আমার সংবাদ ডেস্ক
জুন ১৬, ২০২৬, ১২:১০ এএম
দুর্নীতি দমনে আরও কার্যকর ও শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার লক্ষ্যেই অন্তর্বর্তী সরকারের সময় প্রণীত দুর্নীতি দমন কমিশন সংক্রান্ত অধ্যাদেশ গ্রহণ করা হয়নি বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
সোমবার (১৫ জুন) জাতীয় সংসদে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সম্পূরক বাজেটের ওপর ছাঁটাই প্রস্তাব নিয়ে আলোচনার সময় সংসদ সদস্যদের বক্তব্যের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, একটি শক্তিশালী দুর্নীতি দমন কমিশন প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা থেকেই সংশ্লিষ্ট অধ্যাদেশটি গ্রহণ করা হয়নি। এ বিষয়ে ইতোমধ্যে আলোচনা শুরু হয়েছে এবং দেশে একটি কার্যকর ও শক্তিশালী দুর্নীতি দমন কমিশন গড়ে তোলা হবে।
তিনি জানান, কমিশনের চেয়ারম্যান ও সদস্য নিয়োগের জন্য সার্চ কমিটির ব্যবস্থা আগের আইনেও ছিল। অধ্যাদেশটি কার্যকর না হলেও পূর্ববর্তী আইন পুনরায় কার্যকর হয়েছে এবং সেই আইনেও সার্চ কমিটির বিধান রয়েছে। সে অনুযায়ী কমিশন গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, প্রধান বিচারপতির প্রতিনিধি মনোনয়নে কিছুটা সময় লাগায় সার্চ কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া বিলম্বিত হয়েছে। এতে অনেকের কাছে সরকারের আন্তরিকতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হলেও সরকার শুরু থেকেই এ বিষয়ে উদ্যোগী ছিল এবং প্রয়োজনীয় চিঠিপত্রও পাঠিয়েছে।
তিনি বলেন, সার্চ কমিটি গঠন এবং দুর্নীতি দমন কমিশন পুনর্গঠনের কাজ এগিয়ে নেওয়া হবে। দুর্নীতির বিভিন্ন বিষয় মোকাবিলায় সবার সহযোগিতাও প্রয়োজন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, বর্তমান উদ্যোগটি একটি মধ্যবর্তী ব্যবস্থা। ভবিষ্যতে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন সংসদে উপস্থাপন করা হবে। তখন সংসদে বিস্তারিত আলোচনা ও মতামতের ভিত্তিতে একটি পূর্ণাঙ্গ আইন প্রণয়ন করা সম্ভব হবে। তবে নতুন আইন প্রণয়নের আগ পর্যন্ত বিদ্যমান আইনের আওতায় সার্চ কমিটির মাধ্যমে কমিশনকে কার্যকর অবস্থায় আনা হবে।
আলোচনায় অর্থ পাচারের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, এ বিষয়ে সংসদে আগেও আলোচনা হয়েছে। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে প্রস্তুত করা একটি শ্বেতপত্র প্রধান উপদেষ্টার কাছে জমা দেওয়া হয়েছিল। ওই কমিটির সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছিলেন অর্থনীতিবিদ দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ভাষ্য অনুযায়ী, প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে ২০১৯ থেকে ২০২৩ সময়কালে প্রায় ৩০ লাখ কোটি টাকা দেশ থেকে পাচার হয়েছে। এছাড়া রাজনৈতিক বিবেচনায় বিতরণ করা ঋণের কারণে ব্যাংক খাতে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে, যার পরিমাণ দিয়ে ২৪টি পদ্মা সেতু নির্মাণ করা সম্ভব হতো বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
তিনি বলেন, এসব অনিয়ম ও অর্থ পাচারের বিষয়গুলো মোকাবিলা করতে হবে এবং বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ দেশে ফিরিয়ে আনার জন্যও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এ কাজে সকলের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।
এম জি