ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Amar Sangbad

ইনস্টাগ্রাম

Amar Sangbad

এক্স

Amar Sangbad


লিংকডইন

Amar Sangbad

পিন্টারেস্ট

Amar Sangbad

গুগল নিউজ

Amar Sangbad


হোয়াটস অ্যাপ

Amar Sangbad

টেলিগ্রাম

Amar Sangbad

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Amar Sangbad


ফিড

Amar Sangbad

ঢাকা শুক্রবার, ০৫ জুন, ২০২৬

ফাঁকা হতে শুরু করেছে ঢাকা

নিজস্ব প্রতিবেদক

নিজস্ব প্রতিবেদক

মার্চ ১৬, ২০২৬, ১২:৩৪ এএম

ফাঁকা হতে শুরু করেছে ঢাকা

পবিত্র ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে নাড়ির টানে রাজধানী ঢাকা ছাড়তে শুরু করেছেন হাজারো মানুষ। ফলে ধীরে ধীরে ফাঁকা হতে শুরু করেছে নগরীর ব্যস্ত সড়কগুলো। অন্যান্য দিনের তুলনায় যানজট কমে গিয়ে রাজধানীর অনেক এলাকায় এখন তুলনামূলক স্বস্তিদায়ক পরিবেশ দেখা যাচ্ছে।

গতকাল রোববার দুপুরে রাজধানীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ঘুরে দেখা যায়, কয়েকদিন আগেও যেখানে যানবাহনের দীর্ঘ সারি এবং তীব্র যানজট ছিল, সেখানে এখন গাড়ির চাপ অনেকটাই কম। বিশেষ করে কারওয়ান বাজার, তেজগাঁও, ফার্মগেট, বাংলামোটর ও শাহবাগের মতো ব্যস্ত এলাকাগুলোতে স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় সড়ক বেশ ফাঁকা দেখা গেছে।

কারওয়ান বাজারে কমেছে গাড়ির চাপ : দুপুরের দিকে কারওয়ান বাজার মোড়ে সরেজমিন দেখা যায়, সাধারণত যেখানকার সড়কগুলোতে সবসময় যানবাহনের চাপ ও যানজট লেগেই থাকে, সেখানে অনেকটাই ফাঁকা পরিবেশ বিরাজ করছে। গাড়িগুলো স্বাভাবিক গতিতে চলাচল করছে এবং কোথাও দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে না। গণপরিবহনেও যাত্রী সংখ্যা তুলনামূলক কম দেখা গেছে। অনেক বাসই অল্পসংখ্যক যাত্রী নিয়ে চলাচল করছে। বাসস্ট্যান্ডগুলোতেও যাত্রীদের দীর্ঘ সারি বা ভিড় তেমন চোখে পড়েনি।

ঘরমুখো মানুষের ঢল : পরিবহন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ঈদ উপলক্ষে ইতোমধ্যেই অনেক মানুষ ঢাকা ছেড়ে নিজ নিজ গ্রামের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করেছেন। বিশেষ করে সরকারি ও বেসরকারি অফিস-আদালতের ছুটি শুরু হওয়ায় প্রতিদিনই বাড়ছে ঘরমুখো মানুষের সংখ্যা। রাজধানীর বাস টার্মিনাল, রেলস্টেশন এবং লঞ্চঘাটগুলোতে মানুষের ভিড় ক্রমেই বাড়ছে। অনেকেই আগেভাগেই বাড়ি ফিরতে চাইছেন যাতে শেষ মুহূর্তের ভোগান্তি এড়ানো যায়। পরিবহন শ্রমিকদের মতে, ঈদের এক সপ্তাহ আগে থেকেই ঢাকা থেকে মানুষের বের হয়ে যাওয়ার প্রবণতা শুরু হয়। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি।

