে পারে— যা শঙ্কার বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। হাইড্রোকার্বন ইউনিট এক প্রতিবেদনে বলছে, এখন দেশের অবশিষ্ট গ্যাসের মজুত রয়েছে ৯.৭৬ ট্রিলিয়ন ঘনফুট (টিসিএফ)। প্রতি মাসে গড়ে ০.০৭ সিটিএফ গ্যাস তোলা হচ্ছে। অর্থাৎ দেশীয় গ্যাসের মজুতে আর ১৩৯ মাস বা ১১ বছর চলবে। কিন্তু খনির গ্যাসের মজুত শেষ হয়ে এলে সেখান থেকে গ্যাসের উৎপাদন কমে আসে। হাইড্রোকার্বন ইউনিট অপর এক প্রতিবেদনে বলছে, ২০২৩ সালে দেশে গড়ে দৈনিক গ্যাসের চাহিদা রয়েছে চার হাজার ৪৮ মিলিয়ন ঘনফুট। তবে এখন সরবরাহ রয়েছে দৈনিক দুই হাজার ৯০০ মিলিয়ন ঘনফুট। অর্থাৎ ঘাটতি রয়েছে এক হাজার ১০০ মিলিয়ন। এই চাহিদা ক্রমান্বয়ে আরও বৃদ্ধি পেয়ে ২০৩০ নাগাদ দাঁড়াবে দৈনিক চার হাজার ৬২২ মিলিয়ন ঘনফুট।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ও বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) কেমিক্যাল অ্যান্ড ম্যাটেরিয়াল ইঞ্জিনিয়ারিং অনুষদের সাবেক ডিন প্রফেসর ড. ম. তামিম মনে করেন, বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রাথমিক জ্বালানি আমদানির অর্থ জোগান দিতে যে আমরা বিপদে পড়তে পারি, সেই আশঙ্কা আগেই ছিল। বিদ্যুৎ খাত নিয়ে আমাদের যে পরিকল্পনা, তাতে আমার হিসাব অনুযায়ী ২০৩০ সাল নাগাদ ৯০ শতাংশই আমদানি করা জ্বালানির ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার কথা। বুয়েটের এই অধ্যাপক আমার সংবাদকে জানান, আমাদের উচিত ছিল আমদানির পাশাপাশি নিজস্ব গ্যাস অনুসন্ধান ও উত্তোলন বাড়ানোর দিকে নজর দেয়া। ২০১৮ সালে আমরা এলএনজি আমদানি শুরু করেছি। তখন বলা হয়েছে, আমাদের নিজস্ব উৎপাদনে সময় লাগবে। এই যুক্তি দিয়ে আমরা সমান্তরালভাবে নিজেদের গ্যাস অনুসন্ধানের দিকে নজর না দিয়ে পুরোপুরি আমদানিনির্ভরতার দিকে ঝুঁকেছি।

এদিকে প্রধানমন্ত্রীর জ্বালানি-বিষয়ক উপদেষ্টা ড. তৌফিক ই ইলাহী চৌধুরী এক বক্তৃতায় বলেন, বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এলএনজি গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। পাশাপাশি বাংলাদেশ গ্যাস অনুসন্ধান কাজ জোরদার করেছে। গভীর সমুদ্রে অনুসন্ধানের জন্য পিএসসিকে হালনাগাদ করা হচ্ছে।

 

Link copied!