ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Amar Sangbad

ইনস্টাগ্রাম

Amar Sangbad

এক্স

Amar Sangbad


লিংকডইন

Amar Sangbad

পিন্টারেস্ট

Amar Sangbad

গুগল নিউজ

Amar Sangbad


হোয়াটস অ্যাপ

Amar Sangbad

টেলিগ্রাম

Amar Sangbad

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Amar Sangbad


ফিড

Amar Sangbad

ঢাকা শনিবার, ১৮ জুলাই, ২০২৬
তাসনিম জারা

সংসদে আমার প্রথম কাজ হবে ‘নো সার্ভিস, নো বিল’ প্রস্তাব

আমার সংবাদ ডেস্ক

আমার সংবাদ ডেস্ক

জানুয়ারি ২৪, ২০২৬, ০৭:২০ পিএম

সংসদে আমার প্রথম কাজ হবে ‘নো সার্ভিস, নো বিল’ প্রস্তাব

নির্বাচনী ইশতেহার প্রকাশ করেছেন ঢাকা-৯ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ডা. তাসনিম জারা। শনিবার বিকেলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে নিজের ইশতেহার তুলে ধরেন তিনি।

ইশতেহারে তাসনিম জারা বলেন, ‘সংসদে আমার প্রথম কাজ হবে “সেবা না দিলে বিল নেই” (No Service, No Bill) নীতির জন্য খসড়া আইন প্রস্তাব করা এবং চাপ সৃষ্টি করা। তিতাস যদি গ্যাস দিতে না পারে, তারা টাকা নিতে পারবে না। গ্যাস না থাকলে মাসিক বিল মওকুফ করার প্রস্তাব থাকবে এই বিলে।’

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সাবেক এই নেত্রী তাঁর ইশতেহারে ছয়টি বিষয়ে গুরুত্বারোপ করে এলাকার বিভিন্ন সমস্যা ও এর সমাধানের রূপরেখা তুলে ধরেছেন। ইশতেহারে বলা হয়েছে, ‘ঢাকা-৯ এই শহরের প্রাণ, অথচ আমাদের সাথেই বিমাতাসুলভ আচরণ করা হয়। আমরা গুলশান-বনানীর সমান ট্যাক্স দেই, সমান বিল দেই, কিন্তু সেবা পাই তৃতীয় শ্রেণির। ভোটের সময় নেতারা আসেন, ভোট নেন, তারপর উধাও হয়ে যান। রাষ্ট্র আমাদের এটিএম মেশিন ভাবেন। টাকা নেওয়ার সময় আছেন, সেবা দেওয়ার সময় নেই। আমি পেশাদার রাজনীতিবিদ নই, আমি এই এলাকার মেয়ে। আমার কথা পরিষ্কার: ঢাকা-৯-কে অবহেলার দিন শেষ। আমরা সমান ট্যাক্স দেই, আমাদের অধিকারও সমান। আমাদের ন্যায্য পাওনা এবার আমরা বুঝে নিব।’

ইশতেহারে তাসনিম জারা ঢাকা-৯ আসনের গ্যাস সংকট, রাস্তার সমস্যা ও জলাবদ্ধতা নিরসনের অঙ্গীকার করেছেন। এ বিষয়ে ইশতেহারে তিনি বলেছেন, ‘প্রতি মাসে আমরা গ্যাসের জন্য বিল দিচ্ছি। কিন্তু চুলা জ্বালালে কী বের হয়? বাতাস। গ্যাস নেই, কিন্তু বিল ঠিকই দিতে হচ্ছে। এটা একধরনের প্রতারণা। এর সুযোগ নিয়ে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী এলপিজি সিলিন্ডারের দাম বাড়িয়ে আমাদের জিম্মি করে ফেলে। এর সাথে যুক্ত হয়েছে জলাবদ্ধতা ও বর্জ্য অব্যবস্থাপনা। যত্রতত্র ময়লা ফেলার কারণে বাসার পাশে ও রাস্তায় দুর্গন্ধে টেকা দায়। রাস্তাগুলো বছরের পর বছর ভাঙাচোরা বা কাজ চলমান অবস্থায় পড়ে থাকে।’

