ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Amar Sangbad

ইনস্টাগ্রাম

Amar Sangbad

এক্স

Amar Sangbad


লিংকডইন

Amar Sangbad

পিন্টারেস্ট

Amar Sangbad

গুগল নিউজ

Amar Sangbad


হোয়াটস অ্যাপ

Amar Sangbad

টেলিগ্রাম

Amar Sangbad

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Amar Sangbad


ফিড

Amar Sangbad

ঢাকা সোমবার, ১৩ জুলাই, ২০২৬

ঢাকার বর্জ্য রূপান্তরে বিশেষ উদ্যোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক

নিজস্ব প্রতিবেদক

জুলাই ১৩, ২০২৬, ১২:৫২ এএম

ঢাকার বর্জ্য রূপান্তরে বিশেষ উদ্যোগ

ঢাকা মহানগরীর বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বর্তমানে এক চরম সংকটের মুখে। জনবহুল এই শহরের প্রতিদিনের কয়েক হাজার টন বর্জ্য ডাম্পিং ও সঠিক প্রক্রিয়াকরণ নিয়ে বছরের পর বছর ধরে নানা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করছে কর্তৃপক্ষ। তবে এই সংকটকে সম্পদে রূপান্তরের এক বড় স্বপ্ন নিয়ে মাঠে নেমেছে সরকার। আমিনবাজার ও মাতুয়াইলে দুটি বৃহৎ প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে ঢাকার বর্জ্যকে বিদ্যুৎ ও পরিবেশবান্ধব পণ্যে রূপান্তরের কাজ শুরু হতে যাচ্ছে।

গতকাল রোববার সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে এই দুই প্রকল্পের অগ্রগতির বিষয়ে চূড়ান্ত দিকনির্দেশনা দেয়া হয়। ঢাকার আমিনবাজারে বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের এই প্রকল্পে বিনিয়োগ করছে চীনের খ্যাতনামা সিএমইসি গ্রুপ। এই কেন্দ্রটির লক্ষ্য হলো ঢাকার প্রায় তিন হাজার টন বর্জ্যকে জ্বালানিতে রূপান্তর করা।

প্রকল্পসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের তথ্যানুযায়ী, এই কেন্দ্র থেকে দৈনিক ৪২.৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। সবকিছু ঠিক থাকলে ২০২৮ সালের আগস্ট নাগাদ এই কেন্দ্র থেকে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হবে। প্রকল্পটি দীর্ঘ ২৫ বছর নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা বজায় রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।

অন্যদিকে, ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের মাতুয়াইল ল্যান্ডফিল এলাকায় বাস্তবায়িত হবে দ্বিতীয় প্রকল্পটি। দক্ষিণ কোরিয়ার কোম্পানি বিঅ্যান্ডএফ-এর কারিগরি সহায়তায় এই প্রকল্পটি হবে বহুমুখী। এখানে বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের পাশাপাশি বছরে প্রায় ১৫ হাজার টন মিথেন গ্যাস উৎপাদনের পরিকল্পনা রয়েছে।

এই প্রকল্পের বিশেষত্ব হলো এর বহুমুখী ব্যবহার— বিদ্যুৎ উৎপাদন: বছরে প্রায় ৮১ হাজার মেগাওয়াট-ঘণ্টা বিদ্যুৎ উৎপাদন, যা দৈনিক গড়ে প্রায় ২২১ মেগাওয়াট-ঘণ্টা। অন্যান্য পণ্য: সৌরবিদ্যুৎ, উন্নত মানের সার, পশুখাদ্য এবং পরিবেশবান্ধব ইকো-ব্রিকস। বর্জ্য ব্যবহার: প্রতিদিন তিন হাজার থেকে সাড়ে তিন হাজার টন বর্জ্য এই প্রকল্পে প্রক্রিয়াজাত করা হবে। বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রকল্পের কাজ দ্রুততর করতে স্থানীয় সরকার, বিদ্যুৎ এবং পরিবেশ মন্ত্রণালয়কে নিয়ে নিয়মিত আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠক করার নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, প্রকল্পের কাজ যেন কোনোভাবেই নির্ধারিত সময়ের বাইরে না যায়।

পাশাপাশি, পরিবেশের যেন কোনো ক্ষতি না হয়, সেজন্য সর্বাধুনিক পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তির ব্যবহারের ওপর তিনি বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। রাজধানীর বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় এটি হবে একটি মাইলফলক। পরিবেশবিজ্ঞানীদের মতে, ডাম্পিং স্টেশনগুলোতে খোলা জায়গায় বর্জ্য ফেলার ফলে মিথেন গ্যাস ও অন্যান্য বিষাক্ত উপাদান সরাসরি বাতাসে মিশে বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধিতে সহায়তা করে। এই প্রকল্প দুটি কার্যকর হলে কেবল শহরের সৌন্দর্যই বাড়বে না, বরং জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব মোকাবিলায় বাংলাদেশ একটি শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করবে।

