আলী রেজা রাজু, সাভার (ঢাকা)
জানুয়ারি ২২, ২০২৬, ০৯:২৬ পিএম
ঢাকার সাভারে ভবঘুরে ছদ্মবেশে সাত মাসে ছয়জনকে হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার সবুজ শেখ ওরফে ‘স্যাইকো সম্রাট’-এর বিরুদ্ধে আগেও হত্যাসহ একাধিক মামলার তথ্য পেয়েছে পুলিশ। ভিন্ন ভিন্ন নাম ও ঠিকানা ব্যবহার করে দীর্ঘদিন ধরেই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে আসছিল এই দুর্ধর্ষ অপরাধী।
সাভার মডেল থানার পরিদর্শক (অপারেশন) মো. হেলাল উদ্দিন জানান, সবুজের বিরুদ্ধে নতুন করে তিনটি মামলার তথ্য মিলেছে। এর মধ্যে ২০১৪ সালে সাভারের শাপলা হাউজিং এলাকায় জুবায়ের ওরফে শাওন নামে এক যুবককে হত্যার ঘটনায় সে ছিল মামলার দ্বিতীয় আসামি। ওই মামলায় তার নাম ছিল ‘সম্রাট ওরফে টাইগার সম্রাট’। গ্রেপ্তারের পর তখন সে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দিয়েছিল।
ঠিকানা বদলের কৌশল তদন্তে জানা গেছে, ২০১৯ ও ২০২৩ সালে সাভার মডেল থানায় সবুজের বিরুদ্ধে দুটি মাদক মামলাও রয়েছে। পুলিশ জানায়, বিভিন্ন মামলায় সে রাজধানীর আরমানিটোলা ও কেরানীগঞ্জের আঁটিবাজারসহ ভিন্ন ভিন্ন ঠিকানা ব্যবহার করলেও বাবার নাম কখনো পরিবর্তন করেনি। জাতীয় পরিচয়পত্র না থাকায় এবং ঘনঘন নাম-ঠিকানা বদল করায় তাকে শনাক্ত করতে পুলিশকে বেশ বেগ পেতে হয়েছে।
পুলিশ কর্মকর্তা হেলাল উদ্দিন বলেন, ঠিকানা ও নাম বদলের ধরণ থেকেই স্পষ্ট যে, সে অনেক আগে থেকেই ভাসমান ও ছদ্মবেশী জীবনযাপন করে আসছিল।
হত্যাকাণ্ডের রোমহর্ষক স্বীকারোক্তি গত ১৭ জানুয়ারি সাভারের পরিত্যক্ত একটি কমিউনিটি সেন্টার থেকে দুইজনের পোড়া মরদেহ উদ্ধারের পর সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে সবুজ শেখকে গ্রেপ্তার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে সে গত সাত মাসে অন্তত ছয়জনকে হত্যার কথা স্বীকার করেছে, যাকে সে সাংকেতিকভাবে ‘থার্টি ফোর’ বলে উল্লেখ করে।
পুলিশের নথি অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ৪ জুলাই থেকে ২০২৬ সালের ১৮ জানুয়ারি পর্যন্ত এই ছয়টি হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় সাভার মডেল থানায় বর্তমানে পাঁচটি পৃথক মামলা দায়ের করা হয়েছে।
জেএইচআর