মহসিন তালুকদার, মাদারীপুর
জুলাই ১, ২০২৬, ০৭:৫৭ পিএম
মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলার বাঁশগাড়ি ইউনিয়নের কানুরগাঁও এলাকায় ড্রেজার বসিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের মহোৎসব চলছে। দীর্ঘদিন ধরে চলা এই বেআইনি কর্মকাণ্ডের কারণে স্থানীয়দের বসতভিটা, ফসলি জমি ও পরিবেশ মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে। এতে তীব্র ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে এলাকাবাসীর মধ্যে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, কানুরগাঁও এলাকার বাসিন্দা কাসেম সিকদার আইন-কানুনের তোয়াক্কা না করে নদী ও খাল থেকে ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলন করছেন। এতে করে তীরবর্তী এলাকায় তীব্র ভাঙনঝুঁকি তৈরি হয়েছে। ইতোমধ্যে অনেক কৃষিজমি বিলীন হওয়ার উপক্রম হয়েছে এবং বেশ কিছু পরিবার ঘরবাড়ি হারানোর আশঙ্কায় দিন কাটাচ্ছে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, অভিযুক্ত কাসেম সিকদার বাঁশগাড়ি ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান জাকির হোসেনের ব্যক্তিগত সহকারী (পিএস) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। ফলে বালু উত্তোলনের পেছনে তাঁর প্রভাব রয়েছে বলে স্থানীয়দের ধারণা।
অবশ্য এ বিষয়ে সাবেক চেয়ারম্যান জাকির হোসেন তাঁর সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, কাসেম সিকদার এখন আর তাঁর সঙ্গে নেই। অবৈধ বালু উত্তোলনের বিষয়টি তিনি জানতে পেরেছেন এবং এ ব্যাপারে প্রশাসনের সঙ্গে কথাও বলেছেন। প্রশাসন অবশ্যই এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে। অন্যদিকে, মূল অভিযুক্ত কাসেম সিকদার তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা সব অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন।
কানুরগাঁও এলাকার সার্বিক পরিস্থিতি ও জনক্ষোভের বিষয়ে কালকিনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাইফ উল আরেফীন বলেন, অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে আমাদের অবস্থান জিরো টলারেন্স। প্রশাসন নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছে। কানুরগাঁওয়ের বিষয়টি নিয়ে সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে দ্রুত তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
জেএইচআর