আন্তর্জাতিক ডেস্ক
মে ১৬, ২০২৬, ০৪:৫৭ পিএম
থাইল্যান্ডে পাওয়া এক প্রাচীন জীবাশ্ম বিশ্লেষণ করে সম্পূর্ণ নতুন ধরনের বিশালাকৃতির ডাইনোসরের অস্তিত্ব নিশ্চিত করেছেন গবেষকেরা। প্রাথমিক অনুমান অনুযায়ী, প্রাণীটির শরীরের ওজন ছিল প্রায় ২৭ টন, যা প্রায় নয়টি পূর্ণবয়স্ক হাতির সমান।
বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, দীর্ঘ গলা ও বিশাল দেহের এই তৃণভোজী প্রাণীটি দৈর্ঘ্যে প্রায় ২৭ মিটার বা ৮৮ ফুট পর্যন্ত পৌঁছাত। এটি ছিল দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলে এখন পর্যন্ত শনাক্ত হওয়া সবচেয়ে বড় ডাইনোসরগুলোর একটি।
গবেষণাপত্রটি প্রকাশিত হয়েছে আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান সাময়িকী ‘সায়েন্টিফিক রিপোর্টস’-এ। সেখানে উল্লেখ করা হয়, প্রায় ১০ থেকে ১২ কোটি বছর আগে এই প্রজাতির অস্তিত্ব ছিল বর্তমান থাইল্যান্ড অঞ্চলে।
গবেষণা দলের প্রধান থিটিওত সেথাপানিচসাকুল জানান, আকার ও ওজনের দিক থেকে এটি অত্যন্ত ব্যতিক্রমী একটি প্রাণী। তার ভাষায়, বিখ্যাত ‘ডিপ্লোডোকাস’ বা ‘ডিপ্পি’ নামের ডাইনোসরের তুলনায়ও এটি আরও ভারী ও বিশাল ছিল।
বিশেষজ্ঞদের মতে, জীবাশ্মটি যে ভূতাত্ত্বিক স্তর থেকে পাওয়া গেছে, সেটি তুলনামূলকভাবে নবীন শিলাস্তরের অংশ। এ কারণে গবেষকেরা এটিকে ‘দ্য লাস্ট টাইটান’ বা ‘শেষ দৈত্য’ হিসেবে উল্লেখ করছেন।
জানা যায়, প্রায় এক দশক আগে থাইল্যান্ডের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে স্থানীয়রা প্রথম এই জীবাশ্মের সন্ধান পান। তবে পূর্ণাঙ্গ খনন ও গবেষণা শেষ হতে সময় লাগে কয়েক বছর।
পরবর্তীতে বিশ্লেষণে দেখা যায়, এটি আগে পরিচিত কোনো ডাইনোসর প্রজাতির সঙ্গে পুরোপুরি মেলে না। বরং এতে এমন কিছু বৈশিষ্ট্য রয়েছে, যা একে আলাদা প্রজাতি হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করতে বাধ্য করেছে গবেষকদের।
নতুন এই ডাইনোসরের নাম রাখা হয়েছে ‘নাগাটাইটান চাইয়াফুমেনসিস’। নামটি নেওয়া হয়েছে স্থানীয় লোককথার ‘নাগ’, গ্রিক পুরাণের ‘টাইটান’ এবং থাইল্যান্ডের চাইয়াফুম প্রদেশের নাম মিলিয়ে।
এদিকে ব্যাংককের একটি জাদুঘরে ডাইনোসরটির জীবন্ত আকারের প্রতিরূপ প্রদর্শনের প্রস্তুতি চলছে বলে জানা গেছে।
এএন