বাসচালক ও যাত্রীদের অভিজ্ঞতা : কারওয়ান বাজার এলাকায় কয়েকজন বাসচালক ও যাত্রীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, কয়েকদিন আগেও রাজধানীর সড়কগুলোতে গাড়ির চাপ অনেক বেশি ছিল। কিন্তু ঈদ সামনে আসায় মানুষ ধীরে ধীরে ঢাকা ছাড়তে শুরু করেছেন, ফলে সড়কে ভিড় কমে গেছে। একটি গণপরিবহনের চালক বলেন, ‘কয়েকদিন আগেও এই রাস্তায় চলতে অনেক সময় লাগত। এখন গাড়ি তুলনামূলক কম, তাই দ্রুত চলাচল করা যাচ্ছে।’ আরেক চালক জানান, সকাল ও বিকেলের ব্যস্ত সময়েও এখন তেমন যানজট দেখা যাচ্ছে না। একজন যাত্রী বলেন, ‘আজকে অফিসে যেতে খুব বেশি সময় লাগেনি। অন্যদিন এই একই পথ পাড়ি দিতে অনেক সময় লাগে।’

নগরবাসীর স্বস্তি : সড়কে যানবাহনের সংখ্যা কমে যাওয়ায় স্বস্তি পাচ্ছেন রাজধানীর নিয়মিত পথচারী ও যাত্রীরা। অনেকেই বলছেন, দীর্ঘদিন পর ঢাকার সড়কে কিছুটা স্বস্তির পরিবেশ দেখা যাচ্ছে। এদিকে গাড়ির সংখ্যা কম থাকায় অন্যদিনের মতো অতিরিক্ত হর্নের শব্দও তেমন শোনা যাচ্ছে না। এতে শব্দদূষণও কিছুটা কমেছে। পথচারীরা জানান, যানজট কম থাকায় রাস্তা পার হওয়াও সহজ হয়েছে।

ধীরে ধীরে ফাঁকা হচ্ছে ঢাকা : নগর পরিকল্পনাবিদ ও পরিবহন সংশ্লিষ্টদের মতে, ঈদ যত ঘনিয়ে আসবে ততই রাজধানী ফাঁকা হতে শুরু করবে। ঢাকায় বসবাসকারী বিপুলসংখ্যক মানুষ বিভিন্ন জেলা থেকে এসে কাজ করেন। ঈদের সময় তারা পরিবার-পরিজনের সঙ্গে উৎসব করতে নিজ নিজ এলাকায় ফিরে যান। ফলে রাজধানীর জনসংখ্যা সাময়িকভাবে অনেকটাই কমে যায়। এর প্রভাব সরাসরি সড়ক পরিবহন ব্যবস্থায়ও দেখা যায়।

টার্মিনালগুলোতে বাড়ছে চাপ : ঢাকা থেকে মানুষের বের হয়ে যাওয়ার কারণে বাস, ট্রেন ও লঞ্চ টার্মিনালগুলোতে ঘরমুখো মানুষের চাপ বাড়তে শুরু করেছে। বিশেষ করে গাবতলী, সায়েদাবাদ ও মহাখালী বাস টার্মিনালে প্রতিদিনই বাড়ছে যাত্রীর সংখ্যা। কমলাপুর রেলস্টেশনেও দেখা যাচ্ছে যাত্রীদের ভিড়।             অনেকেই পরিবার-পরিজন নিয়ে ট্রেনে করে বাড়ি ফিরছেন। সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালেও দক্ষিণাঞ্চলগামী যাত্রীদের ভিড় বাড়ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

যানজট কমার পেছনের কারণ : বিশ্লেষকরা বলছেন, ঈদকে কেন্দ্র করে কয়েকটি কারণে রাজধানীতে যানজট কমে যায়। প্রথমত, অফিস-আদালতের অনেক কর্মচারী ছুটিতে চলে যান। দ্বিতীয়ত, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ হয়ে যায়। তৃতীয়ত, অনেক ব্যবসা প্রতিষ্ঠানও সীমিত আকারে পরিচালিত হয়। এই সব কারণ মিলিয়ে রাজধানীতে মানুষের চলাচল কমে যায়, ফলে যানজটও অনেকাংশে কমে আসে।

পরিবহন কর্তৃপক্ষের প্রস্তুতি : ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে বিভিন্ন পরিবহন সংস্থা ও কর্তৃপক্ষও প্রস্তুতি নিয়েছে। বাস, ট্রেন ও লঞ্চের সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে। একই সঙ্গে যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীও সক্রিয় রয়েছে। পরিবহন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এবারের ঈদযাত্রা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে সরকার ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো সমন্বিতভাবে কাজ করছে।

