ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Amar Sangbad

ইনস্টাগ্রাম

Amar Sangbad

এক্স

Amar Sangbad


লিংকডইন

Amar Sangbad

পিন্টারেস্ট

Amar Sangbad

গুগল নিউজ

Amar Sangbad


হোয়াটস অ্যাপ

Amar Sangbad

টেলিগ্রাম

Amar Sangbad

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Amar Sangbad


ফিড

Amar Sangbad

ঢাকা শনিবার, ১৮ জুলাই, ২০২৬

ডায়েটিক্স ও পুষ্টি, রোগ প্রতিরোধে খাদ্যের ভূমিকা

রুহেল হাশেমী

রুহেল হাশেমী

ডিসেম্বর ১২, ২০২৫, ১০:১০ পিএম

ডায়েটিক্স ও পুষ্টি, রোগ প্রতিরোধে খাদ্যের ভূমিকা

মানবদেহের সুস্থতা নির্ভর করে সুষম খাদ্যাভ্যাস, পর্যাপ্ত পুষ্টি গ্রহণ এবং বৈজ্ঞানিক খাদ্য-পরিকল্পনার ওপর। আধুনিক যুগে জীবনযাত্রার পরিবর্তন, খাদ্যে ভেজাল, ফাস্টফুড নির্ভরতা এবং শারীরিক পরিশ্রমের ঘাটতির ফলে নানান অসংক্রামক রোগ বেড়েই চলেছে। 

খাদ্যবিজ্ঞান বা ডায়েটিক্স এবং পুষ্টির সঠিক প্রয়োগ এ রোগসমূহ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, হূদরোগ, কিডনি সমস্যা, স্থূলতা, অপুষ্টি, অ্যানিমিয়া, এগুলো সরাসরি খাদ্যাভ্যাসের সঙ্গে সম্পর্কিত।

এই নিবন্ধে খাদ্যবিজ্ঞান ও পুষ্টির ভূমিকা, প্রধান রোগসমূহের বিবরণ এবং করণীয় বিষয়ে পাঠকদের জন্য বাস্তবধর্মী নির্দেশনা তুলে ধরা হলো।

পুষ্টি ও খাদ্যবিজ্ঞান: একটি সংক্ষিপ্ত পরিচিতি

পুষ্টি (নিউট্রিশন) হলো খাদ্যের মাধ্যমে দেহের প্রয়োজনীয় উপাদান কার্বোহাইড্রেট, প্রোটিন, চর্বি, ভিটামিন, খনিজ, পানি সরবরাহের বিজ্ঞান। অন্যদিকে খাদ্যবিজ্ঞান (ডায়েটিক্স) হলো, রোগের ধরন, বয়স, পেশা, শারীরিক অবস্থা অনুযায়ী খাদ্য পরিকল্পনা ও পরামর্শের প্রয়োগমূলক বিজ্ঞান। একজন খাদ্য-বিশেষজ্ঞ বা ডায়েটিশিয়ান ব্যক্তি বিশেষের রোগ-পরিস্থিতি অনুযায়ী খাবারের মান, পরিমাণ, সময়, খাবারের প্রস্তুত প্রণালি পর্যন্ত নির্ধারণ করে দেন। পুষ্টিহীনতা যেমন রোগ সৃষ্টি করে, তেমনি অতিপুষ্টি বা ভুল খাদ্যাভ্যাসও রোগ বাড়ায়। সঠিক খাদ্যই হতে পারে শ্রেষ্ঠ চিকিৎসা, এই ধারণাই খাদ্যবিজ্ঞানকে আধুনিক স্বাস্থ্য ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ অংশে পরিণত করেছে।

সাধারণ রোগসমূহ: কারণ, বিবরণ ও পুষ্টি-ব্যবস্থাপনা

ডায়াবেটিস (ডায়াবেটিস মেলিটাস)

রোগের বিবরণ: ডায়াবেটিস একটি দীর্ঘস্থায়ী রোগ যেখানে দেহ ইনসুলিন তৈরি করতে পারে না অথবা সঠিকভাবে ব্যবহার করতে পারে না। ফলে রক্তে শর্করার মাত্রা বেড়ে যায়। অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিসে চোখ, কিডনি, হূদযন্ত্র, স্নায়ু ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

করণীয় ও পুষ্টি নির্দেশনা: চিনি, মিষ্টি, কোমল পানীয় (সফট ড্রিঙ্ক), বেকারি সামগ্রী এড়াতে হবে। চাল, আলু, রুটি পরিমিত পরিমাণে খেতে হবে। বার্লি, লাল চাল, ওটস, খাদ্যতালিকাগত আঁশযুক্ত (ডাইেটারি ফাইবারযুক্ত) খাবার বেশি গ্রহণ করা উচিত। প্রতিদিন কমপক্ষে ৩০-৪৫ মিনিট হাঁটা। দিনে পাঁচবার অল্প অল্প খাবার নেওয়া উপকারী। ওজন নিয়ন্ত্রণই ডায়াবেটিস ব্যবস্থাপনার মূল কৌশল।

উচ্চ রক্তচাপ (হাইপারটেনশন)

রোগের বিবরণ: উচ্চ রক্তচাপ নীরব ঘাতক হিসেবে পরিচিত। রক্তচাপ দীর্ঘদিন স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি থাকলে হূদরোগ, স্ট্রোক এবং কিডনি ক্ষতির ঝুঁকি বাড়ে।

