আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ডিসেম্বর ২৬, ২০২৫, ১০:৩১ এএম
সিরিয়ায় শক্তিশালী অভিযানের রেশ কাটতে না কাটতেই এবার নাইজেরিয়ার উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় এলাকায় ভয়াবহ হামলা শুরু করেছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। জঙ্গি গোষ্ঠী ইসলামিক স্টেটের (আইএস) আস্তানা লক্ষ্য করে এই আক্রমণ চালানো হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন খোদ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
শুক্রবার ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়, বৃহস্পতিবার নাইজেরিয়ার সোকোটো রাজ্যে দেশটির সেনাবাহিনীর সঙ্গে যৌথভাবে এই অভিযান পরিচালনা করে যুক্তরাষ্ট্রের আফ্রিকা কমান্ড। হামলায় ক্ষয়ক্ষতির সঠিক পরিমাণ এখনো জানা না গেলেও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প একে 'অসংখ্য নিখুঁত হামলা' বলে অভিহিত করেছেন।
আইএসকে 'জঘন্য সন্ত্রাসী' আখ্যা দিয়ে তিনি অভিযোগ করেন, গোষ্ঠীটি নিরীহ খ্রিস্টানদের লক্ষ্য করে নির্মম হত্যাযজ্ঞ চালাচ্ছে। ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক বার্তায় ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, "আমার নেতৃত্বাধীন যুক্তরাষ্ট্র উগ্রপন্থি ইসলামী সন্ত্রাসবাদকে বাড়তে দেবে না।"
নাইজেরিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইউসুফ মাইতামা টুগ্গার এই আক্রমণকে সন্ত্রাসবাদ বিরোধী 'যৌথ অভিযান' হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি স্পষ্ট করেন যে, এর সঙ্গে কোনো ধর্মের সম্পর্ক নেই এবং ভবিষ্যতে আরও হামলা হবে কি না, তা দুই দেশের নেতৃত্বের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে। মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ এই অভিযানে সহযোগিতার জন্য নাইজেরিয়া সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন।
তবে নাইজেরিয়ার অভ্যন্তরীণ এই সংঘাতের প্রেক্ষাপট নিয়ে ভিন্নমত রয়েছে পর্যবেক্ষকদের। দীর্ঘ দিন ধরে দেশটিতে মুসলিম পশুপালক ও খ্রিস্টান কৃষকদের মধ্যে জমি ও পানির অধিকার নিয়ে দ্বন্দ্ব চলছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি মূলত প্রাকৃতিক সম্পদের অধিকার নিয়ে সংঘাত, ধর্মীয় নয়। অন্যদিকে আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, ডোনাল্ড ট্রাম্পের এই সামরিক তৎপরতার নেপথ্যে আফ্রিকার বিরল খনিজ সম্পদের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার কৌশল থাকতে পারে।
উল্লেখ্য, বিশ্বের প্রায় ৩০ শতাংশ বিরল খনিজ আফ্রিকায় অবস্থিত, যার প্রতি ট্রাম্প প্রশাসনের বিশেষ আগ্রহ রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ইএইচ