আমার সংবাদ ডেস্ক
মে ৩, ২০২৬, ০৯:২৪ পিএম
দীর্ঘ অপশাসনের অবসানের পর বর্তমান সরকারের কাছে সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা অনেক বেশি বলে উল্লেখ করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। এই প্রত্যাশা পূরণে মাঠপর্যায়ের সরকারি কর্মকর্তাদের আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
রোববার রাতে বঙ্গভবনে জেলা প্রশাসক (ডিসি) সম্মেলনে আগত কর্মকর্তাদের উদ্দেশে দেওয়া এক ভাষণে রাষ্ট্রপতি এসব কথা বলেন।
রাষ্ট্রপতি বলেন, একটি দায়িত্বশীল, স্বচ্ছ ও সেবামুখী প্রশাসন প্রতিষ্ঠার মাধ্যমেই জনমানুষের আকাঙ্ক্ষা পূরণ করা সম্ভব। বর্তমান সরকার জনকল্যাণে ইতোমধ্যে নানা উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। সরকারের এসব প্রতিশ্রুতি, নীতি ও প্রকল্প বাস্তবায়নে জেলা প্রশাসকদের সচেষ্ট হতে হবে এবং সব ক্ষেত্রে জনস্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে হবে। সরকারি উদ্যোগের সুফল যাতে প্রকৃত উপকারভোগীরা সঠিক সময়ে পায়, তা নিশ্চিত করতে ডিসিদের সজাগ থাকার নির্দেশ দেন তিনি।
ভাষণে গত বছরের তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা স্মরণ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, গত বছর তৎকালীন সরকার ডিসিদের সঙ্গে রাষ্ট্রপতির সাক্ষাতের সুযোগ দেয়নি। বর্তমান নির্বাচিত সরকার সেই প্রথা পুনরায় চালু করায় তিনি ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। এছাড়া শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন আয়োজনে পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করায় জেলা প্রশাসকদের সাধুবাদ জানান তিনি।
বিশ্বের বর্তমান প্রেক্ষাপট তুলে ধরে তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনার ফলে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকট তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় অবৈধ জ্বালানি মজুতদারি রোধ এবং দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত বাজার মনিটরিং কার্যক্রম আরও জোরদার করতে হবে।
দুর্নীতি ও দুঃশাসনকে উন্নয়নের প্রধান বাধা হিসেবে উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি মাঠ প্রশাসনে সরকারের 'জিরো টলারেন্স' নীতি কঠোরভাবে বাস্তবায়নের নির্দেশ দেন। তিনি প্রশাসনের সর্বস্তরে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও পেশাদারিত্ব নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
ভাষণের শুরুতে রাষ্ট্রপতি মহান মুক্তিযুদ্ধের শহীদ ও বীর মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান। তিনি স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বীর উত্তমসহ জাতীয় নেতৃবৃন্দের অবদানকে স্মরণ করেন। একই সঙ্গে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সংসদীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় অসামান্য অবদানের কথা উল্লেখ করেন।
রাষ্ট্রপতি ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে শহীদ ও আহতদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, তাঁদের আত্মত্যাগের মাধ্যমেই দেশে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়েছে এবং একটি ন্যায়ভিত্তিক নতুন বাংলাদেশ গড়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে।
জেএইচআর