মিজানুর রহমান মিজান, লালমনিরহাট
জুন ২১, ২০২৬, ০৬:৪৬ পিএম
উজানের পাহাড়ি ঢল ও টানা বৃষ্টিতে লালমনিরহাটে তিস্তা নদীর পানি আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। রোববার দুপুর ১২টায় তিস্তা ব্যারাজের ডালিয়া পয়েন্টে নদীর পানি বিপৎসীমার মাত্র ১৫ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হওয়ার রেকর্ড করা হয়েছে। গত শনিবার থেকেই পানি বিপৎসীমার কাছাকাছি অবস্থান করায় ব্যারাজের ভাটিতে থাকা নিম্নাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টির প্রবল আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
পানি ক্রমাগত বাড়তে থাকায় তিস্তার বিস্তীর্ণ চরাঞ্চল ইতোমধ্যে পানিতে তলিয়ে যেতে শুরু করেছে। নদীর তীরবর্তী নিম্নাঞ্চলের বসতবাড়ি ও আবাদি জমিতেও পানি ঢুকতে শুরু করেছে। তবে বর্তমানে মাঠে উল্লেখযোগ্য কোনো মৌসুমী ফসল না থাকায় কৃষকদের বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির শঙ্কা নেই বলে জানা গেছে।
হাতীবান্ধার গড্ডিমারী গ্রামের কৃষক সামাদ মিয়া বলেন, সকাল থেকে পানি বাড়ছে। এভাবে পানি বাড়তে থাকলে চরাঞ্চলের ধানের চারা, বাদাম ও মিষ্টিকুমড়াসহ বিভিন্ন ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হবে।
তিস্তাপাড়ের আরেক কৃষক সাইদুল ইসলাম বলেন, তিস্তার পানি বাড়ছে-কমছে। এতে তাঁরা আতঙ্কে আছেন। পানি আরও বাড়লে আমন ধানের বীজতলা নষ্ট হয়ে যাবে।
আদীতমারী উপজেলার গোবর্ধন এলাকার কৃষক শরিফুল ইসলাম বলেন, তিস্তা নদীর পানি কানায় কানায় পরিপূর্ণ। তাঁরা এখনো বাড়িতে অবস্থান করছেন, তবে পানি আরেকটু বাড়লে নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে হবে। কয়েক দিন ধরে দিনে বৃষ্টি না হলেও প্রত্যেক রাতেই বৃষ্টি হচ্ছে। এ ছাড়া উজান থেকে পাহাড়ি ঢলের পানি হু হু করে আসছে।
বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) জানিয়েছে, উজানের ঢল ও ভারী বৃষ্টির কারণে আগামী ৪৮ ঘণ্টায় উত্তরাঞ্চলের নদ-নদীর পানি আরও বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমার কাছাকাছি পৌঁছাতে পারে। এতে করে স্বল্পমাত্রার বন্যা দেখা দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। যেকোনো ধরনের দুর্যোগ মোকাবিলায় লালমনিরহাট পাউবো সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে।
লালমনিরহাট পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সুনীল কুমার বলেন, মূলত উজানের ঢল এবং ভারী বৃষ্টিপাতের কারণেই তিস্তা ও ধরলায় বন্যার সৃষ্টি হয়। শনিবার থেকেই তিস্তার পানি বিপৎসীমার ১৫ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে এবং বৃষ্টির কারণে পানি ওঠানামা করছে।
জেএইচআর