আমার সংবাদ ডেস্ক
মে ৮, ২০২৬, ১২:২৪ পিএম
আনন্দে-বেদনায়, প্রেমে-বিরহে কিংবা প্রতিবাদে-বাঙালির জীবনের প্রতিটি অনুভূতিতে মিশে আছেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। দেড় শতাব্দীরও বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও তিনি আজও বাঙালির জীবন, সংস্কৃতি ও চেতনার গভীরে অমলিন। তাঁর গান বাংলাদেশের জাতীয় সংগীত, তাঁর কবিতা বাঙালির আবেগের আশ্রয়। গল্প-উপন্যাস, দর্শন ও চিন্তাধারা আজও মানুষকে দেখায় নতুন পথের দিশা।
আজ ২৫ বৈশাখ, কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৬৫তম জন্মবার্ষিকী। দিবসটি উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাণী দিয়েছেন।
প্রতিবছর ২৫ বৈশাখ ঘিরে রবীন্দ্রপ্রেমী বাঙালির মনে তৈরি হয় বিশেষ আবহ। কারণ দিনটি শুধু একজন কবির জন্মদিন নয়, এটি বাঙালির সংস্কৃতি, মনন ও আত্মপরিচয়েরও দিন।
বাংলা সাহিত্য, সংগীত, চিত্রশিল্প ও দর্শনের প্রতিটি স্তরে রবীন্দ্রনাথ এমনভাবে মিশে আছেন যে তাঁর জন্মদিন এখন বাঙালির এক আনন্দঘন সাংস্কৃতিক উৎসবে পরিণত হয়েছে।
১৯১৩ সালে ‘গীতাঞ্জলি’ কাব্যগ্রন্থের জন্য নোবেল পুরস্কার অর্জনের মাধ্যমে রবীন্দ্রনাথ বাংলা ভাষা ও সাহিত্যকে বিশ্বমঞ্চে অনন্য মর্যাদায় অধিষ্ঠিত করেন। কবিতা, গান, গল্প, উপন্যাস, নাটক, প্রবন্ধ, শিশুতোষ সাহিত্য ও চিত্রকলায় তাঁর সৃষ্টিশীলতার দীপ্তি আজও সমান উজ্জ্বল। মানবতা, দেশপ্রেম, সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে তাঁর সৃষ্টিকর্ম যুগে যুগে মানুষকে অনুপ্রাণিত করে এসেছে।
মহান মুক্তিযুদ্ধেও তাঁর গান ছিল বাঙালির প্রেরণার শক্তি। সাহিত্যের বাইরে শিক্ষা, কৃষি, গ্রামীণ অর্থনীতি ও সমাজকল্যাণেও তাঁর অবদান অনন্য। শান্তিনিকেতনে ব্যতিক্রমী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা এবং বাংলাদেশের শাহজাদপুর ও পতিসরে কৃষকদের উন্নয়নে কাজ করা তাঁর বহুমাত্রিক চিন্তার পরিচয় বহন করে।
সময়ের সঙ্গে সমাজ ও মানুষের জীবনযাত্রায় পরিবর্তন এলেও রবীন্দ্রনাথ আজও বাঙালির অনুভবে চিরনতুন। নতুন প্রজন্মও তাঁর সৃষ্টিতে খুঁজে পায় ভালোবাসা, মানবতা ও জীবনের গভীর সত্যের আলো।
যথাযোগ্য মর্যাদা ও উৎসবমুখর পরিবেশে দেশব্যাপী উদযাপিত হবে রবীন্দ্রজয়ন্তী। এ বছর কবির জন্মবার্ষিকীর প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে-‘শান্তি ও মানবতার কবি রবীন্দ্রনাথ’।
সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আয়োজনে কুষ্টিয়ার শিলাইদহসহ কবির স্মৃতিবিজড়িত বিভিন্ন জেলায় নেওয়া হয়েছে রাষ্ট্রীয় কর্মসূচি। পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনও পৃথক আয়োজন করেছে।
সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে কুষ্টিয়ার শিলাইদহে তিন দিনব্যাপী জাতীয় পর্যায়ের মূল অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী।
কুষ্টিয়ার পাশাপাশি নওগাঁর পতিসরেও আয়োজন করা হয়েছে বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানমালা। সেখানে উপস্থিত থাকবেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী, বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম।
অন্যদিকে সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে আয়োজিত অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু। খুলনার দক্ষিণ ডিহির অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।
বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির উদ্যোগে আজ বিকেল সাড়ে ৫টা থেকে ১১ মে পর্যন্ত চার দিনব্যাপী ‘শান্তি ও মানবতার কবি রবীন্দ্রনাথ’ শীর্ষক অনুষ্ঠানমালার আয়োজন করা হয়েছে।
এ ছাড়া বাংলা একাডেমিতে ১১ মে বিকেল ৩টায় অনুষ্ঠিত হবে রবীন্দ্রজয়ন্তীর বিশেষ আয়োজন। সেমিনার, ‘রবীন্দ্র পুরস্কার ২০২৬’ প্রদান এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে কবিকে স্মরণ করবেন বিশিষ্টজনরা।
সাংস্কৃতিক সংগঠন ছায়ানটও দুই দিনব্যাপী রবীন্দ্র উৎসবের আয়োজন করেছে। আজ সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা এবং আগামীকাল সন্ধ্যা ৭টায় ছায়ানট মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হবে আলোচনা, নৃত্য, সংগীত ও আবৃত্তির অনুষ্ঠান।
এ ছাড়া দেশজুড়ে ব্যক্তি, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের উদ্যোগে নানা আয়োজনে উদযাপিত হবে রবীন্দ্রজয়ন্তী।
এম জি