ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Amar Sangbad

ইনস্টাগ্রাম

Amar Sangbad

এক্স

Amar Sangbad


লিংকডইন

Amar Sangbad

পিন্টারেস্ট

Amar Sangbad

গুগল নিউজ

Amar Sangbad


হোয়াটস অ্যাপ

Amar Sangbad

টেলিগ্রাম

Amar Sangbad

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Amar Sangbad


ফিড

Amar Sangbad

ঢাকা সোমবার, ২০ জুলাই, ২০২৬
সালাহউদ্দিন আহমদ

আমাকে গুপ্তগুহায় রাখা হয়েছিল ৬১ দিন

নিজস্ব প্রতিবেদক

নিজস্ব প্রতিবেদক

আগস্ট ২৯, ২০২৫, ০৯:১৭ পিএম

আমাকে গুপ্তগুহায় রাখা হয়েছিল ৬১ দিন

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, “আমার সৌভাগ্য যে আজ আমি জীবিত আছি এবং আপনাদের সঙ্গে কথা বলছি। না হলে আমারও ছবি হয়ে যাওয়ার কথা ছিল। আমার অনেক সহকর্মী আর ফিরে আসেননি, তাদের খোঁজও মিলছে না। কেন যে জায়গাটির নাম আয়নাঘর রাখা হয়েছিল জানি না। সেখানে তো কোনো আয়না ছিল না, ছিল শুধু যমদূত আর মৃত্যুর পরোয়ানা।”

শুক্রবার বিকেলে বাংলা একাডেমি মিলনায়তনে আন্তর্জাতিক গুম দিবস উপলক্ষে গুমের শিকার ব্যক্তিদের স্মরণে সংগঠন ‘মায়ের ডাক’ আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, “দীর্ঘ সময় বাংলাদেশ এক বিভীষিকাময় পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে গেছে। ফ্যাসিবাদবিরোধী সংগ্রামে আমাদের সন্তানদের রক্ত দিতে হয়েছে। যারা রাষ্ট্রটিকে করদরাজ্যে পরিণত করে আজীবন ক্ষমতায় থাকার জন্য হত্যাকাণ্ড চালিয়েছে, তাদের এখনো অনুশোচনা নেই। বরং তারা উল্টো অভ্যুত্থানকারীদের অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত করছে।”

তিনি বলেন, “ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে অংশ নেওয়া রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ঐক্যে ফাটল ধরানোর চেষ্টা চলছে। আমরা তর্ক-বিতর্ক করছি, সংস্কার ও নির্বাচন নিয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হচ্ছে। আমি আহ্বান জানাব, দেশের মানুষ ১৬ বছর রক্ত দিয়ে ভোটাধিকার আদায়ের সংগ্রাম করেছেন। সেই ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য যখন একটি সুযোগ এসেছে, তখন যেন আমরা নিজেরাই বাধা সৃষ্টি না করি।”

বিএনপির এই নেতা বলেন, “যদি জনগণ আমাদের ম্যান্ডেট দেয়, তবে গুম প্রতিরোধে আইন প্রণয়ন ও তা কার্যকরসহ যা যা প্রয়োজন—সবকিছুই করা হবে। আমরা এমন একটি বাংলাদেশ চাই, যেখানে আর কোনো নাগরিক গুমের শিকার হবে না।”

সালাহউদ্দিন আহমদ স্মৃতিচারণ করে বলেন, “আমাকে একবার একটি গুপ্তগুহায় নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। তখন যদি চোখ বাঁধা না থাকত, বিশ্বাস করতে পারতাম না যে সেখানে মানুষ থাকতে পারে। মাত্র একদিন চোখ খোলা রেখে আমাকে বাইরে নেওয়া হয়েছিল। সেটা ছিল ২০১৫ সালের ১৪ এপ্রিল, বাংলা নববর্ষের দিন। তারা আমাকে বলেছিল, আজ ম্যাডাম পহেলা বৈশাখে পার্টি অফিসে অনুষ্ঠান করেছে। আমাকে বোঝাতে চেয়েছিল দেশে স্বাভাবিক পরিস্থিতি চলছে।”

তিনি আরও বলেন, “যে রুমে আমাকে রাখা হয়েছিল, সেটি ছিল দুর্গন্ধময়, বাতাস চলাচলের কোনো ব্যবস্থা ছিল না। পাঁচ ফুট বাই দশ ফুটের মতো ছোট রুম। টানা ৬১ দিন সেখানে থাকার পর আমাকে একদিন যমটুপি, কালো চশমা ও বাঁধা হাতে বের করা হয়। তখনো আমার বিশ্বাস হচ্ছিল না যে আমাকে জীবিত ছেড়ে দেবে। তাদের বলেছিলাম, যদি আমি মারা যাই, তবে আমার লাশটা যেন পরিবারের কাছে ফেরত দেওয়া হয়।”

তিনি বলেন, “আমি আল্লাহর কাছে শুধু প্রার্থনা করতাম, যদি হায়াত থাকে তবে যেন ঈমানের সঙ্গে বাঁচতে ও মরতে পারি। দেশ ও দেশের মানুষের কল্যাণে দোয়া করতাম। আমি বিশ্বাসী মানুষ, আমি আল্লাহর অনেক নিদর্শন অনুভব করেছি, যদিও চোখে দেখা যায় না। এগুলো শুধু যারা বিশ্বাস করতে চান, তারাই উপলব্ধি করতে পারবেন।”

অনুষ্ঠানে উপস্থিত গুম হওয়া ব্যক্তিদের পরিবার নিয়ে তিনি বলেন, “আজকের অনুষ্ঠানে নতুন কোনো পরিবার যোগ হয়নি—এটাই সুসংবাদ। আমরা আশা করি, আগামী দিনের রাজনীতিবিদরা নিশ্চিত করবেন যেন ভবিষ্যতে আর কোনো পরিবারকে এমন অনুষ্ঠানে যোগ দিতে না হয়। সে জন্যই আমরা সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছি।”

ইএইচ

Link copied!