আব্দুল্লাহ আল নাঈম, ব্রাহ্মণবাড়িয়া
অক্টোবর ১০, ২০২৫, ০৪:২৩ পিএম
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ উপজেলার দুর্গাপুর গ্রামে ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষে অর্ধশতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন। সংঘর্ষ চলাকালে উভয় পক্ষের বেশ কয়েকটি বাড়িঘরে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে।
শুক্রবার সকাল ৯টা থেকে শুরু হয়ে টানা দুই ঘণ্টা ধরে এ সংঘর্ষ চলে, যা পুরো এলাকায় চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে দেয়।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বৃহস্পতিবার বিকেলে দুর্গাপুর হাইস্কুল মাঠে ফুটবল খেলা নিয়ে দুর্গাপুর গ্রামের বড় বাড়ি ও মুন্সি বাড়ির যুবকদের মধ্যে কথা কাটাকাটি ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। রাতেই এ ঘটনার জেরে এক দফা সংঘর্ষ হয়, যা পুলিশ এসে নিয়ন্ত্রণে আনে।
তবে পরদিন সকাল ৯টার দিকে উভয় পক্ষের শতাধিক লোকজন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে আবারও সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। প্রায় দুই ঘণ্টাব্যাপী চলা এই সংঘর্ষে অর্ধশতাধিক মানুষ আহত হন।
আহতদের মধ্যে অনেকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতাল ও আশপাশের ক্লিনিকে ভর্তি হয়েছেন।
সংঘর্ষের সময় উভয় পক্ষের বেশ কয়েকটি বাড়িঘর ভাঙচুর করা হয় এবং অন্তত তিনটি বাড়িতে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। এতে এলাকায় ব্যাপক ভীতি ও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
খবর পেয়ে আশুগঞ্জ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে। তবে পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাফে মোহাম্মদ ছড়ার নেতৃত্বে সেনাসদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
ইউএনও রাফে মোহাম্মদ ছড়া বলেন, “সেনাসদস্যদের হস্তক্ষেপে বর্তমানে এলাকার পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। যেকোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।”
এদিকে স্থানীয়রা জানিয়েছেন, গ্রামে এখনো উত্তেজনা বিরাজ করছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর টহল জোরদার করা হয়েছে এবং পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে প্রশাসন।
ইএইচ