আন্তর্জাতিক ডেস্ক
নভেম্বর ৫, ২০২৫, ১০:১৪ পিএম
নিউইয়র্ক সিটির মেয়র নির্বাচনে অবশেষে জয় পেলেন প্রগতিশীল ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জোহরান মামদানি।
স্থানীয় সময় বুধবার সকালে শেষ হওয়া গণনায় তিনি পেয়েছেন ৫০ দশমিক ৪ শতাংশ ভোট। মোট ভোটসংখ্যা ১০ লাখ ৩৬ হাজারের বেশি।
এতে করে ৩৪ বছর বয়সী এই বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মার্কিন রাজনীতিক ইতিহাসের পাতায় জায়গা করে নিলেন নিউইয়র্কের প্রথম মুসলিম মেয়র এবং সবচেয়ে তরুণ নির্বাচিত মেয়র হিসেবে।
মামদানির সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন অঙ্গরাজ্যের সাবেক গভর্নর ও স্বতন্ত্র প্রার্থী অ্যান্ড্রু কুমো, যিনি পেয়েছেন ৪১ দশমিক ৬ শতাংশ ভোট—সংখ্যায় ৮ লাখ ৫৫ হাজারের মতো। তৃতীয় স্থানে রয়েছেন রিপাবলিকান নেতা কার্টিস স্লিওয়া, ৭ দশমিক ১ শতাংশ ভোট নিয়ে।
নির্বাচন কমিশনের সর্বশেষ হিসাবে, এবারের ভোটে অংশ নেন প্রায় ২০ লাখ ভোটার—যা ১৯৬৯ সালের পর সর্বোচ্চ। নিউইয়র্কের মতো ঘনবসতিপূর্ণ নগরে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ভোটার উপস্থিতি কমে এলেও, মামদানির প্রচারণা ও তরুণ ভোটারদের উৎসাহ এবারের ভোটে নতুন মাত্রা যোগ করেছে বলে বিশ্লেষকদের মত।
নির্বাচন পর্যবেক্ষক সংস্থা সিটি ভোট মনিটরস জানিয়েছে, এবার মোট ভোটের প্রায় অর্ধেকই পড়েছে আগাম ভোট ও ডাকযোগে প্রাপ্ত ব্যালটে। স্থানীয় সময় মঙ্গলবার রাত ৯টা পর্যন্ত ভোট গ্রহণ চলে।
বিজয়ের পর ব্রুকলিনে আয়োজিত এক সমাবেশে মামদানি বলেন, এই জয় শুধু আমার নয়, এটি নিউইয়র্কের প্রতিটি শ্রমজীবী, অভিবাসী ও স্বপ্নদর্শী মানুষের জয়। এই শহর আমাদের সবার।
তার বিজয় শোভাযাত্রায় ব্রুকলিন, কুইন্স ও ব্রঙ্কসের হাজারো মানুষ অংশ নেন।
নিউইয়র্কের মেয়র নির্বাচনে ১৯৬৯ সালে ভোট পড়েছিল প্রায় ২৪ লাখ ৬০ হাজার। এরপর ধীরে ধীরে ভোট কমতে থাকে। ২০২১ সালের নির্বাচনে ভোট পড়েছিল প্রায় ১১ লাখ। এবার সেই সংখ্যাটি প্রায় দ্বিগুণ বেড়ে গেছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা বলছেন, মামদানির তৃণমূল সংগঠন, গণপরিবহন খাতে সংস্কারের প্রতিশ্রুতি এবং 'ফেয়ার নিউইয়র্ক' স্লোগানই তাঁকে জনপ্রিয়তার শীর্ষে তুলেছে।
পরবর্তী পদক্ষেপ
জোহরান মামদানি আগামী জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহে নিউইয়র্ক সিটির ১১১তম মেয়র হিসেবে শপথ নেবেন। তাঁর মেয়াদ হবে চার বছর।
ইএইচ