ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Amar Sangbad

ইনস্টাগ্রাম

Amar Sangbad

এক্স

Amar Sangbad


লিংকডইন

Amar Sangbad

পিন্টারেস্ট

Amar Sangbad

গুগল নিউজ

Amar Sangbad


হোয়াটস অ্যাপ

Amar Sangbad

টেলিগ্রাম

Amar Sangbad

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Amar Sangbad


ফিড

Amar Sangbad

ঢাকা শনিবার, ১৮ জুলাই, ২০২৬

এক প্রকল্পেই ভারতনির্ভরতা শূন্যে

ইয়ামিনুল হাসান আলিফ

ইয়ামিনুল হাসান আলিফ

জুন ৬, ২০২৪, ১২:০৪ এএম

এক প্রকল্পেই ভারতনির্ভরতা শূন্যে
  • এক সময় ভারতীয় গরুতে সয়লাব হাটগুলোর দখল এখন দেশি গরুতে
  • ভারতের ওপর নির্ভরশীলতা কাটিয়ে এখন চাহিদার চেয়েও সরবরাহ বেশি
  • দেশের চাহিদা পূরণ করে বিদেশেও রপ্তানি হচ্ছে

এক দশক আগেও কোরবানিতে ভরসার অন্যতম জায়গা ছিল ভারত। কোরবানির জন্য কোটি পশু আনা হতো ভারত-মিয়ানমার থেকে। কিন্তু ২০১৪ সালে মোদি সরকার ক্ষমতায় আসার পর দেশে ভারতীয় গরু আসা বন্ধ করে দেয়। প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের কার্যকর পদক্ষেপে সেই সিদ্ধান্তই হয়েছে বাংলাদেশের জন্য আশীর্বাদ। বাংলাদেশ গবাদিপশুতে স্বয়ংসম্পূর্ণ হয়ে গরুর মাংস রপ্তানিও শুরু করেছে। দেশের বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান হিমায়িত গরুর মাংস দেশের বাইরে রপ্তানি করছে। সারাবছরই গরুসহ গবাদিপশুর চাহিদা থাকলেও বিক্রির সবচেয়ে লাভজনক বাজার বিবেচনা করা হয় ঈদুল আজহাকে। ২০২১ সালে ঈদুল আজহায় ৯০ লক্ষাধিক পশু কোরবানি হয়। ২০২২ সালে তা ৯৯ লাখ এবং ২০২৩ সালে তা এক কোটি ৪১ হাজারকেও ছাড়িয়ে যায়। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য জায়গায় ছিল গরু কোরবানির সংখ্যা। প্রতিবছর গড়ে প্রায় ৫০ লক্ষাধিক গরু কোরবানি হয়। গত কয়েক বছর ধরে ভারত থেকে কোনো গরু আমদানি করা না হলেও ঈদুল আজহাসহ সারা বছরের প্রয়োজন মিটিয়ে এসেছে দেশীয় গরু। প্রতিবছরই প্রয়োজনের অধিক সরবরাহ ছিল, নিয়মিত হচ্ছে রপ্তানিও। গরু-ছাগলের সংখ্যা আগের চেয়ে বেড়েছে, দেশ এখন গরু-ছাগলে প্রায় স্বয়ংসম্পূর্ণ। আর এই জায়গায় বড় ভূমিকা রেখেছে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর। কৃত্রিম প্রজনন কার্যক্রম সমপ্রসারণ ও ভ্রূণ স্থানান্তর প্রযুক্তি বাস্তবায়ন প্রকল্পের মাধ্যমে পশুর উৎপাদন ও উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি পাচ্ছে।