করণীয় ও পুষ্টি নির্দেশনা: লবণ কমাতে হবে, প্রতিদিন সর্বোচ্চ ৫ গ্রাম। অতিরিক্ত তেল, ভাজাপোড়া, লাল মাংস কমাতে হবে। পটাশিয়াম সমৃদ্ধ খাবার যেমন, কলা, কমলা, পালংশাক, ডাল বেশি খেতে হবে। ধূমপান ও মদ্যপান পরিহার। মানসিক চাপ কমাতে মেডিটেশন ও হাঁটা জরুরি।

 ‍হৃদরোগ (কার্ডিওভাসকুলার ডিসিস)

রোগের বিবরণ: হৃদরোগ সাধারণত রক্তনালিতে চর্বি জমে সংকুচিত হওয়ার ফলে ঘটে। এর সঙ্গে উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস ও স্থূলতার যোগসূত্র গভীর।

করণীয় ও পুষ্টি নির্দেশনা: ট্রান্সফ্যাট, ডুবো তেলে ভাজা খাবার (ডিপ ফ্রাইড), ঘি, মাখনজাতীয় চর্বি (মার্জারিন) কমাতে হবে। মাছ, বাদাম, জলপাই তেল (অলিভ অয়েল), তিসি বীজ (ফ্লাক্সসিড), এসব স্বাস্থ্যকর চর্বি গ্রহণ করা উচিত। শাকসবজি, ফল, ডাল, সম্পূর্ণ শস্য বেশি করে খেতে হবে। সপ্তাহে অন্তত ১৫০ মিনিট ব্যায়াম।

স্থূলতা ও অতিরিক্ত ওজন

রোগের বিবরণ: স্থূলতা শুধু ওজন বৃদ্ধি নয়, এটি একটি রোগ যা ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ, জয়েন্টের ব্যথা এমনকি ক্যানসারের ঝুঁকিও বাড়ায়।

করণীয় ও পুষ্টি নির্দেশনা: অতিরিক্ত ক্যালোরি গ্রহণ কমানো। আঁশসমৃদ্ধ (ফাইবারসমৃদ্ধ) খাবার বাড়ানো। রাতে ভাত কমানো, খাবারের প্লেটে অর্ধেক সবজি রাখা। ফাস্টফুড, পিজা, বার্গার সম্পূর্ণ পরিহার করা জরুরি। পর্যাপ্ত পানি পান এবং নিয়মিত ব্যায়াম।

অপুষ্টি ও অ্যানিমিয়া

রোগের বিবরণ: অপুষ্টি শিশুদের মধ্যে বেশি দেখা যায়, তবে প্রাপ্তবয়স্কদেরও বিভিন্ন ভিটামিন ও খনিজের ঘাটতি হতে পারে। অ্যানিমিয়ার প্রধান কারণ আয়রনের ঘাটতি।

করণীয় ও পুষ্টি নির্দেশনা: শিশুদের জন্য বুকের দুধ ৬ মাস পর্যন্ত অপরিহার্য। ডিম, দুধ, দই, মাছ, মাংস, ডাল, প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় থাকা উচিত। আয়রনসমৃদ্ধ খাবার, কলিজা, পালংশাক, বিট, মসুর ডাল। ভিটামিন ‘সি’ আয়রন শোষণে সহায়তা করে, তাই আমলকি/লেবু খাওয়া উচিত।

খাদ্য নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্যবিধি

শুধু পুষ্টিকর খাবারই যথেষ্ট নয়, খাবারের নিরাপত্তাও সমান জরুরি। রান্নার আগে ও পরে হাত ধোয়া। খাদ্যে ভেজাল সম্পর্কে সচেতন থাকা। খাবার ভালোভাবে সিদ্ধ করে খাওয়া। পরিষ্কার পানি ব্যবহার। বাজারজাত পণ্য কিনতে মেয়াদ ও বিএসটিআই সিল দেখা।

সুস্থ জীবনের জন্য দৈনিক খাদ্য তালিকা

সকাল, ওটস/চিড়া/ডিম, মৌসুমি ফল, চিনি ছাড়া লেবুর পানি বা সবুজ চা।দুপুর, লাল বা আতপ চাল, মাছ/ডাল প্রচুর সবজি, এক চামচ জলপাই তেল (অলিভ অয়েল)/সরিষার তেল।বিকেল, ফল বা বাদাম, চিনি ছাড়া চা।রাত, ভাত কম, সবজি ও প্রোটিন বেশি, ঘুমের ২/৩ ঘণ্টা আগে খাবার খাওয়া।

বৈজ্ঞানিক প্রমাণ: খাদ্যই হতে পারে ওষুধ

জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও) ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) বলছে, বিশ্বের ৭০ শতাংশ অসংক্রামক রোগের পেছনে খাদ্যাভ্যাসই প্রধান ভূমিকা রাখে। অর্থাৎ বৈজ্ঞানিক খাদ্য-পরিকল্পনা শতভাগ রোগ প্রতিরোধ করতে না পারলেও রোগের ঝুঁকি ব্যাপকভাবে কমাতে পারে।

খাদ্যবিজ্ঞান ও পুষ্টি কেবল রোগের চিকিৎসার অংশ নয়, এটি স্বাস্থ্যকর জীবনের ভিত্তি। আধুনিক মানুষের রোগের ধরন বদলে গেছে, তাই খাদ্যাভ্যাসও বদলানো জরুরি। সচেতন ও বিজ্ঞানভিত্তিক খাদ্য পরিকল্পনা প্রতিটি পরিবারকে অর্থনৈতিক, শারীরিক এবং মানসিকভাবে আরও শক্তিশালী করে।

আজই নিজের এবং পরিবারের জন্য খাদ্যাভ্যাস পুনর্বিন্যাস করুন। কারণ, সঠিক খাবারই হতে পারে আপনার সেরা ওষুধ।

ইএইচ

Link copied!