ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Amar Sangbad

ইনস্টাগ্রাম

Amar Sangbad

এক্স

Amar Sangbad


লিংকডইন

Amar Sangbad

পিন্টারেস্ট

Amar Sangbad

গুগল নিউজ

Amar Sangbad


হোয়াটস অ্যাপ

Amar Sangbad

টেলিগ্রাম

Amar Sangbad

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Amar Sangbad


ফিড

Amar Sangbad

ঢাকা শনিবার, ১৮ জুলাই, ২০২৬
সরকারিভাবে ২৯ পণ্যের মূল্য নির্ধারণের সপ্তাহ পার

২১ পণ্য বিক্রি হচ্ছে ইচ্ছামাফিক

মো. ইমরান খান

মো. ইমরান খান

মার্চ ২২, ২০২৪, ১০:৩৮ পিএম

২১ পণ্য বিক্রি হচ্ছে ইচ্ছামাফিক
  • সোনালি মুরগি কেজিতে ৪৮ টাকা বেশি 
  • গরুর গোশত বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি ৮৬ টাকা বেশিতে
  • খেসারি ডাল এখনো কেজিপ্রতি ৪৭ টাকা বেশি দরে বিক্রি হচ্ছে

চাইলেই হঠাৎ করে মূল্য নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয় 
—জাহিদুল ইসলাম, সিনিয়র কৃষি বিপণন কর্মকর্তা, কৃষি বিপণন অধিদপ্তর

নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখতে মাছ গোশত ডিম ডাল ও সবজির মতো ২৯টি পণ্যের দাম নির্ধারণ করে দিয়েছিল সরকার। গত ১৫ মার্চ সরকারের কৃষি মন্ত্রণালয়ের কৃষি বিপণন অধিদপ্তর এই ২৯ পণ্যের মূল্য নির্ধারণের পর এক সপ্তাহ পার হয়েছে; কিন্তু সেই ২৯ পণ্যের অধিকাংশই বিক্রি হচ্ছে বিক্রেতাদের নির্ধারিত মূল্যে। তারা সরকারি সিদ্ধান্তকে বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শন করে ক্রেতাদের পকেট কাটছে। 

কিন্তু সরকারের সংশ্লিষ্ট অধিদপ্তর অনেকটা চোখ বন্ধ করে থাকার মতো অবস্থায় রয়েছে। বেঁধে দেয়া মূল্যে বাজারে পণ্য বিক্রিতে বিক্রেতাদের বাধ্য করতে এবং যারা নির্ধারণ হওয়া মূল্যে বিক্রি করছেন না, তাদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিচ্ছে না। ফলে এক সপ্তাহ পরও বিক্রেতারা সরকারি সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে নিজেদের সিদ্ধান্তেই পণ্য বিক্রি করছে। দৈনিক আমার সংবাদের পক্ষ থেকে গতকাল রাজধানীর বিভিন্ন মার্কেট ঘুরে দেখা গেছে, মাত্র আটটি পণ্য বিক্রি হচ্ছে সরকার কর্তৃক নির্ধারিত মূল্যে, আর বাকি ২১টিই বিক্রি হচ্ছে দোকানিদের ইচ্ছামাফিক। 

কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের বেঁধে দেয়া মূল্যতালিকায় দেখা যায় প্রতি কেজি ছোলা খুচরা পর্যায়ে ৯৮.৩০ টাকা নির্ধারণ করা হলেও তা বাজারে এখনও বিক্রি হচ্ছে ১১০ টাকায়, অর্থাৎ ছোলায় কেজি প্রতি ১১ টাকা ৭০ পয়সা বেশি নেয়া হচ্ছে ক্রেতাদের কাছ থেকে। মসুর ডালের নির্ধারিত মূল্য (চিকন) ১৩০.৫০ হলেও বিক্রি হচ্ছে ১৪০ টাকায়, এখানে বেশি নেয়া হচ্ছে সাড়ে ৯ টাকা। একইভাবে মসুর ডাল (মোটা) সরকারের বেঁধে দেয়া দাম ১০৫.৫০ টাকা, অথচ তা বিক্রি হচ্ছে ১২০ টাকায়। খেসারি ডাল নির্ধারিত মূল্য ৯২.৬১ টাকা হলেও বিক্রি হচ্ছে ১৪০ টাকায়, অর্থাৎ খেসারি ডাল কেজিতে ৪৭ টাকা ৩৯ পয়সা বেশিতে বিক্রি হচ্ছে। গরুর গোশত নির্ধারিত মূল্য প্রতি কেজি ৬৬৪.৩৯ টাকা হলেও বিক্রি হচ্ছে ৭২০ থেকে ৭৫০ টাকায়, ব্রয়লার মুরগির নির্ধারিত মূল্য ১৭৫.৩০ টাকার স্থলে তা বিক্রি হচ্ছে ২১০ থেকে ২২০ টাকায়, সোনালি মুরগির নির্ধারিত মূল্য ২৬২ টাকা হলেও বিক্রি হচ্ছে ৩১০ থেকে ৩২০ টাকায়, অর্থাৎ কেজিপ্রতি ৪৮ থেকে ৫৫ টাকা বেশিতে বিক্রি হচ্ছে এ জাতের মুরগি। 

