আমার সংবাদ ডেস্ক
জুন ২৫, ২০২৬, ০৬:২২ পিএম
দেশে মাদক ব্যবহার নিয়ে একটি নতুন জাতীয় গবেষণার ফলাফলে উদ্বেগজনক চিত্র উঠে এসেছে। গবেষণা অনুযায়ী, বর্তমানে দেশে মাদক সেবনকারীর সংখ্যা প্রায় ৮২ লাখ, যা মোট জনসংখ্যার প্রায় ৪.৮৮ শতাংশ।
এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত মাদক হলো গাঁজা। গাঁজা সেবনকারীর সংখ্যা একাই প্রায় ৬১ লাখ বলে গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে।
গাঁজার পাশাপাশি ইয়াবা, হেরোইন, অ্যালকোহল ও কফ সিরাপসহ বিভিন্ন ধরনের মাদকের ব্যবহারও দেশে সক্রিয়ভাবে চলছে।
বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় এবং রিসার্চ অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট কনসালট্যান্টস লিমিটেড যৌথভাবে এই গবেষণা পরিচালনা করে। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধানে ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত দেশব্যাপী তথ্য সংগ্রহ করা হয়।
গবেষণার নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে দেশের ৮টি বিভাগ থেকে। এর মধ্যে ১৩টি জেলা এবং ২৬টি উপজেলাকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
বিভাগভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, ময়মনসিংহে মাদক ব্যবহারের হার সবচেয়ে বেশি ৬.০২ শতাংশ। এরপর রয়েছে রংপুর ৬.০০ শতাংশ এবং চট্টগ্রাম ৫.৫০ শতাংশ।
তবে সংখ্যার দিক থেকে সবচেয়ে বেশি ব্যবহারকারী পাওয়া গেছে ঢাকা বিভাগে। এখানে প্রায় ২২.৯ লাখ মানুষ মাদক সেবনের সঙ্গে যুক্ত বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
গবেষণায় বয়সভিত্তিক তথ্যও উঠে এসেছে। এতে দেখা যায়, ৩৩ শতাংশ ব্যবহারকারী ৮ থেকে ১৭ বছর বয়সে প্রথম মাদক গ্রহণ শুরু করে।
আরও ৫৯ শতাংশ ব্যবহারকারী ১৮ থেকে ২৫ বছর বয়সে প্রথমবার মাদক গ্রহণের অভিজ্ঞতা অর্জন করেছে।
গবেষণায় মাদক ব্যবহারের পেছনে সামাজিক ও অর্থনৈতিক কারণও চিহ্নিত করা হয়েছে। বেকারত্ব, পারিবারিক অস্থিরতা এবং মানসিক চাপকে প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
এছাড়া প্রায় ৯০ শতাংশ অংশগ্রহণকারী জানিয়েছে, মাদক সহজেই পাওয়া যায়, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।
চিকিৎসা ও পুনর্বাসন সেবার অভাবও প্রতিবেদনে গুরুত্ব পেয়েছে। মাত্র ১৩ শতাংশ মাদকসেবী এ ধরনের সেবা পেয়েছে বলে তথ্য দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে, ৬৯ শতাংশ ব্যবহারকারী চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের সুযোগ চেয়েছে। পাশাপাশি ৬২ শতাংশ কাউন্সেলিং সেবার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেছে।
বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক ডা. মো. শাহিনুল আলম বলেন, মাদক সমস্যা কেবল আইনশৃঙ্খলার বিষয় নয়, এটি একটি জটিল জনস্বাস্থ্য ও সামাজিক সংকট।
তিনি আরও বলেন, এই সমস্যার সমাধানে রাজনৈতিক সদিচ্ছা এবং গবেষণাভিত্তিক পরিকল্পনা অত্যন্ত জরুরি।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. হাসান মারুফ জানান, দেশে মাদকাসক্তির ঝুঁকি ক্রমাগত বাড়ছে।
তিনি বলেন, ইতোমধ্যে ৭টি বিভাগে ২০০ শয্যাবিশিষ্ট পুনর্বাসন কেন্দ্র চালুর অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
সবশেষে তিনি পরিবার ও সমাজকে সম্পৃক্ত করে সম্মিলিত আন্দোলনের মাধ্যমে মাদক নিয়ন্ত্রণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই তথ্য ভবিষ্যতে দেশের মাদক নিয়ন্ত্রণ নীতি ও কার্যক্রম প্রণয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
এএন