আমার সংবাদ ডেস্ক
মে ২৫, ২০২৬, ০২:৩৪ পিএম
মানিকগঞ্জ সদর উপজেলায় পারিবারিক কলহের জেরে সাথী আক্তার (২৮) নামে এক গৃহবধূকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তাঁর আপন ভাগনে রিপন মিয়ার বিরুদ্ধে। হত্যাকাণ্ডের পর কয়েক ঘণ্টা মরদেহের পাশেই ধারালো অস্ত্র নিয়ে অবস্থান করেন অভিযুক্ত। এই সময় তিনি নিজের ফেসবুক আইডিতে একটি স্টোরিও দেন।
রোববার রাত সাড়ে ৮টার দিকে সদর উপজেলার কাটিগ্রাম এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। নিহত সাথী আক্তার ওই এলাকার প্রবাসী শুকুর আলীর স্ত্রী। অভিযুক্ত রিপন মিয়া (২০) সম্পর্কে শুকুর আলীর ভাগনে। স্থানীয়ভাবে তিনি গাড়ি চালানো শিখতেন এবং পাশাপাশি গাড়ি ধোয়ার কাজ করতেন বলে জানা গেছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রাতে বাড়ির ভেতরে সাথী আক্তারের সঙ্গে রিপন মিয়ার কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে ক্ষিপ্ত হয়ে রিপন ধারালো অস্ত্র দিয়ে সাথীর গলায় আঘাত করেন। এতে ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়। হত্যাকাণ্ডের পর রাত ১১টা পর্যন্ত ঘরের দরজা ভেতর থেকে আটকে মরদেহের পাশেই বসে ছিলেন রিপন মিয়া। এই সময় তাঁর হাতে হত্যায় ব্যবহৃত ধারালো অস্ত্র ছিল বলেও জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
এদিকে ঘরে অবস্থান করার সময় নিজের ফেসবুক আইডিতে একটি স্টোরি দেন রিপন। সেখানে লেখা ছিল, ‘জীবনের লাস্ট স্টোরি, আমাকে মাফ করে দিয়েন।’
খবর পেয়ে মানিকগঞ্জ সদর থানা পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে এবং অভিযুক্ত রিপন মিয়াকে আটক করে।
মানিকগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইকরাম হোসেন জানান, ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে রিপন মিয়াকে আটক করা হয়েছে। নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মানিকগঞ্জ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। এই ঘটনায় একটি হত্যা মামলা দায়েরসহ আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
জেএইচআর