ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Amar Sangbad

ইনস্টাগ্রাম

Amar Sangbad

এক্স

Amar Sangbad


লিংকডইন

Amar Sangbad

পিন্টারেস্ট

Amar Sangbad

গুগল নিউজ

Amar Sangbad


হোয়াটস অ্যাপ

Amar Sangbad

টেলিগ্রাম

Amar Sangbad

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Amar Sangbad


ফিড

Amar Sangbad

ঢাকা শনিবার, ১৮ জুলাই, ২০২৬

জজ থেকে জননেতা: বীর মুক্তিযোদ্ধা রেজাউল করিম খান চুন্নু

রায়হান জামান, কিশোরগঞ্জ

রায়হান জামান, কিশোরগঞ্জ

ডিসেম্বর ২২, ২০২৫, ০২:২৬ পিএম

জজ থেকে জননেতা: বীর মুক্তিযোদ্ধা রেজাউল করিম খান চুন্নু

বাংলাদেশের রাজনীতিতে এমন কিছু ব্যক্তিত্ব আছেন, যাদের জীবনপথ কেবল ক্ষমতার রাজনীতির গল্প নয়; বরং দায়িত্ববোধ, ত্যাগ ও আদর্শের অনন্য দৃষ্টান্ত। কিশোরগঞ্জের কৃতি সন্তান বীর মুক্তিযোদ্ধা রেজাউল করীম খান চুন্নু ঠিক তেমনই এক ব্যতিক্রমী নাম। 

বিচার বিভাগে উজ্জ্বল ক্যারিয়ার ছেড়ে জনকল্যাণের কথা ভেবে রাজনীতিতে স্বেচ্ছায় অবতরণ করা তার জীবন সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে বিরল উদাহরণ হিসেবেই বিবেচিত।

রেজাউল করীম খান চুন্নু ঢাকা বিভাগীয় স্পেশাল জজ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। পাশাপাশি বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিসের (বিজেএসসি) তিনবারের মহাসচিব হিসেবে তিনি দক্ষতা ও সুনামের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেন।

বিচারপতি হওয়ার যোগ্যতা যখন প্রায় নিশ্চিত, তখনই তিনি জীবনের মোড় ঘুরিয়ে নেন। ব্যক্তিগত ক্যারিয়ারের শীর্ষ মুহূর্তে সরকারী চাকরি থেকে ইস্তফা দিয়ে মানুষের কাতারে দাঁড়ানোর এই সিদ্ধান্ত রাজনৈতিক অঙ্গনে আজও আলোচিত।

মুক্তিযুদ্ধেও ছিল তার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। কিশোরগঞ্জ জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি তিনি কেন্দ্রীয় মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিলের ভাইস প্রেসিডেন্ট ছিলেন। মুক্তিযুদ্ধ ও রাষ্ট্রগঠনের আদর্শই তাঁর রাজনীতির ভিত্তি নির্মাণ করে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালেই শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের মাধ্যমে তার রাজনীতিতে হাতেখড়ি। ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের প্রতিষ্ঠাকালীন ২৭ নম্বর সদস্য ছিলেন তিনি। সে সময় থেকেই অনেকের ধারণা ছিল, সুশৃঙ্খল রাজনীতিতে এগোতে পারলে তিনি নিজের সময়ের বহু রাজনীতিককে ছাড়িয়ে যেতে পারবেন।

রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শাহাদাতের পরের বছর বিসিএসের মাধ্যমে বিচার বিভাগে যোগ দিলেও রাজনীতির টান কখনোই তাঁর ভেতর থেকে মুছে যায়নি। দীর্ঘদিন বিচারিক দায়িত্ব পালনের পর ২০০৬ সালে সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি হওয়ার সুযোগ তৈরি হলেও তিনি সে পথে না গিয়ে নিজ জন্মভূমি কিশোরগঞ্জের মানুষের কথা ভেবে স্বেচ্ছায় সরকারি চাকরি থেকে ইস্তফা দেন। এরপর যোগ দেন শহীদ জিয়ার প্রতিষ্ঠিত দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-তে।