সামনে আরও ফাঁকা হবে রাজধানী : পরিবহন সংশ্লিষ্টদের ধারণা, ঈদের আগের কয়েকদিনে রাজধানী আরও ফাঁকা হয়ে যাবে। বিশেষ করে ঈদের তিন থেকে চার দিন আগে ঢাকার অধিকাংশ সড়ক অনেকটাই ফাঁকা হয়ে পড়বে। তখন যানজট প্রায় নেই বললেই চলে।

স্বস্তির শহর, সাময়িক পরিবর্তন : ঢাকার বাসিন্দাদের অনেকেই বলছেন, ঈদের সময় রাজধানীর যে শান্ত পরিবেশ তৈরি হয়, তা বছরের অন্য সময়গুলোতে খুব কমই দেখা যায়। তবে এই পরিস্থিতি সাময়িক। ঈদের ছুটি শেষে মানুষ আবার রাজধানীতে ফিরে এলে আগের মতোই ব্যস্ত হয়ে উঠবে ঢাকা শহর। তারপরও ঈদকে কেন্দ্র করে এই কয়েকদিনের স্বস্তি নগরবাসীর জন্য এক ধরনের স্বস্তির বার্তা নিয়ে আসে। ঘরমুখো মানুষের যাত্রা যেমন আনন্দের, তেমনি সাময়িকভাবে ঢাকার ব্যস্ত নগরজীবনেও এনে দেয় কিছুটা স্বস্তির নিঃশ্বাস।

ঢাকার নিরাপত্তায় ডিএমপির বিশেষ ‘থানা-সেবা’: মূল্যবান সম্পদ রক্ষায় অনন্য উদ্যোগ : পবিত্র ঈদুল ফিতর সামনে রেখে প্রতি বছরই ঢাকা ছাড়েন কয়েক কোটি মানুষ। এই সময়ে জনশূন্য রাজধানীর বাসাবাড়িতে চুরি ও ডাকাতির ঝুঁকি বেড়ে যায়। এবার সেই ঝুঁকি মোকাবিলায় এবং নগরবাসীর উদ্বেগ কমাতে এক নজিরবিহীন পরামর্শ দিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। ডিএমপির ভারপ্রাপ্ত কমিশনার মো. সরওয়ার জানিয়েছেন, যদি কোনো নাগরিকের ঢাকায় বিশ্বাসযোগ্য আত্মীয়স্বজন না থাকে, তবে তারা তাদের নগদ অর্থ, স্বর্ণালংকার ও মূল্যবান দলিলপত্রের নিরাপত্তা নিশ্চিতে সরাসরি থানার সহায়তা নিতে পারেন। প্রয়োজনে এসব মূল্যবান বস্তু থানায় জমা রাখার সুযোগও থাকছে।

মূল্যবান সম্পদ নিয়ে ডিএমপির ‘সফ-কিপিং’ বার্তা

সংবাদ সম্মেলনে ভারপ্রাপ্ত কমিশনার মো. সরওয়ার নগরবাসীকে ঘর ছাড়ার আগে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ‘বাসায় নগদ টাকা বা গহনা অরক্ষিত রেখে যাওয়া ঝুঁকিপূর্ণ। যাদের নিকটাত্মীয় নেই, তারা নির্দ্বিধায় থানায় যোগাযোগ করুন। পুলিশের পক্ষ থেকে আপনাদের সম্পদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সব ধরণের সহায়তা প্রদান করা হবে। ‘তিনি আরও পরামর্শ দেন যে, সম্পদ সম্ভব হলে আত্মীয়ের বাসায় বা ব্যাংকের লকারে রেখে যাওয়া উচিত, তবে পুলিশের কাছেও এ বিষয়ে বিশেষ সহায়তা চাওয়া যেতে পারে।

বাসা ছাড়ার আগে সাত দফা করণীয়

নগরবাসীকে নিজের ঘরকে সুরক্ষিত করতে বেশ কিছু কারিগরি ও সচেতনতামূলক পরামর্শ দিয়েছেন ভারপ্রাপ্ত মিশনার:

