ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Amar Sangbad

ইনস্টাগ্রাম

Amar Sangbad

এক্স

Amar Sangbad


লিংকডইন

Amar Sangbad

পিন্টারেস্ট

Amar Sangbad

গুগল নিউজ

Amar Sangbad


হোয়াটস অ্যাপ

Amar Sangbad

টেলিগ্রাম

Amar Sangbad

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Amar Sangbad


ফিড

Amar Sangbad

ঢাকা শনিবার, ১৮ জুলাই, ২০২৬

৬০ কোটি টাকায় কি কিনলেন সুরসম্রাজ্ঞী শ্রেয়া ঘোষাল!

বিনোদন ডেস্ক

বিনোদন ডেস্ক

এপ্রিল ১৩, ২০২৬, ০১:২৮ পিএম

৬০ কোটি টাকায় কি কিনলেন সুরসম্রাজ্ঞী শ্রেয়া ঘোষাল!

ভারতের সংগীত জগতের অন্যতম উজ্জ্বল নক্ষত্র এবং বর্তমান প্রজন্মের সুরসম্রাজ্ঞী শ্রেয়া ঘোষাল। চার দশকেরও বেশি সময় ধরে নিজের জাদুকরী কণ্ঠ দিয়ে কোটি মানুষের হৃদয় জয় করা এই শিল্পী এবার খবরের শিরোনামে এসেছেন তার এক বিশাল বিনিয়োগের কারণে। 

দক্ষিণ মুম্বাইয়ের অন্যতম অভিজাত এলাকা ওরলিতে প্রায় ৬০ কোটি টাকা ব্যয়ে দুটি উচ্চমানের বিলাসবহুল অ্যাপার্টমেন্ট কিনেছেন তিনি। গায়িকার এই নতুন বিনিয়োগ বলিউডের বিনোদন জগৎ এবং আবাসন শিল্পে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছে।

মুম্বাইয়ের আবাসন খবরের তথ্যানুযায়ী, শ্রেয়া ঘোষাল যে দুটি অ্যাপার্টমেন্ট কিনেছেন, সেগুলো ওরলির একটি অত্যন্ত হাই-প্রোফাইল আবাসন প্রকল্পে অবস্থিত। দুটি ফ্ল্যাটের সম্মিলিত মূল্য প্রায় ৬০ কোটি টাকা। এই বিশাল অংকের সাথে সাথে স্ট্যাম্প ডিউটি এবং রেজিস্ট্রেশন ফি বাবদ আরও কয়েক কোটি টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দিতে হয়েছে।

প্রতিটি অ্যাপার্টমেন্টের আয়তন এবং সেগুলোর অত্যাধুনিক সুযোগ-সুবিধা নজর কাড়ার মতো। ওরলি এলাকাটি মূলত আরব সাগরের তীরে অবস্থিত হওয়ার কারণে এখান থেকে সমুদ্রের মনোরম দৃশ্য উপভোগ করা যায়। 

আবাসন বিশেষজ্ঞদের মতে, গত কয়েক বছরে মুম্বাইয়ের ওরলি এলাকাটি সেলেব্রিটি এবং বড় বড় ব্যবসায়ীদের পছন্দের তালিকায় শীর্ষে উঠে এসেছে। অক্ষয় কুমার, বিরাট কোহলি থেকে শুরু করে অভিষেক বচ্চনের মতো তারকাদেরও এই এলাকায় নিজস্ব সম্পত্তি রয়েছে। এবার সেই তালিকার উজ্জ্বল সংযোজন হলেন শ্রেয়া।

শ্রেয়ার নতুন এই ঠিকানায় কী নেই! প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, এই হাই-রাইজ বিল্ডিংয়ে রয়েছে বিশ্বমানের সুযোগ-সুবিধা। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো-

১. প্রাইভেট ডেক ও সি-ফেসিং ভিউ: প্রতিটি ঘর থেকে মুম্বাইয়ের দিগন্তজোড়া আরব সাগর দেখা যায়।
২. অত্যাধুনিক ফিটনেস সেন্টার: গায়িকা এবং তার পরিবারের জন্য রয়েছে আলাদা জিম এবং যোগব্যায়াম করার জায়গা।
৩. সুরক্ষা ব্যবস্থা: ভবনটিতে ২৪ ঘণ্টা কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং অত্যাধুনিক সিসিটিভি নজরদারি রয়েছে।
৪. অটোমেটেড পার্কিং: বিশাল গাড়ি রাখার জায়গার পাশাপাশি এখানে সেন্সর-ভিত্তিক পার্কিং ব্যবস্থা বিদ্যমান।

