ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Amar Sangbad

ইনস্টাগ্রাম

Amar Sangbad

এক্স

Amar Sangbad


লিংকডইন

Amar Sangbad

পিন্টারেস্ট

Amar Sangbad

গুগল নিউজ

Amar Sangbad


হোয়াটস অ্যাপ

Amar Sangbad

টেলিগ্রাম

Amar Sangbad

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Amar Sangbad


ফিড

Amar Sangbad

ঢাকা শনিবার, ১৮ জুলাই, ২০২৬

নাজাসাতে গালীযা: অপবিত্রতার গুরুতর রূপ ও এর বিধান

ধর্ম ও জীবন ডেস্ক

ধর্ম ও জীবন ডেস্ক

অক্টোবর ৩০, ২০২৫, ১২:০৯ পিএম

নাজাসাতে গালীযা: অপবিত্রতার গুরুতর রূপ ও এর বিধান

ইসলাম এমন একটি পূর্ণাঙ্গ জীবনব্যবস্থা, যেখানে পবিত্রতা ও পরিচ্ছন্নতাকে অত্যন্ত গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। আল্লাহ তাআলা মানুষকে শারীরিক, মানসিক ও আত্মিকভাবে পরিচ্ছন্ন থাকার নির্দেশ দিয়েছেন। কারণ পবিত্রতা ঈমানের অঙ্গ। নবী করিম (সা.) বলেছেন “পবিত্রতা ঈমানের অর্ধেক।” (সহিহ মুসলিম)

এই পবিত্রতার ধারায় ইসলামী শরিয়তে নাপাকি বা অপবিত্রতার দুটি প্রধান ভাগ করা হয়েছে — নাজাসাতে গালীযা (গুরুতর অপবিত্রতা) এবং নাজাসাতে খাফিফা (হালকা অপবিত্রতা)। আজ আমরা জানব নাজাসাতে গালীযা সম্পর্কে—এর অর্থ, ধরন, প্রভাব এবং পরিশুদ্ধির নিয়ম।

নাজাসাতে গালীযার অর্থ

নাজাসা (نجاسة) শব্দের অর্থ হলো অপবিত্রতা বা নাপাকি, আর গালীযা (غليظة) শব্দের অর্থ গুরুতর বা ভারী। অতএব, নাজাসাতে গালীযা বলতে বোঝায়— এমন অপবিত্র পদার্থ বা বস্তু, যা অত্যন্ত গুরুতর ধরনের নাপাক, যার সংস্পর্শে শরীর, পোশাক বা স্থান নাপাক হয়ে যায় এবং তা ধৌত না করলে ইবাদত যেমন—নামাজ, বৈধ হয় না।

নাজাসাতে গালীযার ধরন ও উদাহরণ

ইসলামী ফিকহ অনুযায়ী নাজাসাতে গালীযা প্রধানত তিন ভাগে বিভক্ত

১. মানুষের শরীরজাত নাপাকি,

২. প্রাণীজাত নাপাকি

৩. অন্যান্য বহিরাগত নাপাকি

মানুষের শরীরজাত নাজাসাতে গালীযা

যেমন মানুষের রক্ত (যা প্রবাহিত হয়), মল (পায়খানা), প্রস্রাব, বীর্য ও মাযি (যৌন তরল), মৃত মানুষের শরীর (যদি গোসল না দেওয়া হয়)। এগুলো সবই গালীযা বা গুরুতর নাপাকি হিসেবে গণ্য।

প্রাণীজাত নাজাসাতে গালীযা

যেমন শূকরের মাংস বা চর্বি (ইসলামে হারাম ও অপবিত্র), কুকুরের লালা ও শরীরের আদ্রতা, যে পশুর রক্ত প্রবাহিত হয় ও ইসলামি নিয়মে যবেহ করা হয়নি তার মাংস ও রক্ত, মরা প্রাণীর চামড়া, মাংস ও হাড়। এগুলো সবই নাজাসাতে গালীযা হিসেবে বিবেচিত।

অন্যান্য নাপাকি

যেমন মদ (খামর), রক্তাক্ত কাটা অংশ থেকে নির্গত রক্ত, পচনশীল পুঁজ। এগুলোও শরিয়তের দৃষ্টিতে গুরুতর অপবিত্রতার অন্তর্ভুক্ত।

কুরআন ও হাদিসে নাজাসার উল্লেখ

পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন, “নিশ্চয় মুশরিকরা নাপাক।” (সূরা আত-তাওবা: ২৮)

