বি.এম খোরশেদ, মানিকগঞ্জ
জুলাই ৯, ২০২৬, ০২:৩৯ পিএম
মানিকগঞ্জের সিংগাইরে কিশোর সাকিবুল হত্যার রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। মরদেহ উদ্ধারের এক সপ্তাহ পর এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে আসাদুজ্জামান (৩৪) নামের একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পিবিআই জানিয়েছে, অটোরিকশায় যাতায়াতকে কেন্দ্র করে কথা-কাটাকাটি ও হাতাহাতির একপর্যায়ে কাদায় মাথা চেপে ধরে শ্বাসরোধ করে সাকিবুলকে হত্যা করা হয়।
গ্রেপ্তার আসাদুজ্জামান মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার নতুন পাড়া বড়ন্ডি গ্রামের হাফেজ মো. ইদ্রিস আলীর ছেলে। সে বর্তমানে সাভারের হেমায়েতপুর যাদুরচর এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করত। বৃহস্পতিবার দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে জেলা পিবিআইয়ের পুলিশ সুপার জয়িতা শিল্পী এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
পুলিশ সুপার জানান, গত ১ জুলাই সিংগাইর উপজেলার গোলাইডাঙ্গা এলাকার একটি পাটক্ষেত থেকে মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার মিত্রা গ্রামের রহমত আলীর ছেলে সাকিবুলের (১৬) মরদেহ উদ্ধার করা হয়। মরদেহের পাশেই পড়ে ছিল তার বাবার অটোরিকশাটি। ঘটনার পর হত্যার রহস্য উদঘাটনে ছায়া তদন্ত শুরু করে পিবিআই।
তদন্তে জানা যায়, সাকিবুলের বাবা অটোচালক রহমত আলী অসুস্থ থাকায় সংসারে চরম টানাপোড়েন শুরু হয়। বড় ছেলে সাকিবুল সংসারের এই কষ্ট দূর করতে গত ৩০ জুন বাবার অটোরিকশাটি নিয়ে প্রথমবার চালাতে বের হয়। ওই দিন সিংগাইরের গোলাইডাঙ্গা যাওয়ার উদ্দেশ্যে রিকশাটি ভাড়া নেয় আসাদুজ্জামান। মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় আহত থাকায় ভাঙাচোরা রাস্তায় রিকশাটি আস্তে চালাতে বলেছিল সে। কিন্তু ভাঙা রাস্তায় সাকিবুল জোরে রিকশা চালালে আসাদুজ্জামান ব্যথা পায়। এই নিয়ে সাকিবুলকে গালাগাল করলে সে আসাদুজ্জামানকে ঘুষি মারে এবং দুজনের মধ্যে হাতাহাতি শুরু হয়। একপর্যায়ে দুজনই রাস্তার পাশে পড়ে গেলে ক্ষিপ্ত হয়ে আসাদুজ্জামান কাদার মধ্যে সাকিবুলের মাথা উপুড় করে চেপে ধরে। এতে শ্বাসরোধ হয়ে ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারায় কিশোর সাকিবুল।
হত্যাকাণ্ডের পর অভিযুক্ত আসাদুজ্জামান সাভারের হেমায়েতপুর এলাকায় গিয়ে আত্মগোপন করে। পরবর্তীতে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় গত ৮ জুলাই সেখান থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে পিবিআই। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সে হত্যাকাণ্ডের কথা স্বীকার করে পুরো ঘটনার বর্ণনা দিয়েছে।
পুলিশ সুপার জয়িতা শিল্পী আরও জানান, এই হত্যাকাণ্ডের প্রাথমিক কোনো ‘ক্লু’ ছিল না। ঘটনাস্থলে অটোরিকশা, নিহত সাকিবের মোবাইল ফোন এবং একটি জুতা পড়ে ছিল। তদন্তের সময় একটি সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজে দেখা যায়, সাকিবুল অটোরিকশায় একজন যাত্রী নিয়ে গোলাইডাঙ্গার দিকে যাচ্ছে। সেই ফুটেজকে সূত্র ধরে ছদ্মবেশে ও নানা কৌশলে অভিযুক্তের নাম-পরিচয় শনাক্ত করে পিবিআই। এরপর তাকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে সে নিজের অপরাধ স্বীকার করে।
জেএইচআর