২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কিশোরগঞ্জ-১ (সদর-হোসেনপুর) আসনে বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী ছিলেন তিনি। বহুল আলোচিত ও বিতর্কিত সেই নির্বাচনে বিএনপির বহু নেতাকর্মীর মতো চুন্নুকেও চরম চাপ ও ঝুঁকির মধ্য দিয়ে সময় পার করতে হয়।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, যখন সাধারণ অনলাইন অ্যাক্টিভিস্টদের নিরাপত্তা নিয়েই প্রশ্ন উঠেছিল, তখন মাঠপর্যায়ের একজন প্রার্থীর পরিস্থিতি যে কতটা ভয়াবহ ছিল, তা সহজেই অনুমেয়।

তবে ওই নির্বাচনে কিশোরগঞ্জ-১ আসনে রেজাউল করীম খান চুন্নুর জনপ্রিয়তা ছিল চোখে পড়ার মতো। আওয়ামী লীগের তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের বিপরীতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে ভোট গণনার প্রথম এক থেকে দেড় ঘণ্টার মধ্যেই তিনি ঢাকা বিভাগে সর্বোচ্চ ভোটপ্রাপ্ত প্রার্থী হিসেবে চমক দেখান।

এদিকে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে কিশোরগঞ্জ-১ আসনে রেজাউল করীম খান চুন্নুকে মনোনয়ন না দেওয়াকে কেন্দ্র করে উত্তাপ বাড়ছে। গত ৪ ডিসেম্বর মনোনয়ন ঘোষণার পর থেকেই জেলা বিএনপির নেতাকর্মী ও চুন্নু সমর্থকদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দেয়। মনোনয়ন বাতিলের দাবিতে প্রতিদিন নানা কর্মসূচি সংবাদ সম্মেলন, মশাল মিছিল ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করছে তারা।

এ বিষয়ে রেজাউল করীম খান চুন্নু বলেন, “আমি ২০০৬ সালের ১৭ এপ্রিল ঢাকা বিভাগীয় স্পেশাল জজ থাকা অবস্থায় চাকরি থেকে ইস্তফা দিয়ে ওই বছরের অক্টোবর মাসে বিএনপিতে যোগদান করি। ২০০৭ সালে দল আমাকে ধানের শীষ প্রতীক দিয়ে মনোনয়ন দেয়। কিন্তু জরুরি অবস্থার কারণে তখন নির্বাচন হয়নি। পরবর্তীতে সরকারি কর্মকর্তাদের চাকরি ছাড়ার তিন বছরের মধ্যে নির্বাচন করতে না পারার আইন হওয়ায় ২০০৯ সালের জানুয়ারির নির্বাচনে অংশ নিতে পারিনি। ২০১৪ সালে বিএনপি ও জোট নির্বাচনে না যাওয়ায় আমি মনোনয়ন পাইনি। তবে আওয়ামী লীগ স্বৈরাচারের সবচেয়ে কঠিন সময় ২০১৮ সালে দল আমাকে কিশোরগঞ্জ-১ আসনে মনোনয়ন দেয়। তৎকালীন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের বিপরীতে আমি প্রথম এক থেকে দেড় ঘণ্টার মধ্যেই ঢাকা বিভাগের সর্বোচ্চ ভোট পেয়েছিলাম। সুষ্ঠু নির্বাচন হলে মাত্র দুই-তিন ঘণ্টার মধ্যে লক্ষ ভোটের ব্যবধানে তাঁকে পরাজিত করতে পারতাম। কিন্তু ভোটের আগের রাতে ভোট নেওয়ার কারণে দলের নির্দেশে আমি নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াই।

মনোনয়ন প্রসঙ্গে ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, আমি আশাবাদী ছিলাম পরবর্তী নির্বাচনে দল আমাকে মনোনয়ন দেবে। কিন্তু দুঃখজনকভাবে বিশ্বস্ত সূত্রে জানতে পেরেছি, জেলা বিএনপির সভাপতি নানা মিথ্যাচারের মাধ্যমে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের কাছে প্রভাব খাটিয়ে এমন একজনকে মনোনয়ন করিয়েছেন, যার বিরুদ্ধে দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের অভিযোগ রয়েছে। কিশোরগঞ্জ-১ আসনের ভোটাররা বিষয়টি মেনে নেয়নি।

সাবেক সংসদ সদস্য মাসুদ হিলালী বলেন, বিচার বিভাগ থেকে রাজনীতিতে এসে রেজাউল করীম খান চুন্নুর এই দীর্ঘ পথচলা কেবল ব্যক্তিগত সংগ্রামের গল্প নয়, বরং আদর্শনিষ্ঠ রাজনীতির এক ব্যতিক্রমী অধ্যায়।

ইএইচ

Link copied!