শ্রেয়া ঘোষালের এই বিপুল অংকের বিনিয়োগ কেবল তার আর্থিক সমৃদ্ধির পরিচয় দেয় না, বরং একজন শিল্পী হিসেবে তার দীর্ঘদিনের পরিশ্রম এবং সাফল্যের স্বাক্ষর বহন করে। ২০০২ সালে সঞ্জয় লীলা বনশালির 'দেবদাস' সিনেমা দিয়ে বলিউডে যাত্রা শুরু করা শ্রেয়া আজ ভারতের সর্বোচ্চ পারিশ্রমিক পাওয়া সংগীতশিল্পীদের একজন। কেবল গান গেয়েই নয়, স্টেজ পারফরম্যান্স, রিয়ালিটি শোর বিচারক এবং ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মেও তার জনপ্রিয়তা তুঙ্গে।

দীর্ঘ দুই দশকের ক্যারিয়ারে তিনি অসংখ্য জাতীয় পুরস্কার ও ফিল্মফেয়ার অ্যাওয়ার্ড জিতেছেন। সম্প্রতি তার গাওয়া বেশ কিছু গান আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও সমাদৃত হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, উপার্জিত অর্থ সঠিক জায়গায় বিনিয়োগ করার ক্ষেত্রে শ্রেয়া অত্যন্ত বিচক্ষণতার পরিচয় দিয়েছেন। 

মুম্বাইয়ের মতো জায়গায় সম্পত্তির মূল্য প্রতি বছরই লাফিয়ে বাড়ছে, তাই এই ধরনের হাই-এন্ড অ্যাপার্টমেন্টে বিনিয়োগকে একটি দীর্ঘমেয়াদী এবং নিরাপদ অর্থনৈতিক সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখা হচ্ছে।

শ্রেয়া ঘোষাল তার ব্যক্তিগত জীবন এবং কাজকে অত্যন্ত ভারসাম্যপূর্ণভাবে পরিচালনা করেন। ২০১৫ সালে তিনি তার দীর্ঘদিনের বন্ধু শিলাদিত্য মুখোপাধ্যায়কে বিয়ে করেন এবং ২০২১ সালে তাদের পুত্র সন্তান দেবিয়ান জন্ম নেয়। 

ঘনিষ্ঠ মহলের মতে, বর্ধিত পরিবারের প্রয়োজনীয়তা এবং স্বাচ্ছন্দ্যের কথা মাথায় রেখেই তিনি এই বড় আয়তনের অ্যাপার্টমেন্ট দুটি বেছে নিয়েছেন। বর্তমানে তিনি মুম্বাইয়ের অন্য একটি অভিজাত এলাকায় বাস করলেও, খুব শীঘ্রই নতুন বাড়িতে শিফট করার পরিকল্পনা করছেন।

গত এক বছরে বলিউডের অনেক তারকাই মুম্বাইয়ের বিভিন্ন এলাকায় রিয়েল এস্টেটে বড় বিনিয়োগ করেছেন। সম্প্রতি অভিনেতা অমিতাভ বচ্চন, দীপিকা পাড়ুকোন এবং জাহ্নবী কাপুরও কয়েকশ কোটি টাকার সম্পত্তি কিনেছেন। তবে শ্রেয়া ঘোষালের মতো একজন ক্ল্যাসিক্যালি ট্রেইনড গায়িকার এই বিশাল বিনিয়োগ প্রমাণ করে যে, বর্তমানে সংগীত জগতের শীর্ষ পর্যায়ের শিল্পীরাও বলিউডের প্রথম সারির অভিনেতাদের সমান গুরুত্ব এবং পারিশ্রমিক পাচ্ছেন।

শ্রেয়া ঘোষাল মানেই মাধুর্য, শ্রেয়া ঘোষাল মানেই শ্রেষ্ঠত্ব। তার কণ্ঠ যেমন সাধারণের মনে প্রশান্তি আনে, তার এই সাফল্য তরুণ প্রজন্মের শিল্পীদের জন্য এক বড় অনুপ্রেরণা। মুম্বাইয়ের ওরলিতে তার এই নতুন ঠিকানা কেবল ইটের দালান নয়, বরং তার দীর্ঘদিনের সাধনা ও পরিশ্রমের ফসল। সংগীতের সুরে যেমন তিনি এক অনন্য উচ্চতায় পৌঁছেছেন, তেমনি ব্যক্তিগত জীবনেও তার এই রাজকীয় পদযাত্রা অব্যাহত থাকুক এমনটাই প্রত্যাশা করেন তার ভক্ত অনুরাগীরা।

এএন

Link copied!