ঢাকার বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের এই উদ্যোগ কেবল একটি প্রযুক্তিগত উন্নয়ন নয়, এটি আমাদের নগর উন্নয়নের দর্শনের পরিবর্তন। বর্জ্যকে ‘সমস্যা’ হিসেবে না দেখে ‘সম্পদ’ হিসেবে বিবেচনার এই মানসিকতা রাজধানী ঢাকার জন্য নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দিয়েছে। ২০২৮ সালের মধ্যে যখন আমিনবাজার ও মাতুয়াইলের চাকা ঘুরতে শুরু করবে, তখন ঢাকা কেবল একটি মেগাসিটিই হবে না, বরং এটি হবে টেকসই পরিবেশবান্ধব নগর ব্যবস্থাপনার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। সরকারের এই দূরদর্শী পরিকল্পনা বাস্তবায়নে প্রয়োজন স্বচ্ছতা, সঠিক তদারকি এবং জনগণের সচেতন অংশগ্রহণ। একটি আবর্জনা ও দূষণমুক্ত ঢাকা এই লক্ষ্য অর্জনে এখন দেশ তাকিয়ে আছে এই দুই প্রকল্পের সফল বাস্তবায়নের দিকে।

পানিবন্দি মানুষের জীবন-সম্পদ রক্ষায় সর্বোচ্চ সতর্কতার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর : টানা অতিবৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সৃষ্ট বন্যা ও জলাবদ্ধতা পরিস্থিতি মোকাবিলায় সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। গতকাল রোববার দুপুরে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে জুম প্ল্যাটফর্মে আয়োজিত এক জরুরি ভার্চুয়াল সভায় তিনি দেশের আট বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক (ডিসি), পুলিশ সুপার (এসপি) ও সিভিল সার্জনসহ মাঠ প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের নিয়ে এই নির্দেশনা প্রদান করেন।

প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট করেন, দুর্যোগকালীন এই সময়ে মানুষের জীবন ও সম্পদ রক্ষা করাই প্রশাসনের মূল লক্ষ্য এবং এক্ষেত্রে বিন্দুমাত্র গাফিলতি বরদাশত করা হবে না। প্রধানমন্ত্রী মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছেন যেন প্রতিটি ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের দোরগোড়ায় দ্রুত ত্রাণসামগ্রী, শুকনো খাবার, বিশুদ্ধ পানি ও প্রয়োজনীয় ওষুধ পৌঁছায়। বিশেষ করে শিশু, গর্ভবতী নারী, প্রবীণ ব্যক্তি এবং প্রতিবন্ধীদের প্রতি আলাদা মনোযোগ দেয়ার তাগিদ দিয়েছেন তিনি।

তিনি বলেন, ‘আশ্রয়কেন্দ্রগুলোয় স্যানিটেশন, বিদ্যুৎ ও নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে যাতে সাধারণ মানুষ সেখানে গিয়েও কোনো ভোগান্তির শিকার না হয়।’ দুর্যোগের সুযোগ নিয়ে যেন কেউ অসাধু কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হতে না পারে, সেজন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে কঠোর নজরদারিতে থাকার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। ত্রাণ বিতরণে অনিয়ম, মজুতদারি বা ত্রাণ আত্মসাৎ রোধে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার ওপর তিনি বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। যেকোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশও দিয়েছেন তিনি।

ভার্চুয়াল সভায় চট্টগ্রাম বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, সেখানে জলাবদ্ধতা কিছুটা কমতে শুরু করেছে। তবে সিলেট ও রংপুর অঞ্চলের পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী। সিলেটে মনু নদের বাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় এবং রংপুরে নতুন করে জলাবদ্ধতার আশঙ্কায় তিনি সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় জনবল ও সরঞ্জাম নিয়ে প্রস্তুত থাকতে বলেছেন। তিনি নিয়মিত নদ-নদীর পানির স্তর ও আবহাওয়ার পূর্বাভাস পর্যবেক্ষণের নির্দেশ দিয়েছেন, যাতে যেকোনো ঝুঁকি মোকাবিলায় দ্রুত সাড়া দেয়া সম্ভব হয়। প্রকৃতির দুর্যোগ আমাদের নিয়ন্ত্রণে নেই, কিন্তু সেই দুর্যোগ মোকাবিলায় আমাদের প্রস্তুতি ও সমন্বয় অবশ্যই আমাদের নিয়ন্ত্রণে থাকতে পারে।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এই নির্দেশনা কেবল প্রশাসনিক নির্দেশ নয়, এটি দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর এক শক্তিশালী অঙ্গীকার। প্রশাসনের প্রতিটি স্তরে সমন্বয় এবং তৃণমূল পর্যায়ে তদারকি নিশ্চিত হলে বন্যার ক্ষয়ক্ষতি অনেকাংশেই কমিয়ে আনা সম্ভব। আজকের সভার মাধ্যমে মাঠ প্রশাসনের কর্মকর্তাদের যে বার্তা দেয়া হয়েছে, তা বাস্তবায়িত হলে ক্ষতিগ্রস্ত জনপদ দ্রুত স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসবে বলে আশা করা যায়। জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার যে বদ্ধপরিকর, আজকের এই জরুরি বৈঠক তার অন্যতম প্রমাণ। এখন প্রয়োজন মাঠ প্রশাসনের সততা, সাহস ও আন্তরিকতার সাথে এই নির্দেশনাগুলো বাস্তবায়ন করা।

Link copied!