ফেনী প্রতিনিধি
জুন ১৬, ২০২৬, ০৭:১২ পিএম
ফেনীর মুহুরী ও কহুয়া নদীর বন্যা নিয়ন্ত্রণ, সেচ ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং নদী তীরবর্তী জনপদ রক্ষায় ১ হাজার ৫৪২ কোটি টাকার একটি মেগা প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)।
মঙ্গলবার সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপারসন তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের ভয়াবহ বন্যায় ফেনীর বিভিন্ন নদীতে পলি জমে স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয় এবং নদী রক্ষা বাঁধগুলোর ব্যাপক ক্ষতি হয়। ফলে সামান্য বৃষ্টি বা উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে প্রায়ই বন্যার সৃষ্টি হচ্ছিল। এই সমস্যার স্থায়ী সমাধানেই ‘মুহুরী-কহুয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নিষ্কাশন ও সেচ প্রকল্পের পুনর্বাসন (১ম পর্যায়)’ শীর্ষক প্রকল্পটি হাতে নেওয়া হয়েছে।
এই প্রকল্পের আওতায় ফেনীর ফুলগাজী, পরশুরাম, ছাগলনাইয়া, সোনাগাজী ও সদর উপজেলার প্রায় ১৪ হাজার ২০৯ কোটি টাকার সম্পদ সুরক্ষার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রকল্পের আওতায় ১১.৭৩ কিলোমিটার নদী তীর প্রতিরক্ষা কাজ, ৬৭.৯২ কিলোমিটার বাঁধ পুনর্বাসন, ৮৩.৫০ কিলোমিটার জলাধার ও নদী পুনঃখনন, ২৭টি সেচ অবকাঠামো সংস্কার এবং ৭৭টি ইনলেট নির্মাণ করা হবে।
প্রকল্পটি চলতি বছরের জুলাই মাস থেকে শুরু হয়ে ২০৩১ সালের জুনের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। এটি বাস্তবায়িত হলে প্রকল্প এলাকায় বার্ষিক ৩ লাখ ৭১ হাজার ৭৩৫ টন কৃষি পণ্য ও উল্লেখযোগ্য পরিমাণ মৎস্য ও পোলট্রি সম্পদ রক্ষা পাবে।
ফেনী পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী হাসান মাহমুদ জানান, ২০২৪ সালের বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধগুলো বর্তমানে বেশ দুর্বল অবস্থায় রয়েছে। এই প্রকল্পের মাধ্যমে বাঁধ সংস্কারের পাশাপাশি নদী পুনঃখনন ও এলিভেটেড ড্যাম নির্মাণ করা হবে। এতে সেচ ব্যবস্থার উন্নতির পাশাপাশি নদীকেন্দ্রিক জীববৈচিত্র্য সংরক্ষিত হবে এবং আকস্মিক বন্যার ঝুঁকি অনেকাংশে কমে আসবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে স্থানীয় অর্থনীতিতে নতুন গতি সঞ্চার হবে এবং ভূগর্ভস্থ পানির ওপর নির্ভরতা কমে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে। জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় এই ধরনের নদী ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে আশা করছে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)।
জেএইচআর