নেত্রকোনা প্রতিনিধি
নভেম্বর ২১, ২০২২, ০৬:৪৬ পিএম
‘শিশুরা আনন্দঘন, শিশুবান্ধব সমাজে বসবাস করবে। গ্রামে গড়ে উঠবে সংস্কৃতি সচেতন পাঠক বলয় ও পাঠাগার’ এ প্রতিবাদ্যকে সামনে রেখে শিশু ও শিক্ষার্থীদের মাঝে নাম মাত্র মূল্যে বই বিক্রয় উদ্যোগ গ্রহণ করেছে জলসিঁড়ি পাঠাগার।
সোমবার দুপুরে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে ভর্তুকি মূল্যে নেত্রকোনা পূর্বধলার বিশকাকুনী ইউনিয়নে কাচিকান্দা গ্রামে বিদ্যাভুবন বিদ্যালয়ে শিশু শিক্ষার্থীদের মাঝে ১০ টাকা মূল্যে ৫০ কপি বই বিতরণ করা হয়।
‘উন্নত জীবন’, ‘রোড টু সাকসেস’, ‘থিংক এন্ড গ্রো বিচ’ নামক শিশু-যুবাদের আত্মোন্নয়নে ভূমিকা রাখার মতো এসব উল্লেখযোগ্য বই শিক্ষার্থীদের হাতে তুলে দেন বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা শেখ আল মামুন।
এসময় বিদ্যাভুবনের শিক্ষার্থী সুমাইয়া আক্তার জেমি বলেন, ১০ টাকায় বই পেয়ে আমরা আপ্লুত মনোভাব প্রকাশ করেন। উপস্থিত ছিলেন সংস্কৃতিকর্মী পার্থ প্রতীম সরকার, সহকারী শিক্ষক আল আমীন ফকির ও নাজনিন আক্তার।

জলসিঁড়ি পাঠাগারের প্রতিষ্ঠাতা দীপক সরকার বলেন, ভর্তুকি দিয়ে ১০ টাকায় প্রতিটি বই প্রদান করছি আমরা। কিন্তু বইটির প্রকৃত মূল্য তার থেকে অনেক বেশি। শিশু-যুবারা সহজ মূল্যে বইটি কিনুক। তারা সম্মানবোধ করুক যে, দানে নয়, বইটি তারা সহজ মূল্যে সংগ্রহ করেছে। বই সংগ্রহ ও পাঠাভ্যাস বৃদ্ধি হোক এটাই আমাদের প্রকৃত চাওয়া।
তিনি আরও বলেন, একমাস পর শিক্ষার্থীরা পাঠ প্রতিক্রিয়া লিখে জমা দিবে, তারপর পাঠ প্রতিক্রিয়া মূল্যায়ন করে পুরস্কার প্রদান করা হবে। দেশব্যাপী এ কর্মসূচি বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিত্তবান ও সরকারের সহযোগিতা কামনা করেছেন জলসিঁড়ি পাঠাগারের কর্মীরা।
জেলার দুর্গাপুরের বিরিসিড়িতে ২০১২ সালের ১৬ ডিসেম্বর জলসিঁড়ি পাঠাগারটি প্রতিষ্ঠা করেন দীপক সরকার। এর স্লোগান `সংস্কৃতি ঐতিহ্যের ধারক`। বরেণ্য কবি নির্মলেন্দু গুণ ও বাচিক শিল্পী হাসান আরিফ এ পাঠাগার প্রতিষ্ঠায় অনুপ্রেরণাদাতা। জলসিড়ি পাঠকেন্দ্র প্রাঙ্গণে রয়েছে রবীন্দ্র- নজরুল মঞ্চ ও আর্ট গ্যালারি। গবেষণা গ্রন্থ, স্মারক গ্রন্থ, গল্প, আত্মজীবনী, কবিতা, উপন্যাস, প্রবন্ধ, শব্দকোষ, লোক সংস্কৃতি, স্থাপত্য, প্রত্নতাত্ত্বিক গ্রন্থসহ একাধিক ভাষার দুষ্প্রাপ্য বই রয়েছে জলসিঁড়ি পাঠকেন্দ্রে। মাসিক অধ্যয়নসভা, পাক্ষিক সংগীত শিখন, ত্রৈমাসিক পাঠোত্তর সমাবেশ এবং বাৎসরিক সাহিত্য ও সংস্কৃতি কর্মীদের সম্মিলনী এবং জলসিঁড়ি সম্মাননা প্রদান জলসিঁড়ি পাঠকেন্দ্রের নিয়মিত কর্মযজ্ঞ।
এসএম