আমার সংবাদ ডেস্ক
জুন ১৫, ২০২৬, ১১:৫৫ পিএম
দেশীয় উদ্যোক্তাদের জন্য বৈশ্বিক বাজারে পণ্য বিক্রির এক বিশাল সুযোগ তৈরি হলো। এখন থেকে অনলাইনের মাধ্যমে বিদেশি ক্রেতাদের কাছে সরাসরি খুচরা পণ্য বিক্রি করতে পারবেন বাংলাদেশের উদ্যোক্তারা। স্বল্প পরিসরে রপ্তানির এই সুযোগ দিয়ে আজ সোমবার একটি সার্কুলার জারি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
নতুন এই নিয়ম অনুযায়ী, প্রতি লেনদেনে সর্বোচ্চ ৫ হাজার ডলার পর্যন্ত পণ্য রপ্তানি করা যাবে। এছাড়া ১ হাজার ডলার পর্যন্ত পণ্য রপ্তানির ক্ষেত্রে আগের ‘ইএক্সপি’ (EXP) সার্টিফিকেটের বাধ্যবাধকতা তুলে নেওয়া হয়েছে। এর ফলে দেশীয় মার্চেন্ট বা বিক্রেতারা আমাজন, আলী এক্সপ্রেস, ই-বে, তেমু কিংবা ফ্লিপকার্টের মতো বিশ্বখ্যাত অনলাইন মার্কেটপ্লেসগুলোতে অনায়াসে নিজেদের পণ্য তালিকাভুক্ত করার সুযোগ পাবেন। ঘরে বসেই এসব আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে সরাসরি বিদেশি ক্রেতাদের কাছে পণ্য পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে, এই রপ্তানি প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করতে হবে বাণিজ্যিক ব্যাংকের অথোরাইজড ডিলারের (এডি) মাধ্যমে। সংশ্লিষ্ট এডি শাখা যাচাই করে দেখবে যে পণ্য রপ্তানিতে আন্তর্জাতিক অনলাইন প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে প্রয়োজনীয় চুক্তি আছে কি না। এছাড়া এই পদ্ধতিতে ব্যবসা পরিচালনার জন্য প্রতি বছর অনলাইন মার্কেটপ্লেসের যে সাবস্ক্রিপশন ফি বা চর্ব্য লাগে, তাও উদ্যোক্তারা সহজেই পরিশোধ করতে পারবেন।
সার্কুলারে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, রপ্তানিকারকের বিদেশি মুদ্রা হিসাবের (ইআরকিউ) মাধ্যমে এই লেনদেন সম্পন্ন হবে। কোনো কারণে ক্রেতাকে পণ্যের মূল্য ফেরত (রিফান্ড) দেওয়ার প্রয়োজন হলে এবং ওই সময়ে ইআরকিউ অ্যাকাউন্টে পর্যাপ্ত বৈদেশিক মুদ্রা না থাকলে, সংশ্লিষ্ট এডি শাখা স্থানীয় মুদ্রা হিসাব (টাকা) থেকে তা সমন্বয় করে দেবে। বাংলাদেশ ব্যাংকের এই যুগান্তকারী সিদ্ধান্তের ফলে দেশের ই-কমার্স ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা খাতে নতুন জোয়ার আসবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
জেএইচআর