অন্যত্র বলা হয়েছে, “তোমার পোশাককে পরিশুদ্ধ রাখো এবং অপবিত্রতা থেকে দূরে থাকো।” (সূরা আল-মুদ্দাসসির: ৪-৫)

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, “কোনো ব্যক্তি তার পোশাক বা দেহে যদি নাপাকি থাকে, তবে তার নামাজ কবুল হবে না যতক্ষণ না সে তা দূর করে।” (সহিহ বুখারি ও মুসলিম)

এ থেকেই বোঝা যায়, নাজাসা দূর করা ইবাদতের শর্ত এবং মুসলমানের জীবনযাপনের একটি মৌলিক অংশ।

নাজাসাতে গালীযা থেকে পবিত্র হওয়ার নিয়ম

নাজাসাতে গালীযা দূর করার জন্য ইসলামী শরিয়তে কিছু নির্দিষ্ট বিধান রয়েছে—

১. যে স্থানে নাজাসা পড়েছে, সেটি ধুয়ে পরিষ্কার করতে হবে। মাটি বা ফ্লোরে নাপাকি পড়লে পানি ঢেলে ঘষে পরিষ্কার করতে হবে।

২. যে কাপড় বা দেহে লেগেছে, তা পানি দিয়ে তিনবার ধুতে হবে, যতক্ষণ না নাপাকির চিহ্ন, গন্ধ ও রঙ চলে যায়।

৩. যদি কুকুরের লালা কোনো পাত্রে লাগে, তা সাতবার ধুতে হবে, যার একটি ধোয়া হবে মাটি দিয়ে। (সহিহ মুসলিম)

৪. মদ বা রক্ত লাগলে পুরো অংশ ধৌত না করা পর্যন্ত নামাজ আদায় করা যাবে না।

নাজাসাতে গালীযার প্রভাব

নাজাসাতে গালীযা শুধু শরীর বা পোশাক নাপাক করে না; এটি আত্মিক পরিচ্ছন্নতারও ব্যাঘাত ঘটায়। একজন মুসলমানের জন্য পরিচ্ছন্নতা কেবল বাহ্যিক নয়, অন্তরেও থাকা জরুরি। যদি নাপাকি অবস্থায় নামাজ আদায় করা হয়, তাহলে তা বাতিল হয়ে যায় এবং আল্লাহর কাছে গ্রহণযোগ্য হয় না।

সুতরাং, শরীর, পোশাক ও স্থানকে পবিত্র রাখা ঈমান ও ইবাদতের অপরিহার্য অংশ। ইসলাম চায়—মুমিনের বাহির যেমন পবিত্র হবে, তেমনি তার মন ও চিন্তাও হবে আল্লাহমুখী।

নাজাসাতে গালীযা ও নৈতিক শিক্ষা

নাজাসার ধারণা কেবল ধর্মীয় বিধান নয়; এটি মানবসভ্যতার পরিচ্ছন্নতা ও শৃঙ্খলার প্রতীক। ইসলাম শিখিয়েছে— “আল্লাহ পবিত্র এবং তিনি পবিত্রতাকেই ভালোবাসেন।” (সহিহ তিরমিজি)

এ শিক্ষাই আমাদের শারীরিক পরিচ্ছন্নতার পাশাপাশি নৈতিক বিশুদ্ধতার প্রতিও আহ্বান জানায়। যেমন— লোভ, হিংসা, প্রতারণা—এসবও আত্মিক নাজাসা, যা হৃদয়কে অপবিত্র করে। তাই বাহ্যিক ও অভ্যন্তরীণ উভয় পবিত্রতাই মুমিনের জীবনে অপরিহার্য।

নাজাসাতে গালীযা সম্পর্কে জ্ঞান ও সতর্কতা প্রতিটি মুসলমানের জন্য অপরিহার্য। কারণ, পবিত্রতা ছাড়া কোনো ইবাদত পূর্ণতা পায় না। ইসলাম পরিচ্ছন্নতার ধর্ম, আর পরিচ্ছন্নতা হলো আল্লাহর সন্তুষ্টির পথ।

তাই আমাদের উচিত দেহ, পোশাক ও পরিবেশকে সব অপবিত্রতা থেকে মুক্ত রাখা এবং আত্মাকে নাজাসা থেকে পরিশুদ্ধ রাখা। তাহলেই আমরা দুনিয়া ও আখিরাতে সফলতার অধিকারী হতে পারব।

“নিশ্চয়ই আল্লাহ তওবাকারীদের ভালোবাসেন এবং যারা নিজেদের পবিত্র রাখে তাদেরও ভালোবাসেন।” (সূরা আল-বাকারা: ২২২)

ইএইচ

Link copied!