গাজীপুর প্রতিনিধি
এপ্রিল ৪, ২০২৬, ০১:৫০ পিএম
গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (গাকৃবি) কৃষিতত্ত্ব বিভাগের গবেষকদের দীর্ঘ ১০ বছরের নিরলস প্রচেষ্টায় উদ্ভাবিত হয়েছে স্বল্পমেয়াদী ও উচ্চ ফলনশীল আউশ ধানের নতুন জাত ‘জিএইউ ধান-৪’। প্রখ্যাত কৃষিতত্ত্ববিদ প্রফেসর ড. এম. ময়নুল হক এবং প্রফেসর ড. মো. মসিউল ইসলামের নেতৃত্বে এই গবেষণা পরিচালিত হয়।
এই নতুন জাতটি যুক্ত হওয়ার মাধ্যমে গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভাবিত ফসলের মোট জাতের সংখ্যা দাঁড়ালো ৯৫টি, যার মধ্যে ধানের জাত ৪টি। গত ৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে জাতীয় বীজ বোর্ডের ১১৫তম সভায় জাতটির আনুষ্ঠানিক অনুমোদন দেওয়া হয়।
গবেষণা সূত্রে জানা গেছে, প্রচলিত আউশ জাত ‘পারিজা’ এবং উচ্চ ফলনশীল চিকন জাত ‘বিইউ ধান-২’-এর সংকরায়ণের মাধ্যমে এই জাতটি উদ্ভাবন করা হয়েছে। ‘জিএইউ ধান-৪’ চাষে কৃষকরা মাত্র ৩ মাস থেকে ৩ মাস ১০ দিনের মধ্যেই ফসল ঘরে তুলতে পারবেন। স্বল্প সময়ে পরিপক্ব হওয়ায় জমি দ্রুত খালি হবে, ফলে বছরে তিন থেকে চারটি ফসল উৎপাদনের সুযোগ তৈরি হবে। বিশেষ করে উত্তরাঞ্চলের মঙ্গাপীড়িত এলাকায় এই জাতটি কৃষকদের জন্য অত্যন্ত লাভজনক হবে।
পুষ্টিগুণের দিক থেকেও এই ধান বেশ সমৃদ্ধ। এতে প্রায় ২৪.৫৮ শতাংশ অ্যামাইলেজ এবং ৮.৩৮ শতাংশ প্রোটিন রয়েছে, যা মানবদেহের শক্তি উৎপাদন ও কোষ মেরামতে সহায়ক। অনুকূল পরিবেশে এই জাতটি হেক্টরপ্রতি ৫ থেকে ৫.৫ টন পর্যন্ত ফলন দিতে সক্ষম। এটি রোগবালাই প্রতিরোধী হওয়ায় সাধারণ জাতের তুলনায় ১০-১৫ শতাংশ বেশি ফলন পাওয়া সম্ভব।
চাষাবাদের পদ্ধতি সম্পর্কে উদ্ভাবকরা জানান, এপ্রিল মাসের প্রথম সপ্তাহ বীজ বপনের উপযুক্ত সময়। বেলে দো-আঁশ বা এটেল দো-আঁশ মাটিতে ২০-২২ দিনের চারা রোপণ করলে ভালো ফলন পাওয়া যায়। প্রতি হেক্টরে মাত্র ২৫-৩০ কেজি বীজের প্রয়োজন হয়।
জাতটির অন্যতম উদ্ভাবক প্রফেসর ড. মো. মসিউল ইসলাম বলেন, আমাদের লক্ষ্য ছিল স্বল্প সময়ে অধিক ফলনশীল ও বাজারযোগ্য চিকন ধানের জাত উদ্ভাবন করা। এটি কৃষকের আয় বাড়ানোর পাশাপাশি দেশের খাদ্য নিরাপত্তা জোরদারে ভূমিকা রাখবে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. জিকেএম মোস্তাফিজুর রহমান এই সাফল্যে গবেষকদ্বয়কে অভিনন্দন জানিয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেন, এই উদ্ভাবন গবেষকদের মেধা ও নিষ্ঠার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত, যা ভবিষ্যতে দেশের কৃষি উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে।
জেএইচআর