১. সংযোগ পরীক্ষা: গ্যাস, বিদ্যুৎ ও পানির সংযোগগুলো সঠিকভাবে বন্ধ আছে কি না তা পুনরায় পরীক্ষা করা।

২. সুরক্ষিত দরজা-জানালা: বের হওয়ার সময় জানালার লক এবং দরজার কপাটগুলো নিশ্ছিদ্রভাবে বন্ধ করা।

৩. প্রযুক্তিগত নজরদারি: বাসাবাড়িতে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা এবং পুরানো ক্যামেরাগুলো সচল কি না তা নিশ্চিত করা।

৪. আলোকসজ্জা: রাতের বেলায় বাসার প্রবেশপথে ও আশপাশে পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা রাখা, যাতে অন্ধকার অপরাধীদের জন্য সহায়ক না হয়। ফাঁকা রাজধানীর কঠোর নিরাপত্তা বলয় ঈদের ছুটিতে অপরাধীদের তৎপরতা রুখতে ডিএমপি এক বিশাল নিরাপত্তা বহর মোতায়েন করেছে। কমিশনারের তথ্যমতে:

মোবাইল প্যাট্রোল: প্রতিদিন রাজধানীর রাজপথে ৩০০টিরও বেশি মোটরসাইকেল ও পুলিশের গাড়ি ভ্রাম্যমাণ টহল (Mobile Patrol) দেবে।

রাতের চেকপোস্ট: রাতের ঢাকায় অপরাধী শনাক্তে ৭০টিরও বেশি স্থানে স্থায়ী ও অস্থায়ী চেকপোস্ট বসানো হয়েছে।

ফুট প্যাট্রোল: অলিতে-গলিতে অপরাধ রুখতে পুলিশ সদস্যদের পায়ে হেঁটে টহল দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

কূটনৈতিক জোন: বিশেষ নজরদারিতে রাখা হয়েছে আবাসিক, বাণিজ্যিক ও কূটনৈতিক এলাকাগুলো।

টার্মিনালে গোয়েন্দা নজরদারি ও ভাড়ার নিয়ন্ত্রণ

রাজধানীর সায়দাবাদ, গাবতলী, মহাখালী ও ফুলবাড়িয়া বাস টার্মিনালসহ রেলস্টেশন ও সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালে বিশেষ নিরাপত্তা চৌকি বসানো হয়েছে। ভারপ্রাপ্ত কমিশনার হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘অতিরিক্ত ভাড়া আদায় বা যাত্রী হয়রানি সহ্য করা হবে না। ইউনিফর্ম পরা পুলিশের পাশাপাশি বিপুল সংখ্যক সাদা পোশাকের ডিবি সদস্য মলম পার্টি, অজ্ঞান পার্টি ও পকেটমারদের গ্রেফতারে সক্রিয় রয়েছে।‘বর্তমানে বিপণিবিতানগুলোতে নিরাপত্তা দিতে অতিরিক্ত ১ হাজার পুলিশ সদস্য নিয়োগ করা হয়েছে।

গতিপ্রিয় চালকদের জন্য বিশেষ সতর্কবার্তা

ঈদের ফাঁকা রাস্তায় এক শ্রেণীর যুবক বেপরোয়া গতিতে গাড়ি বা বাইক রেসিংয়ে মেতে ওঠে। এ বিষয়ে কঠোর বার্তা দিয়ে মো. সরওয়ার বলেন, ‘পূর্বাচল এক্সপ্রেসওয়ে, গুলশান এবং বনানী থেকে আবদুল্লাহপুর সড়কে আমরা বিশেষ নজর রাখছি। ঈদের দিন থেকে পরবর্তী কয়েক দিন অতিরিক্ত গতির যানবাহন ঠেকাতে ভ্রাম্যমাণ আদালত (Mobile Court) সার্বক্ষণিক মাঠে থাকবে।‘

২০২৬ সালের এই ঈদযাত্রা নিরাপদ করতে ডিএমপির এই ‘থানা-সেবা’ এবং নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা পরিকল্পনা এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে। তবে পুলিশের সক্রিয়তার পাশাপাশি নাগরিকদের ব্যক্তিগত সচেতনতাই পারে একটি নিরাপদ ও আনন্দময় ঈদ উদযাপন নিশ্চিত করতে।

Link copied!