ধর্ম ও জীবন ডেস্ক
অক্টোবর ৩১, ২০২৫, ০২:১৮ পিএম
ইসলাম পবিত্রতার ধর্ম। এই পবিত্রতা কেবল অন্তরের নয়, বরং শরীর, পোশাক, স্থান ও উপাসনার ক্ষেত্রেও অপরিহার্য। ইসলামে নামাজসহ সকল ইবাদতের পূর্বশর্ত হলো পবিত্রতা বা তহারাত। তাই ইসলাম বিশদভাবে ব্যাখ্যা করেছে কোন জিনিস পবিত্র আর কোনটি অপবিত্র বা নাজাসাত (অশুচিতা)। এই নাজাসাতের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ একটি বিভাগ হলো নাজাসাতে গালীজা।
‘নাজাসা’ শব্দের অর্থ অশুদ্ধ বা অপবিত্র, আর ‘গালীজা’ অর্থ গুরুতর বা কঠিন। অর্থাৎ নাজাসাতে গালীজা হলো এমন অপবিত্র বস্তু, যা শরীর বা পোশাকের সামান্য অংশেও লেগে থাকলে নামাজ ও ইবাদত বাতিল হয়ে যায়। এটি গুরুতর নাপাকি, যা থেকে বাঁচা ও পরিষ্কার থাকা ফরজ।
ইসলামী ফিকহ অনুযায়ী নাজাসা দুই প্রকার নাজাসাতে গালীজা (গুরুতর অপবিত্রতা) এবং নাজাসাতে খাফিফা (হালকা অপবিত্রতা)।
এর মধ্যে নাজাসাতে গালীজা এমন অপবিত্র পদার্থ, যার উপস্থিতিতে শরীর, পোশাক বা নামাজের স্থান অশুদ্ধ হয়ে যায় এবং তা পরিষ্কার না করলে নামাজ গ্রহণযোগ্য হয় না। এ ধরনের নাজাসার উদাহরণ হলো মানুষ বা প্রাণীর রক্ত, পায়খানা বা মল-মূত্র, বমি, কুকুর ও শূকরের লালা বা দেহাংশ, নেশাজাতীয় তরল পদার্থ (যেমন মদ), মৃত প্রাণীর দেহ বা রক্ত, রক্তযুক্ত মাংস ইত্যাদি।
ফিকহ অনুযায়ী, যদি নাজাসাতে গালীজা শরীর, পোশাক বা নামাজের স্থানে লাগে, তবে নামাজ পড়ার আগে তা অবশ্যই ধুয়ে পরিষ্কার করতে হবে। শরিয়তের বিধান অনুযায়ী, যদি নাজাসাতে গালীজা এক দিরহাম (প্রায় ২.৭৫ গ্রাম) পরিমাণের বেশি হয়, তবে নামাজ হবে না। এর চেয়ে কম হলে নামাজ আদায় করা জায়েজ, তবে তা মাকরূহ।
পবিত্রতা ইসলাম ধর্মে ঈমানের অঙ্গ। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, “পবিত্রতা ঈমানের অর্ধেক” (সহিহ মুসলিম)। অর্থাৎ যে সর্বদা পবিত্রতা রক্ষা করে, সে প্রকৃত অর্থে ঈমানদারদের কাতারে। পবিত্রতা শুধু নামাজের শর্ত নয়; জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে এর প্রয়োজন খাবার, ঘুম, চলাফেরা, আচরণসহ সবকিছুতে পবিত্রতার শিক্ষা রয়েছে।
নাজাসাতে গালীজা থেকে পরিশুদ্ধ থাকা মানে বাহ্যিক পরিচ্ছন্নতার পাশাপাশি অন্তরের পবিত্রতা রক্ষা করা। যে ব্যক্তি শরীর, পোশাক ও পরিবেশকে অপবিত্রতা থেকে মুক্ত রাখে, তার জীবনে শান্তি ও প্রশান্তি আসে।
এই নির্দেশনা আমাদের শেখায় বাহ্যিক পরিচ্ছন্নতা ও অভ্যন্তরীণ পবিত্রতা উভয়ই ইসলামে সমান গুরুত্বপূর্ণ। তাই যেমন শরীরের ময়লা পরিষ্কার করতে হয়, তেমনি মন, চিন্তা ও আচরণকেও অশুচিতা থেকে মুক্ত রাখতে হয়।
একজন মুসলমানের কর্তব্য হলো সর্বদা পরিচ্ছন্ন থাকা, ইবাদতের আগে পবিত্রতা নিশ্চিত করা, অপবিত্রতা থেকে দূরে থাকা এবং অন্তরকে আল্লাহর স্মরণে নির্মল রাখা। এভাবেই একজন মুমিন দুনিয়ায় পরিচ্ছন্নতার প্রতীক হয়ে আখিরাতে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করতে পারে।
ইএইচ