কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি
জুন ২, ২০২৩, ০৯:২৫ পিএম
জীবন শুরু না করতেই মরণব্যাধী ব্লাড ক্যান্সারে আক্রান্ত কুড়িগ্রামে দরিদ্র পিতার ১২ বছর বয়সী ছেলে মাদরাসা ছাত্র আবু বক্কর সিদ্দিক। চিকিৎসার অভাবে আস্তে আস্তে মৃত্যুর দিকে ধাবিত হচ্ছে। গরীব পিতা তার ছেলেকে টাকার অভাবে চিকিৎসার করতে পারছে না।
আবু বক্কর সিদ্দিক কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার পাঁচগাছী ইউনিয়নের পানাতি পাড়া এলাকার রিকশা চালক তাজুল ইসলামের ছেলে। তিন ভাই বোনের মধ্যে আবু বক্কর সিদ্দিক দ্বিতীয়।
জানা গেছে, গত দুমাস আগে আবু বক্কর সিদ্দিক মাদরাসা গিয়ে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ে। এর পর থেকেই মাঝে মধ্যেই সে অসুস্থ হতো। পরে কবিরাজ ও স্থানীয় পল্লী চিকিৎসকের দারস্থ হন তার বাবা। চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়। এভাবেই কেটে যাচ্ছিল দিন আবু বক্কর সিদ্দিকের।
তবে একদিন হঠাৎ করেই অসুস্থ হয়ে আবু বক্কর লুটিয়ে পড়ে মাটিতে। পরে স্থানীয় ডাক্তারদের পরামর্শে তাকে দ্রুত কুড়িগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে ভর্তি করা হয়। সেখানেই সপ্তাহ খানেক চিকিৎসার পর পরিক্ষা নিরিক্ষা করে তাকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করেন।
রংপুরের ডাঃ আব্দুল কাদের জেলানীর তত্বাবধানে চিকিৎসা চলাকালে তার পরিবার জানতে পারেন আবু বক্কর সিদ্দিক ব্লাড ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়েছে। রংপুর মেডিকেলের চিকিৎসক আবু বক্কর সিদ্দিককে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেন। ছেলেকে ঢাকায় নিয়ে যাওয়ার সামর্থ্য নেই রিকশা চালক পিতার। শেষ পর্যন্ত কোন উপায় না পেয়ে অসুস্থ ছেলেকে নিয়ে চলে আসেন নিজ বাড়িতে। ছেলের চিকিৎসার টাকা জোগাড় করতে বিভিন্ন হাট বাজারে সাহয্য চাচ্ছে রিকশা চালক বাবা।
ব্লাড ক্যান্সারে আক্রান্ত আবু বক্কর সিদ্দিকের দাদি বলেন, একদিন আবু বক্কর এসে আমাকে বলে আমার খালি মাথা ঘুরে। আমরা মনে করছিলাম মাদরাসা যাওয়া ভয়ে এসব বলছে। আবারও ২-৩ দিন পর বাড়িতে এসে তার মাথা ঘুরার কথা বলতো। আমরা সেসময় গুরুত্ব দেইনি। তার একদিন খুব জ্বর আসলো সবাই বলছে মনে হয় জন্ডিস হয়েছে। এ জন্য কবিরাজ ও গ্রামের ডাক্তার দিয়ে চিকিৎসা করাই। কোনভাবে জ্বর কমে না।
পরে একদিন হঠাৎ মাটিতে পড়ে গেলো। আমরা তাকে সাথে সাথে কুড়িগ্রাম হাসপাতাল নিয়ে যাই। হাসপাতালে এক সপ্তাহ থাকার পর রংপুর নিয়ে যেতে বলে ডাক্তার। পরে রংপুর নিয়ে যাই। রংপুরের ডাক্তারও পরিক্ষা করে ঢাকা নিয়ে যাইতে বলে। আমাদের তো টাকা পয়সা নাই কিভাবে ঢাকা যাই। আমার ছেলে রিকশা চালে কোনরকমে সংসারটা চালায়। কি করমো না করমো, চিন্তায় বাঁচিনা নাতিকে নিয়ে।
আবু বক্কর সিদ্দিকের বাবা তাজুল ইসলাম বলেন, আমার ছেলের ব্লাড ক্যান্সার হইছে। কুড়িগ্রাম-রংপুরে চিকিৎসা করে প্রায় ৪০-৫০ হাজার টাকা শেষ। যে টাকা খরচ করছি সব মানুষের কাছে হাওলাত করা। রংপুরের ডাক্তার ঢাকায় নিয়ে যেতে বলছে। এখন কিভাবে ঢাকা নিয়ে যাবো চিন্তায় বাঁচিনা। ৭-৮ লাখ টাকা নাকি লাগবে এতো টাকা কই পাবো আমি।
টাকার জন্য কি তাহলে আমার ছেলের চিকিৎসা হবে না। কেউ যদি আমার ছেলে পাশে দাঁড়াইতো, আমার মনে হয় আমার ছেলে সুস্থ হইতো। কোন উপায় না পেয়ে তার চিকিৎসা করার জন্য হাট বাজারে গিয়ে গিয়ে মানুষের কাছে সাহায্য চাচ্ছি।
ব্লাড ক্যান্সারে আক্রান্ত আবু বক্কর সিদ্দিককে বাঁচাতে বাবা তাজুল ইসলামের সাথে যোগাযোগ করতে চাইলে এই নম্বরে ০১৭৪৬৫৩৪০০১ ফোন করা যাবে।
এইচআর