আমার সংবাদ ডেস্ক
জুলাই ১১, ২০২৬, ১২:৫৫ পিএম
খুলনায় ১৬ বছর বয়সী কিশোরী আরফানা হোসেন নির্জনা হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনের দাবি করেছে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ (কেএমপি)। পুলিশের দাবি, মেয়ের প্রেমের সম্পর্ককে কেন্দ্র করে পারিবারিক বিরোধের জেরে তাকে হত্যা করেন তার বাবা-মা। পরে মরদেহ প্লাস্টিকের বস্তায় ভরে নগরীর প্রান্তিকা আবাসিক এলাকার একটি সড়কে ফেলে রেখে ঘটনাটি ভিন্নখাতে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়। ঘটনার মাত্র ৩৬ ঘণ্টার মধ্যেই তদন্তে হত্যার রহস্য উন্মোচন করেছে পুলিশ।
শনিবার সকালে কেএমপির কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ জাহিদুল হাসান এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে নিহতের মা আরিফা ইয়াসমিন সিমা (৩৫)-কে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তিনি আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। অন্যদিকে, মামলার অপর আসামি নিহতের বাবা মো. আলিম হোসেন আকাশকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
পুলিশ জানায়, গত ৮ জুলাই রাত ৯টার দিকে খুলনা সদর থানার প্রান্তিকা আবাসিক এলাকার ৩ নম্বর সড়কে একটি প্লাস্টিকের বস্তার ভেতর কিশোরীর মরদেহ পড়ে থাকার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যায় পুলিশ। পরে মরদেহ উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয় এবং হত্যার তদন্ত শুরু হয়।
ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনায় পিবিআই, সিআইডিসহ বিভিন্ন সংস্থার সহযোগিতায় নিহতের পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চালানো হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছবি প্রকাশ, বেতার বার্তা প্রচার এবং বিভিন্ন উৎস থেকে তথ্য সংগ্রহের মাধ্যমে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে নিহতের পরিচয় নিশ্চিত করা হয়। নিহত কিশোরী সোনাডাঙ্গা থানার বসুপাড়া এলাকার বাসিন্দা আরফানা হোসেন নির্জনা।
তদন্তের একপর্যায়ে নির্জনার মা আরিফা ইয়াসমিন সিমাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তিনি প্রথমে বিভ্রান্তিকর তথ্য দিলেও পরে হত্যাকাণ্ডে নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, নির্জনার একাধিক ছেলের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক নিয়ে পরিবারে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। ঘটনার দিন এ বিষয়কে কেন্দ্র করে তর্ক-বিতর্কের একপর্যায়ে বাবা লাঠি দিয়ে নির্জনার মাথায় একাধিক আঘাত করেন। এতে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তার মৃত্যু হয়। পরে বাবা-মা মিলে মরদেহ প্লাস্টিকের বস্তায় ভরে খুলনা সদর থানার প্রান্তিকা আবাসিক এলাকার একটি সড়কে ফেলে রেখে ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেন।
পুলিশ আরও জানায়, নিহতের বাবা-মাই এ ঘটনায় অভিযুক্ত হওয়ায় পুলিশ বাদী হয়ে হত্যা মামলা দায়ের করেছে। পলাতক বাবাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
এএন