কলাপাড়া (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি:
মে ২৯, ২০২৪, ০৯:৫৩ এএম
ঘূর্ণিঝড় রেমালের আঘাতে পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপকূলের প্রতিটি মানুষের মাঝে আহাজারির চিত্র ফুটে উঠেছে। ঘূর্ণিঝড়টি নিম্নচাপে পরিণত হয়ে সোমবার শেষ বিকেলে উপকূল অতিক্রম করলেও প্রতিটি মানুষের চোখে-মুখে বিরাজ করছে এখনও আতঙ্ক।
এদিকে, ঘূর্ণিঝড়ে ক্ষতিগ্রস্তদের দেখতে বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কলাপাড়ায় আসবেন বলে নিশ্চিত করেছে উপজেলা আওয়ামীলীগ। তবে, প্রধানমন্ত্রী`র আগমনি বার্তায় অনেকটা স্বস্তিবোধ করছেন উপকূলবাসী।
মঙ্গলবার দুপুরে সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, ঘূর্ণিঝড় রেমাল উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়নে তার ধ্বংসাত্মক আক্রমণ চালিয়ে পুরো উপকূলকে বিধ্বস্ত করে গেছে। এতে ফসলের ক্ষেত, মাছের ঘের, পুকুর পানিতে তলিয়ে গেছে। ঘর-বাড়ি বিধ্বস্ত হওয়ায় অনেক মানুষ অপেক্ষাকৃত উঁচু স্থানে খোলা আকাশের নিচে পরিবার পরিজন ও গবাদি পশু নিয়ে জীর্ণশীর্ণভাবে বসবাস করছেন। এখনও অনেকে মুজিব কিল্লায় অবস্থানরত রয়েছেন। অগণিত গাছপালা উপড়ে অভ্যন্তরীণ যোগাযোগব্যবস্থা বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে। ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয়রা সড়ক থেকে গাছপালা অপসারণের চেষ্টা অব্যাহত রেখেছে।
অনেকে নিজেদের উদ্যোগে উপড়ে পরা গাছপালা কাঁটার কাজে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন। পৌর শহরে মাঝে মাঝে বিদ্যুৎ সংযোগ পেলেও ইউনিয়ন পর্যায়ে এখনও সংযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। পুরোপুরি সংযোগ দিতে আরো দুই তিন লাগতে পারে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ অফিস। বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে গত দু’দিন ধরে ঠিকমতো পানি সেবা পাচ্ছে না পৌরবাসী। তবে দুর্গত এসব মানুষের বিশ্বাস প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরেজমিনে এসে তাদের অবস্থা দেখলে দ্রুত সব সমস্যার সমাধান হবে।
এদিকে, প্রধানমন্ত্রী`র আগমন উপলক্ষ্যে উপজেলায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। দুপুর থেকে হেলিকপ্টার যোগে টহল দিচ্ছে প্রশাসন। ইতোমধ্যে প্রস্তুত করা হয়েছে হেলিপোর্ট মাঠ। বাড়ানো হচ্ছে প্রশাসনিক তৎপরতা।
কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রবিউল ইসলাম বলেন, এখন পর্যন্ত আমরা দুর্গত মানুষের জন্য ১৩০ মেট্রিক টন চাল, নগদ ৬ লক্ষ টাকা, শুকনো খাবার বরাদ্দ পেয়েছি। চাহিদা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় আরো বরাদ্দ পাওয়া যাবে। এছাড়া প্রধানমন্ত্রী আগমন উপলক্ষ্যে সকল ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হচ্ছে বলেও তিনি জানান।
বিআরইউ