আমার সংবাদ ডেস্ক
জুলাই ১২, ২০২৬, ১২:৪৪ এএম
সারাদেশে দুর্যোগকবলিত এলাকায় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় সরকার উদ্ধার, সুরক্ষা, ত্রাণ ও পুনর্বাসনের কাজ করে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও তাঁর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহ্দী আমিন।
তিনি বলেন, দেশজুড়ে প্রবল বৃষ্টিপাতের ধারাবাহিকতায় বেশ কিছু জায়গায় বন্যা, পাহাড় ধস ও জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষভাবে চট্টগ্রাম বিভাগের চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি এবং বান্দরবান এই পাঁচটি জেলায় জনমানুষের অবর্ণনীয় কষ্টের সৃষ্টি হয়েছে।
শনিবার বিকেলে রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ‘করবী’ হলে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে তিনি এইসব কথা বলেন। বন্যা পরিস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রীর উদ্যোগ নিয়ে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
মাহ্দী আমিন বলেন, প্রধানমন্ত্রী সার্বক্ষণিক এই বিষয়টি মনিটরিং করছেন এবং তাঁর বিভিন্ন টিমের সদস্যদের মাধ্যমে মনিটরিং করাচ্ছেন। গতকাল পাঁচ জেলার রাষ্ট্র পরিচালনার সঙ্গে সম্পৃক্ত, সরকারের ভেতরে থেকে স্থানীয় প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কমিশনার, ডিআইজি, ডিসি, এসপি, সিভিল সার্জন, ফায়ার সার্ভিসের সবার সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বৈঠক করেছেন।
সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা দিয়েছেন, কীভাবে জনগণের পাশে থাকতে হবে। আগামীকালও প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের সব বিভাগীয় কমিশনারদের সাথে আলোচনা করবেন। তাদের মতামত নেবেন এবং তাঁর নির্দেশনা দেবেন। উদ্ধার তৎপরতার ক্ষেত্রে স্থানীয় প্রশাসন এবং রাষ্ট্রযন্ত্রের সব অনুষঙ্গ অর্থাৎ একদম ইউএনও থেকে শুরু করে ডিসি, এসপি, আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে যুক্ত প্রত্যেকে, ওসি থেকে শুরু করে প্রতিটি পর্যায়ের সংশ্লিষ্টতা নিশ্চিত করা হয়েছে।
বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রতিটি মন্ত্রণালয় যার যার জায়গা থেকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে উল্লেখ করে মাহ্দী আমিন বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় একটি সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। এর পাশাপাশি এরইমধ্যে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী চট্টগ্রামে গেছেন এবং প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা সরাসরি মনিটরিং করছেন। স্থানীয় সংসদ সদস্যরা সবাই যার যার এলাকায় ছুটে গেছেন। বিশেষভাবে, চট্টগ্রাম বিভাগের প্রতিটি স্থানে স্থানীয় সংসদ সদস্য এবং রাজনৈতিক নেতারা কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে একদম তৃণমূলে গিয়ে কাজ করার চেষ্টা করছেন।
বন্যাকবলিত এলাকায় প্রধানমন্ত্রী এরইমধ্যে অর্থনৈতিক অনুদান নিশ্চিত করেছেন উল্লেখ করে মাহ্দী আমিন বলেন, প্রায় ২ কোটি টাকারও বেশি অর্থ খুব দ্রুত গতিতে সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দিয়েছেন। বিভিন্ন ধরনের ত্রাণ সামগ্রী প্রতিটি পরিবারের কাছে পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছেন। যারা অর্থনৈতিকভাবে বিপদগ্রস্ত হয়েছেন, যাদের ঘরবাড়ি বিলীন হয়ে গেছে, তাদের প্রায় প্রতিটি পরিবারের কাছে চালসহ সব ধরনের সহযোগিতা পৌঁছে দেওয়ার জন্য প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
পানিবাহিত রোগের একটি বিশাল সমস্যা সৃষ্টি হতে পারে উল্লেখ করে মাহ্দী আমিন জানান, সে বিষয়ে মেডিকেল টিমকে মোবিলাইজ করা হয়েছে। দেশজুড়ে ওষুধ-বিশেষভাবে সাপের দংশন এবং ভ্যাকসিনের জন্য প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। পানি নেমে যাওয়ার পর স্বাভাবিকভাবে রাস্তা এবং রেলপথকে মেরামত করতে হবে। এজন্য সংশ্লিষ্ট এলজিইডি এবং রোডস অ্যান্ড হাইওয়েসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরকে প্রস্তুতির জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
এক হাজারেরও বেশি আশ্রয়কেন্দ্র চালু করা হয়েছে উল্লেখ করে মাহ্দী আমিন বলেন, প্রত্যেকটিতে খাদ্য, পানি এবং স্যানিটেশনকে বিশেষ প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন জায়গায় মোবাইল নেটওয়ার্কে সমস্যা দেখা দিয়েছে, যাতে কিছু ক্ষেত্রে যোগাযোগের ঘাটতি হচ্ছে। তারপরও যতটা সম্ভব আমাদের স্থানীয় নেতাকর্মী, সরকার ও স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সম্পৃক্তরা সেই সংযোগকে আরেকটু মেরামত করতে পারেন, মানুষের সঙ্গে মানুষের জনসম্পৃক্ততা বাড়াতে পারেন, সেগুলো নিয়ে কাজ করছেন।
মাহ্দী আমিন বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্ব এবং নির্দেশনায় আমরা একইসঙ্গে উদ্ধার, ত্রাণ এবং পুনর্বাসন- এই তিনটি নিয়ে কাজ করার জন্য চেষ্টা করে যাচ্ছি। যখন একটি জাতির জন্য দুর্যোগের ঘনঘটা নেমে আসে, তখনই কিন্তু ঐক্যবদ্ধ হওয়ার সময়। একটা নির্বাচিত সরকার তাদের সর্বোচ্চ দায়বদ্ধতা, আন্তরিকতা এবং গভীর মমত্ববোধ দিয়ে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় পাঁচটি জেলায় এবং সারা বাংলাদেশজুড়ে যে প্রবল বৃষ্টিপাত, বন্যা, পাহাড়ধস এবং জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে, সেটিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য কাজ করে যাচ্ছে।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এই মুখপাত্র জানান, দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতির কারণে চট্টগ্রাম বোর্ডের এইচএসসি ও সমমনা সব পরীক্ষা আগামী ১৬ জুলাই পর্যন্ত স্থগিত করা হয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব মো. সুজাউদ্দৌল্লা (সুজন মাহমুদ) ও শাহাদাৎ হোসেন স্বাধীন, প্রধানমন্ত্রীর সহকারী প্রেস সচিব কে এম নাজমুল হক ও আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ শাহরিয়ার।
জেএইচআর