এ সমস্যা সমাধানে সিন্ডিকেট ভাঙার প্রতিশ্রুতি দিয়ে তাসনিম বলেন, ‘পাইপলাইন গ্যাসের ব্যর্থতার দায় নিয়ে সরকারকে এই এলাকায় ভর্তুকি মূল্যে বা ন্যায্য দামে এলপিজি সিলিন্ডার সরবরাহ নিশ্চিত করতে বাধ্য করব। সিন্ডিকেট করে দাম বাড়ালে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রশাসনকে চাপ দেব।’

স্বাস্থ্য খাত সম্পর্কে অঙ্গীকার করে তাসনিম জারা ইশতেহারে জানান, চিকিৎসায় অবহেলা তিনি মানবেন না। তাসনিম জারা বলেন, ‘একজন ডাক্তারের হাতেই সমাধান হবে ঢাকা-৯-এর স্বাস্থ্য সমস্যা। আমি একজন ডাক্তার। আমার দেশ-বিদেশে কাজ করার অভিজ্ঞতার আলোকে আমি এই সমস্যা সমাধানে কাজ করব।’

কমিউনিটি ক্লিনিক ‘মিনি হাসপাতাল’ হবে জানিয়ে তাসনিম বলেন, ‘পাড়ার ক্লিনিকগুলোকে আধুনিকায়নে বিশেষ বরাদ্দ আনার উদ্যোগ নেব, যাতে প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য বড় হাসপাতালে ছুটতে না হয়।’

ইশতেহারে ঢাকা-৯ এলাকা মাদকমুক্ত করা, উদ্যোক্তাদের জন্য তহবিলের ব্যবস্থা করাসহ বিভিন্ন অঙ্গীকার করেছেন তাসনিম জারা। তিনি বলেন, ‘আমি “অতিথি পাখি” নই, আমি আপনাদের ঘরের মেয়ে।’ রাজনৈতিক নেতাদের সমালোচনা করে ইশতেহারে এই তরুণ নেতা বলেন, ‘ভোটের আগে নেতারা পায়ে ধরেন, আর ভোটের পরে তাঁদের টিকিটিও দেখা যায় না। এমপি সাহেব থাকেন গুলশানে বা সংসদে, আর আপনারা থাকেন সমস্যায়। এমপিকে পাওয়া যেন ভাগ্যের ব্যাপার। এই সংস্কৃতি আর কত দিন?’ এই অবস্থার সমাধান সম্পর্কে ইশতেহারে রূপরেখা তুলে ধরেন তাসনিম। তিনি বলেন, ‘আমি নির্বাচিত হওয়ার এক মাসের মধ্যে এলাকার প্রাণকেন্দ্রে আমার স্থায়ী অফিস চালু করব। কর্মজীবীদের সুবিধার্থে এটি সন্ধ্যায়ও খোলা থাকবে। আমি এবং আমার অফিসের স্টাফরা আপনাদের জানানো সমস্ত সমস্যা সমাধানে আন্তরিকভাবে কাজ করব।’

ডিজিটাল ড্যাশবোর্ড করার অঙ্গীকার দিয়েছেন তাসনিম জারা। এ বিষয়ে ইশতেহারে তিনি বলেছেন, ‘আপনার অভিযোগ কোনো ফাইলে চাপা পড়ে থাকবে না। আমরা ডিজিটাল ড্যাশবোর্ড করব, যেখানে আপনারা দেখতে পাবেন আপনার অভিযোগের বর্তমান অবস্থা কী। আমাদের সাথে কথা বলতে কোনো “ভাই” বা “নেতা’ ধরার প্রয়োজন পড়বে না।’

ইশতেহারে তাসনিম জারা বলেন, ‘আমি কোনো পেশাদার রাজনীতিবিদ নই। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর স্বচ্ছভাবে রাজনীতি করার ও দেশ গড়ার একটা সুযোগ এসেছে তাই রাজনীতিতে এসেছি। আমার এই ইশতেহার কোনো গতানুগতিক “ফাঁকা বুলি” নয়। এটি আপনাদের সাথে আমার চুক্তি। আমি যা লিখেছি, তা কীভাবে বাস্তবায়ন করব, সেই পরিকল্পনা করেই মাঠে নেমেছি।’

ঢাকা-৯-এর ভাগ্য বদলাতে, গ্যাস-পানির অধিকার আদায় করতে এবং মাদক ও সন্ত্রাসমুক্ত সমাজ গড়তে, আসন্ন নির্বাচনে ‘ফুটবল’ মার্কায় ভোট চেয়েছেন এনসিপি থেকে পদত্যাগ করা এই নেতা।

এএন

Link copied!