ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Amar Sangbad

ইনস্টাগ্রাম

Amar Sangbad

এক্স

Amar Sangbad


লিংকডইন

Amar Sangbad

পিন্টারেস্ট

Amar Sangbad

গুগল নিউজ

Amar Sangbad


হোয়াটস অ্যাপ

Amar Sangbad

টেলিগ্রাম

Amar Sangbad

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Amar Sangbad


ফিড

Amar Sangbad

ঢাকা শনিবার, ১৮ জুলাই, ২০২৬

পানির পবিত্রতা নির্ধারণ:  ইসলামে বিশুদ্ধতার মাপকাঠি

ধর্ম ও জীবন ডেস্ক

ধর্ম ও জীবন ডেস্ক

নভেম্বর ১, ২০২৫, ১২:০১ পিএম

পানির পবিত্রতা নির্ধারণ:  ইসলামে বিশুদ্ধতার মাপকাঠি

ইসলাম ধর্মে পবিত্রতা ও পরিচ্ছন্নতা ইমানের অঙ্গ। পবিত্র জীবনযাপন শুধু দেহের নয়, আত্মারও প্রশান্তি আনে। পবিত্রতার অন্যতম মূল উপাদান হলো পানি যা ছাড়া পবিত্রতা অর্জন অসম্ভব। কিন্তু সব পানি কি পাক? আর কোন পানি অপবিত্র বা 'না পাক? এই প্রশ্নের সঠিক উত্তর জানা জরুরি প্রতিটি মুসলমানের জন্য।

ইসলামি ফিকহ অনুযায়ী পানি প্রধানত তিন শ্রেণিতে বিভক্ত—

পাক ও পবিত্র পানি (ماء طهور): যে পানি নিজে পবিত্র এবং অন্য কিছু পবিত্র করতে সক্ষম, সেটাই মা’উন তুহুর বা সম্পূর্ণ পাক পানি। যেমন বৃষ্টির পানি, নদী, পুকুর, কূপ, বরফ গলানো পানি বা ঝরনাধারা ইত্যাদি। এই পানি দিয়ে ওজু, গোসল ও নাপাক জিনিস ধোয়া সবই বৈধ।

পাক কিন্তু পরিশোধক নয় (ماء طاهر): যে পানি নিজে পবিত্র, তবে অন্য কিছু পবিত্র করতে পারে না। যেমন যে পানিতে একবার ব্যবহার করে ওজু করা হয়েছে বা শরীর ধোয়ার পর সেটি জমে গেছে। এই পানি পুনরায় পবিত্রতার কাজে ব্যবহার করা যায় না।

অপবিত্র বা নাপাক পানি (ماء نجس): যে পানিতে নাপাক বস্তু মিশে তার গন্ধ, রং বা স্বাদ বদলে যায়, তা না পাক পানি। যেমন পানিতে প্রস্রাব, মল, রক্ত, মদ বা মৃত প্রাণীর অবশেষ মিশে গেলে। এ ধরনের পানি দ্বারা ওজু বা গোসল করা জায়েজ নয়।

ইসলামী শরিয়তে পানির পরিমাণকেও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। হাদীসে এসেছে, যদি কোনো পানির পাত্রে দুই কুল্লা (প্রায় ২১৬ লিটার) বা তার বেশি পানি থাকে এবং তাতে নাপাক জিনিস পড়ে কিন্তু গন্ধ, রং বা স্বাদ না বদলায় তবে সেটি এখনো পাক গণ্য হবে। (সূত্র: সহিহ মুসলিম, হাদিস: ৪৮)

অর্থাৎ, পানির বিশুদ্ধতা নির্ভর করছে তার প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য বজায় আছে কি না তার ওপর, শুধুমাত্র স্পর্শ বা পড়ার কারণে নয়।

হাদীসে নবী করিম (সা.) বলেছেন, বৃষ্টি হচ্ছে আসমান থেকে নাযিল হওয়া পাক পানি। (সূত্র: সুরা আল-ফুরকান, আয়াত ৪৮)

তাই বৃষ্টির পানি, কূপ, নদী বা ঝরনার পানি মূলত পাক—যদি তাতে দৃশ্যমান কোনো নাপাকি না মেশে।
আজকের শহুরে জীবনে পাইপের পানি, ফিল্টারের পানি বা ট্যাংকিতে জমা পানি নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। ইসলামী দৃষ্টিতে, যতক্ষণ সেই পানির রং, গন্ধ ও স্বাদ স্বাভাবিক থাকে, সেটি পাক পানি হিসেবেই গণ্য হবে। তবে ট্যাংকি বা রিজার্ভারে ময়লা জমে পানির গুণাগুণ নষ্ট হলে তা ব্যবহার করা যাবে না, যতক্ষণ পর্যন্ত পরিষ্কার না করা হয়। 

পাক পানি মানুষকে শুধু শারীরিকভাবে নয়, আত্মিকভাবেও নির্মল রাখে। ইসলামে বলা হয়েছে— “إِنَّ اللَّهَ يُحِبُّ التَّوَّابِينَ وَيُحِبُّ الْمُتَطَهِّرِينَ” অর্থাৎ, আল্লাহ তওবাকারী ও পবিত্রতা রক্ষাকারীদের ভালোবাসেন। (সূরা আল-বাকারা: ২২২)

তাই মুসলমানের জীবনে পাক না পাকের জ্ঞান কেবল শরীয়তের বিধান নয়, বরং তা ঈমানের অংশও বটে। পরিচ্ছন্ন পানি, পবিত্র মন এই দুটিই ইসলামী জীবনের মূল সৌন্দর্য।

ইএইচ

Link copied!