আন্তর্জাতিক ডেস্ক
মে ১৯, ২০২৬, ০৭:৪৬ এএম
ইরানের বিরুদ্ধে পরিকল্পিত সামরিক অভিযান আপাতত স্থগিত রেখেছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, উপসাগরীয় কয়েকটি আরব দেশের অনুরোধ এবং চলমান কূটনৈতিক আলোচনার কারণেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় ট্রাম্প বলেন, কাতার, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের নেতারা তাকে হামলা থেকে সাময়িকভাবে সরে আসার অনুরোধ জানিয়েছেন। তাদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এমন একটি সমঝোতার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে যা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য গ্রহণযোগ্য হতে পারে।
তবে ট্রাম্প স্পষ্ট করে দিয়েছেন, ইরানকে কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে দেওয়া হবে না। তিনি সতর্ক করে বলেন, আলোচনা ব্যর্থ হলে যুক্তরাষ্ট্র বড় ধরনের সামরিক পদক্ষেপ নিতে পিছপা হবে না।
এদিকে ইরানের এক জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তা ওয়াশিংটনকে নতুন করে “ভুল সিদ্ধান্ত” না নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।
বর্তমান পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা কিছুটা কমলেও শঙ্কা পুরোপুরি কাটেনি। বিশেষ করে উপসাগরীয় দেশগুলো আশঙ্কা করছে, নতুন করে সংঘাত শুরু হলে ইরান ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মাধ্যমে বিমানবন্দর, জ্বালানি স্থাপনা ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো লক্ষ্যবস্তু করতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধের আশঙ্কা এবং হরমুজ প্রণালি ঘিরে উত্তেজনার কারণে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারেও অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। বিশ্বের উল্লেখযোগ্য পরিমাণ তেল ও গ্যাস এই নৌপথ দিয়েই পরিবহন করা হয়।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরেও ইরান ইস্যুতে চাপ বাড়ছে ট্রাম্প প্রশাসনের ওপর। সাম্প্রতিক জরিপে দেখা গেছে, বেশিরভাগ মার্কিন নাগরিক ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধের পক্ষে নন। এতে আসন্ন নির্বাচনের আগে রিপাবলিকানদের জন্য নতুন রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ তৈরি হতে পারে।
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে আলোচনায় পাকিস্তান মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করছে বলেও জানা গেছে। তবে এখনো কোনো চূড়ান্ত সমঝোতা হয়নি। দুই পক্ষই নিজেদের অবস্থানে অনড় থাকলেও কূটনৈতিক যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে।
সূত্র: বিবিসি
এএন