ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Amar Sangbad

ইনস্টাগ্রাম

Amar Sangbad

এক্স

Amar Sangbad


লিংকডইন

Amar Sangbad

পিন্টারেস্ট

Amar Sangbad

গুগল নিউজ

Amar Sangbad


হোয়াটস অ্যাপ

Amar Sangbad

টেলিগ্রাম

Amar Sangbad

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Amar Sangbad


ফিড

Amar Sangbad

ঢাকা শনিবার, ১৮ জুলাই, ২০২৬

জীবনদর্শনের সংঘাত ও ভিন্ন গন্তব্য, তাহসান-রোজার রূপকথার বিচ্ছেদ কেন অনিবার্য ছিল!

বিনোদন ডেস্ক

বিনোদন ডেস্ক

জানুয়ারি ১২, ২০২৬, ০২:৩৮ পিএম

জীবনদর্শনের সংঘাত ও ভিন্ন গন্তব্য, তাহসান-রোজার রূপকথার বিচ্ছেদ কেন অনিবার্য ছিল!

বিয়ের ঠিক এক বছর পূর্ণ হওয়ার আগেই বিচ্ছেদের পথে হাঁটলেন জনপ্রিয় তারকা তাহসান রহমান খান ও স্ত্রী রোজা আহমেদ। তাহসান নিজেই নিশ্চিত করেছেন যে, গত বছর ভালোবেসে বিয়ের পিঁড়িতে বসলেও বর্তমানে তাঁদের বৈবাহিক সম্পর্কের অবসান ঘটেছে। প্রেমের জোয়ারে ভেসে গত বছর পরিণয় সূত্রে আবদ্ধ হলেও বছর না ঘুরতেই দুজনের পথ এখন সম্পূর্ণ ভিন্ন দিকে মোড় নিয়েছে।

২০২৫ সালের শুরুর দিকে অনেকটা নিভৃতেই বিয়ের কাজ সেরেছিলেন তাহসান। পাত্রী ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী রূপসজ্জাশিল্পী রোজা আহমেদ। তাহসানের দ্বিতীয় বিয়ে নিয়ে তখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছিল। চার মাসের সংক্ষিপ্ত পরিচয় থেকে প্রণয় এবং এরপর পরিণয় সব মিলিয়ে তাঁদের শুরুটা ছিল অনেকটা রূপকথার মতো।

বিয়ের পর মালদ্বীপের হানিমুন কিংবা নিউ ইয়র্কের রাস্তায় বৃষ্টিতে ভেজার রোমান্টিক ভিডিও দেখে ভক্তরা ভেবেছিলেন তাহসান তাঁর জীবনের স্থায়ী সুখ খুঁজে পেয়েছেন। তবে বিচ্ছেদের খবরটি গত শনিবার প্রকাশ্যে এলেও সম্পর্কের ফাটল ধরেছিল অনেক আগেই। ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলোর দাবি, বিয়ের পর প্রেমের সেই রোমাঞ্চ যখন প্রাত্যহিক জীবনের বাস্তবতায় ধরা দেয় তখনই শুরু হয় মানসিক টানাপোড়েন।

গত সেপ্টেম্বর মাসে তাহসান যখন অস্ট্রেলিয়া সফরে যান তখনই মূলত তিনি ও রোজা আলাদা থাকতে শুরু করেন। মেলবোর্ন থেকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তাহসান গান ছাড়া এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে নিজেকে গুটিয়ে নেওয়ার যে ঘোষণা দিয়েছিলেন, তা আসলে ছিল তাঁর ভাঙা হৃদয়ের এক ধরনের আত্মরক্ষা। তাঁদের বিচ্ছেদের নেপথ্যে কোনো তৃতীয় ব্যক্তি বা বড় কোনো বিবাদ ছিল না।

জীবনযাপনের ধরনে আকাশ পাতাল পার্থক্যই ছিল এই বিচ্ছেদের মূল কারণ। ঘনিষ্ঠজনদের ভাষ্যমতে তাহসান চেয়েছিলেন তাঁর জীবনের দ্বিতীয় ইনিংসটি হবে অত্যন্ত ব্যক্তিগত ও নিরিবিলি। গ্ল্যামার জগত থেকে দূরে সরে এসে তিনি পরিবারকে সময় দিতে চেয়েছিলেন। সে কারণেই তিনি গান ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে বিরতি নিয়েছিলেন।

অন্যদিকে বিয়ের পর রোজা আহমেদের সামাজিক পরিসর ও পরিচিতি বহুগুণ বেড়ে যায়। তিনি এই নতুন পরিচিতি ও সামাজিক ব্যস্ততাকে উপভোগ করছিলেন। এক পক্ষ যখন নির্জনতার সন্ধানে ছিল অন্য পক্ষ তখন সামাজিক জীবনের আলোয় ভাসতে চেয়েছিলেন। এই দুই বিপরীতমুখী জীবনবোধই তাঁদের মধ্যে যোজন যোজন দূরত্ব তৈরি করে।

বিচ্ছেদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হওয়ার পরও রোজা আহমেদের ইনস্টাগ্রামে তাহসানের সঙ্গে তোলা ছবি ও স্মৃতিগুলো অমলিন ছিল। অনেকের ধারণা ছিল সব হয়তো ঠিক হয়ে যাবে কিন্তু তাহসান ছিলেন বরাবরই নীরব। ঘনিষ্ঠ মহলের মতে রোজা হয়তো সম্পর্কটি টিকিয়ে রাখতে চেয়েছিলেন। কিন্তু তাহসান যখন দেখলেন জীবনদর্শনের মৌলিক অমিলগুলো দূর হওয়ার নয়, তখন তিনি সম্মানের সাথে আলাদা হওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।

তাহসান বরাবরই ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে সংযত এবং এবারের বিচ্ছেদের ক্ষেত্রেও তিনি কাউকে দোষারোপ করেননি। জানা গেছে ২০২৫ সালের শেষভাগেই তাঁদের বিচ্ছেদের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শেষ হয়েছে। তাহসান বর্তমানে তাঁর একমাত্র কন্যার সঙ্গে সময় কাটাচ্ছেন এবং নিজেকে আধ্যাত্মিক ও ব্যক্তিগত কাজে ব্যস্ত রেখেছেন।

দুজনের ঘনিষ্ঠজনেরা বলছেন, এটি কোনো কাদা ছোড়াছুড়ির বিচ্ছেদ নয়, বরং বাস্তবতাকে মেনে নিয়ে ভিন্ন পথে হাঁটার এক পরিণত সিদ্ধান্ত। তাহসানের মতো একজন সংবেদনশীল মানুষের জীবনে দ্বিতীয়বারের মতো বিচ্ছেদের সংবাদটি ভক্তদের জন্য বড় ধাক্কা। যেখানে গত বছর এই দিনে উৎসবের আমেজ ছিল আজ সেখানে কেবল নীরবতা।

সম্পর্ক জোড়া লাগার কোনো সম্ভাবনা নেই বলে ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলো নিশ্চিত করেছে। জীবনদর্শন, দূরত্ব এবং তাহসানের গান ও মিডিয়া ছাড়ার সিদ্ধান্তের সাথে পারিবারিক টানাপোড়েনের কারণেই এই বিচ্ছেদ সম্পন্ন হয়েছে। তাহসান ও রোজার এই বিচ্ছেদের খবরটি বিনোদন জগতের তারকাদের ব্যক্তিগত জীবনের গোপনীয়তা ও জনসমক্ষে প্রকাশের দ্বন্দ্বকে আবারও সামনে নিয়ে এলো।

জেএইচআর

Link copied!