ডিম প্রতি পিস নির্ধারিত মূল্য ১০.৪৮ হলেও বিক্রি হচ্ছে ১২ টাকায়। দেশি রসুন প্রতি কেজির নির্ধারিত মূল্য ১২০.৮১ টাকার স্থলে বিক্রি হচ্ছে ১৩০ টাকা, আমদানিকৃত আদা প্রতি কেজির নির্ধারিত মূল্য ১৮০ টাকা হলেও  বিক্রি হচ্ছে ২০০ টাকায়, শুকনো মরিচ প্রতি কেজি নির্ধারিত মূল্য ৩২৭.৩৪ টাকার স্থলে বিক্রি হচ্ছে ৪০০ টাকায়। কাঁচামরিচ নির্ধারিত মূল্য প্রতি কেজি ৬০.২০ টাকা হলেও বিক্রি হচ্ছে ৮০ টাকায়, বাঁধা কপির নির্ধারিত মূল্য প্রতি কেজি ২৮.৩০ টাকা হলেও বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৪৫ টাকায়, আলুর নির্ধারিত মূল্য প্রতি কেজি ২৮.৫৫ টাকা হলেও বিক্রি হচ্ছে ৫৫ টাকায়। টমেটো প্রতি কেজি নির্ধারিত মূল্য ৪০.২০ টাকা হলেও বিক্রি হচ্ছে ৫০ টাকায়। মিষ্টিকুমড়া প্রতি কেজি নির্ধারিত মূল্য ২৩.৩৮ টাকা হলেও বিক্রি হচ্ছে ৪০ টাকায়, জাহিদী খেজুর প্রতি কেজির নির্ধারিত মূল্য ১৮৫.০৭ টাকার স্থলে বিক্রি হচ্ছে ২২০ টাকায়, অর্থাৎ এ জাতের খেজুর কেজি প্রতি প্রায় ৩৫ টাকা বেশি মূল্যে বিক্রি হচ্ছে। কলা প্রতি হালি নির্ধারিত মূল্য ২৯.৭৮ টাকার স্থলে বিক্রি হচ্ছে ৪০ টাকায়। 

তবে আশার খবর হচ্ছে মুগ ডাল, পাঙ্গাস মাছ, কাতল মাছ, ছাগলের গোশত, পেঁয়াজ, বেগুন, চিড়া ও বেসন বিক্রি হচ্ছে সরকার নির্ধারিত দামে।

কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের সিনিয়র কৃষি বিপণন কর্মকর্তা জাহিদুল ইসলাম দৈনিক আমার সংবাদকে জানান, ‘আমদের দেশের অসাধু ব্যবসায়ীরা বাকি ১১ মাসের ব্যবসা রমজান মাসে করে, চাইলেই হঠাৎ করে এদের নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। আমরা দাম বেঁধে দিয়েছি এবং নিয়মিত তা মনিটরিং করছি। ইতোমধ্যে অনেক পণ্য আমাদের বেঁধে দেয়া দামের আওতায় চলে এসেছে।’ তিনি আরও বলেন, বাজার নিয়ন্ত্রণ করার জন্য কৃষি বিপনণ অধিদপ্তর, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর এবং প্রশাসনের মধ্যে সমন্বয় প্রয়োজন।

প্রসঙ্গত, গত ১৫ মার্চ কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. মাসুদ করিমের সই করা এক প্রজ্ঞাপনে ২৯ পণ্যের মূল্য নির্ধারণ করে দেয় সরকার। ওই প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, কৃষি বিপণন আইন ২০১৮-এর ৪(ঝ) ধারার ক্ষমতাবলে কতিপয় নিত্যপ্রয়োজনীয় কৃষিপণ্যের যৌক্তিক মূল্য নির্ধারণ করা হলো। পরবর্তী নির্দেশনা না দেয়া পর্যন্ত নির্ধারিত দামে কৃষিপণ্য ক্রয়-বিক্রয়ের অনুরোধ করা হয় প্রজ্ঞাপনে।
 

Link copied!