ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Amar Sangbad

ইনস্টাগ্রাম

Amar Sangbad

এক্স

Amar Sangbad


লিংকডইন

Amar Sangbad

পিন্টারেস্ট

Amar Sangbad

গুগল নিউজ

Amar Sangbad


হোয়াটস অ্যাপ

Amar Sangbad

টেলিগ্রাম

Amar Sangbad

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Amar Sangbad


ফিড

Amar Sangbad

ঢাকা রবিবার, ১৯ জুলাই, ২০২৬
জুলাই গণহত্যা

হাসিনা-কামালের মৃত্যুদণ্ডের ৪৫৭ পৃষ্ঠার পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ

আদালত প্রতিবেদক

আদালত প্রতিবেদক

জানুয়ারি ১৩, ২০২৬, ০৩:৪১ পিএম

হাসিনা-কামালের মৃত্যুদণ্ডের ৪৫৭ পৃষ্ঠার পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ

বাংলাদেশের ইতিহাসের অন্যতম কালো অধ্যায়, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানে সংঘটিত গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত হয়েছে। 

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল মঙ্গলবার সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালসহ তিন আসামির বিরুদ্ধে দেওয়া রায়ের অনুলিপি প্রকাশ করেন। ৪৫৭ পৃষ্ঠার এই দীর্ঘ রায়ে উঠে এসেছে ভয়ংকর সব নৃশংসতা এবং রাষ্ট্রীয় মদদে হত্যার নীল নকশা।

গত ১৭ নভেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এই ঐতিহাসিক রায় ঘোষণা করেছিলেন। পূর্ণাঙ্গ রায়ে প্রধান দুই আসামি শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামালকে দুটি পৃথক অভিযোগে আমৃত্যু কারাদণ্ড এবং ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করা হয়েছে। 

অন্যদিকে, মামলার অন্যতম আসামি সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন রাজসাক্ষী হওয়ায় তাকে বিশেষ বিবেচনায় পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এছাড়া রায়ে দণ্ডপ্রাপ্তদের যাবতীয় স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে জুলাই আন্দোলনে ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে বিতরণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

আদালত তার ৪৫৭ পৃষ্ঠার রায়ে আসামিদের বিরুদ্ধে আনা পাঁচটি সুনির্দিষ্ট অভিযোগ বিশ্লেষণ করেছেন এবং অপরাধগুলোকে দুটি প্রধান শ্রেণিতে ভাগ করেছেন। প্রথম শ্রেণিতে উসকানি ও প্ররোচনার বিষয়টি উঠে এসেছে। 

রায়ে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের ১৪ জুলাই গণভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে শেখ হাসিনা আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের রাজাকার বলে সম্বোধন করেন। এটি কেবল একটি রাজনৈতিক বক্তব্য ছিল না, বরং এটি ছিল একটি সুপরিকল্পিত উসকানি। 

আদালত আরও উল্লেখ করেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন উপাচার্যের সঙ্গে শেখ হাসিনার কথোপকথনের রেকর্ড থেকে এটি প্রমাণিত হয়েছে যে, তিনি আন্দোলনকারীদের কঠোরভাবে দমনের নির্দেশ দিয়েছিলেন। এই উসকানি ও প্ররোচনার সরাসরি ফল হিসেবে রংপুরে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাঈদকে গুলি করে হত্যা করা হয়। এই অপরাধের দায়ে শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান কামালকে আমৃত্যু কারাদণ্ড প্রদান করা হয়।

দ্বিতীয় শ্রেণিতে সরাসরি হত্যার নির্দেশ ও নৃশংসতার বিষয়টি উঠে এসেছে। পূর্ণাঙ্গ রায়ের সবচেয়ে ভয়ংকর অংশটি হলো ১৮ জুলাইয়ের ঘটনাপ্রবাহ। তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে আদালত জানিয়েছেন, তৎকালীন মেয়র ফজলে নূর তাপস এবং জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল সভাপতি হাসানুল হক ইনুর সঙ্গে কথোপকথনে শেখ হাসিনা ড্রোনের মাধ্যমে আন্দোলনকারীদের অবস্থান নির্ণয় করে হেলিকপ্টার থেকে মারণাস্ত্র ব্যবহারের সরাসরি নির্দেশ দেন। 