স্বাধীনতার পর ১৯৭৩ সালে ১২৭টি হলস্টাইন ফ্রিজিয়ান ষাঁড় আনার মাধ্যমে দেশে কৃত্রিম প্রজনন প্রযুক্তি প্রবর্তনের সূচনা হয়। ২০০২-০৩ সালে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর কর্তৃক বাস্তবায়িত ‘কৃত্রিম প্রজনন কার্যক্রম সমপ্রসারণ এবং ভ্রূণ স্থানান্তর প্রযুক্তি বাস্তবায়ন’ শীর্ষক প্রকল্পটি প্রথম ফেজ অনুমোদিত হয়। প্রথম ফেজের কর্মকাণ্ড সম্পাদনের পর পরবর্তীতে ২০০৯ সালে ওই প্রকল্পের দ্বিতীয় ফেস অনুমোদিত হয়। তৃতীয় পর্যায়ে এসে বর্তমানে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের অধিভুক্ত প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের অন্যতম সফল প্রকল্প হয়ে দাঁড়িয়েছে কৃত্রিম প্রজনন কার্যক্রম সমপ্রসারণ ও ভ্রূণ স্থানান্তর প্রযুক্তি বাস্তবায়ন প্রকল্প। এ প্রকল্প দেশের প্রাণিসম্পদ খাতকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে। দেশে এখন গরুসহ পশু উৎপাদন বাড়ার পাশাপাশি রপ্তানিও করা হচ্ছে। 

প্রকল্পের মাধ্যমে দেশীয় গরুর কৌলিক মান উন্নয়নের মাধ্যমে দুধ ও দুগ্ধজাত দ্রব্যের উৎপাদন বৃদ্ধি করা হচ্ছে। এসব কাজে নিয়োজিত থেকে দেশের জনসাধারণ আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ পাচ্ছে ও দারিদ্র্যদূরীকরণে সহযোগিতা পাচ্ছে। নারীরা প্রকল্পের অধীনে কাজ করে স্বাবলম্বী হওয়ার পাশাপাশি বাড়ছে নারীর ক্ষমতায়ন।

প্রকল্পের মাধ্যমে সারা দেশে আধুনিক কৃত্রিম প্রজনন কার্যক্রম সমপ্রসারণ ও সিমেন  উৎপাদন বৃদ্ধি করা হয়েছে। খামারিদের কষ্ট লাঘবে ডিজিটালাইজেশন আনা হয়েছে প্রকল্পে। ফোন করলেই পাওয়া যায় কৃত্রিম প্রজনন সেবা। কৃত্রিম প্রজননের ফলে গরুর উৎপাদন সহজতর ও দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে দেশের জনগণের দুধ ও মাংসের চাহিদা পূরণের পাশাপাশি বিদেশে রপ্তানি করেও অর্জন করা যাচ্ছে বৈদেশিক মূল্য। সিমেন উৎপন্নের জন্য রাজশাহী, সাভার, চট্টগ্রাম ও ফরিদপুরে চারটি ল্যাব তৈরি করা হয়েছে। দক্ষ প্রজনন কর্মী তৈরি করতে প্রশিক্ষণ কর্মশালার আয়োজন করে হাজার হাজার প্রজনন কর্মী তৈরি করা হয়েছে।  

এ বিষয়ে কৃত্রিম প্রজনন কার্যক্রম সমপ্রসারণ এবং ভ্রূণ স্থানান্তর প্রযুক্তি বাস্তবায়ন প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক ডা. মো. জসিম উদ্দিন দৈনিক আমার সংবাদকে বলেন, ‘চার হাজার ইউনিয়নে কৃত্রিম প্রজনন কর্মী তৈরি করা হয়েছে। সিমেন তৈরির জন্য দেশে চারটি ল্যাব তৈরি করা হয়েছে। এসব ল্যাব থেকে বছরে ৪৭ লাখ সিমেন উৎপন্ন করা হচ্ছে। সারা দেশের গরুকে প্রজনন করাতে সরকারি সংস্থা প্রয়োজনীয় ৬০ শতাংশ সিমেন উৎপন্ন করছে। জটিলতা কমাতে প্রয়োজনীয় ২১ কেন্দ্রে ২১টি গাড়ি সরবরাহ করা হয়েছে। ফলে ১০ বছরে মাংস ও দুধে স্বয়ংসম্পূর্ণ হতে পেরেছে দেশ। বিগত পাঁচ বছরে ভারত ছাড়াই প্রত্যেকটি কোরবানির হাটে ছিল আমাদের দেশীয় গরু। যা আমাদের প্রকল্পের অন্যতম বড় সফলতা বলে মনে করি।’
 

 

Link copied!