আমার সংবাদ ডেস্ক
জুন ২৫, ২০২৬, ০২:০১ পিএম
লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে একটি ভাড়া বাসায় ঢুকে মা ও তাঁর দুই মেয়েকে ধারালো দা দিয়ে কুপিয়ে নৃশংসভাবে হত্যা করার অভিযোগ উঠেছে এক যুবকের বিরুদ্ধে। বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টার দিকে উপজেলার রায়পুর পৌর শহরের টিনহাটা সংলগ্ন এলাকায় এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন- শাহীনুর বেগম (৪০) এবং তাঁর দুই মেয়ে ইকরা বেগম (১৮) ও সিপা বেগম (১০)। নিহতদের মধ্যে ইকরা দ্বাদশ শ্রেণি এবং সিপা চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিলেন। এই হামলায় শাহীনুরের বড় মেয়ে ছায়মা আক্তারও (২১) মারাত্মকভাবে জখম হয়েছেন। তাঁকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহতদের স্থায়ী বাড়ি কুমিল্লা জেলার হোমনা থানায়। তাঁরা দীর্ঘদিন ধরে রায়পুর পৌর এলাকার ওই বাসায় ভাড়া থাকতেন। আজ দুপুরে আনুমানিক ৩০ বছর বয়সী এক যুবক আচমকা ধারালো দা হাতে নিয়ে ওই বাসায় প্রবেশ করে। এরপর কিছু বুঝে ওঠার আগেই সে ঘরে থাকা মা ও তিন মেয়ের ওপর এলোপাতাড়ি হামলা চালিয়ে রক্তাক্ত জখম করে। ধারালো অস্ত্রের উপর্যুপরি আঘাতে ঘটনাস্থলেই দুই বোনের মৃত্যু হয়।
চিৎকার শুনে প্রতিবেশীরা এগিয়ে এলে ঘাতক যুবক পালানোর চেষ্টা করে। তবে স্থানীয় জনতা ধাওয়া করে ওই যুবককে আটক করে এবং গণপিটুনি দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে তাঁর বিস্তারিত পরিচয় নিশ্চিত করতে পারেনি পুলিশ।
রায়পুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) মামুনুর রশিদ জানান, হাসপাতালে নিয়ে আসার আগেই দুই বোনের মৃত্যু হয়েছিল। আর গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মায়েরও মৃত্যু হয়। নিহত তিনজনেরই শরীর ও গলায় ধারালো অস্ত্রের গভীর আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। আহত অন্য তরুণীর অবস্থাও বেশ আশঙ্কাজনক।
রায়পুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীন মিয়া ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, হত্যাকাণ্ডের খবর পাওয়া মাত্রই পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছে। হামলার অভিযোগে এক ব্যক্তিকে হাতেনাতে আটক করা হয়েছে। ঠিক কী কারণে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে, তা অনুসন্ধানে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। এই বিষয়ে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।
জেএইচআর