এই নির্দেশের নিষ্ঠুর প্রতিফলন দেখা যায় ৫ আগস্ট ঢাকার চানখারপুলে, যেখানে ছয়জন এবং আশুলিয়ায় আরও ছয়জনকে গুলি করে হত্যার পর পেট্রোল ঢেলে পুড়িয়ে দেওয়া হয়। এই পাশবিক ও মানবতাবিরোধী অপরাধের জন্য শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামালকে মৃত্যুদণ্ড বা ফাঁসি প্রদানের রায় ঘোষণা করা হয়।

রায়ে আদালত একটি নজিরবিহীন নির্দেশনা দিয়েছেন। দণ্ডিত ব্যক্তিদের নামে দেশে বিদ্যমান সকল স্থাবর যেমন জমি ও বাড়ি এবং অস্থাবর যেমন ব্যাংক ব্যালেন্স ও শেয়ার সম্পত্তি রাষ্ট্রকে বাজেয়াপ্ত করার আদেশ দেওয়া হয়েছে। এই বাজেয়াপ্ত করা অর্থ ও সম্পদ যেন জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে নিহতদের পরিবার এবং আহতদের কল্যাণে ব্যবহৃত হয়, তা নিশ্চিত করতে সরকারকে বিশেষ নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এই পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশের মাধ্যমে জুলাই গণহত্যার বিচার প্রক্রিয়া এক চূড়ান্ত ধাপে উপনীত হলো। আইনি বিশেষজ্ঞদের মতে, ৪৫৭ পৃষ্ঠার এই রায়টি ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক অপরাধ আইনের ইতিহাসে একটি মাইলফলক হিসেবে কাজ করবে। 

বিশেষ করে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় থেকে হেলিকপ্টার ব্যবহার করে নিজ দেশের নাগরিকদের ওপর গুলিবর্ষণ এবং পরবর্তীকালে লাশ পুড়িয়ে দেওয়ার মতো জঘন্য অপরাধের বিচারিক দলিল হিসেবে এটি সংরক্ষিত থাকবে।

রায়ের পূর্ণাঙ্গ কপি প্রকাশিত হওয়ার পর জুলাই আন্দোলনের যোদ্ধা এবং শহীদ পরিবারের সদস্যদের মাঝে স্বস্তি নেমে এসেছে। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এই রায়ের মাধ্যমে এটি প্রমাণিত হলো যে, জনগণের ওপর গুলি চালিয়ে কেউ পার পায় না। তারা এখন এই রায় দ্রুত কার্যকরের দাবি জানিয়েছেন। 

অন্যদিকে, পলাতক আসামিদের ফিরিয়ে এনে এই দণ্ড কার্যকরের জন্য আন্তর্জাতিক অপরাধ পুলিশ সংস্থা বা ইন্টারপোলের মাধ্যমে রেড নোটিশ জারি এবং কূটনৈতিক প্রচেষ্টা আরও জোরদার করার তাগিদ দিচ্ছেন বিশিষ্টজনরা। 

শহীদ আবু সাঈদ থেকে শুরু করে আশুলিয়ার পুড়ে যাওয়া সেই দেহগুলো, সবার রক্তের যে ঋণ, এই ৪৫৭ পৃষ্ঠার রায়ে তার আংশিক বিচার প্রতিফলিত হয়েছে। বিচার বিভাগ তার দায়িত্ব পালন করেছে; এখন দেখার বিষয় সরকার কত দ্রুত দণ্ডিতদের ফিরিয়ে এনে এবং তাদের সম্পদ বাজেয়াপ্ত করে জুলাই বিপ্লবের মূল আকাঙ্ক্ষা পূরণ করে।

ইএইচ

Link copied!