নিজস্ব প্রতিবেদক
জানুয়ারি ৯, ২০২৬, ১১:০৭ পিএম
আমিরুল মু’মিনিন হযরত আলী (রা.)-এর স্মরণে রাজধানী ঢাকায় এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শুক্রবার বিকেলে বিএমএ মিলনায়তনে ঢাকাস্থ আল মোস্তফা আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলাদেশ প্রতিনিধির দপ্তর, বাংলাদেশ ইমামিয়া উলামা সোসাইটি, আল হাদি আন নাজিব ফাউন্ডেশন এবং ইনস্টিটিউট অব হিউম্যান সায়েন্স রিসার্চের যৌথ উদ্যোগে এই অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়।
‘বয়ানে ফাযায়েলে রজব ও জশনে মওলুদে কা’বা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় হযরত আলী (রা.)-এর ব্যক্তিত্ব ও মর্যাদার বিভিন্ন দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, গ্লোবাল ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের উপাচার্য প্রফেসর ড. আনিসুজ্জামান ও ঢাকাস্থ ইরান সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের কালচারাল কাউন্সেলর সাইয়্যেদ রেযা মীর মোহাম্মাদী।

অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে আরও উপস্থিত ছিলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের সাবেক খতিব মাওলানা ড. সৈয়দ এমদাদ উদ্দিন নিজামপুরী, মহাখালী দারুল উলুম হোসাইনিয়া কামিল মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল ড. মোহাম্মাদ নজরুল ইসলাম আল-মারুফ, বাংলাদেশ ইমামিয়া উলামা সোসাইটির সহ-সভাপতি হুজ্জাতুল ইসলাম সাইয়্যেদ আফতাব হোসাইন নাকাভী, ইনস্টিটিউট অব হিউম্যান সায়েন্স রিসার্চের পরিচালক ড. এ কে এম আনোয়ারুল কবীর, বাংলাদেশ ইমামিয়া উলামা সোসাইটির সেক্রেটারি জেনারেল ড. এম আব্দুল কুদ্দুস বাদশা এবং মোহাম্মদপুরের আলী ইবনে আবি তালিব ইসলামিক ইনস্টিটিউটের প্রিন্সিপাল হুজ্জাতুল ইসলাম মোহাম্মদ আলী মূর্তজা। অনুষ্ঠানে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ঢাকাস্থ রাসূলে আকরাম (সা.) ইসলামিক ইনস্টিটিউটের প্রিন্সিপাল ড. মোহাম্মদ মাঈন উদ্দিন।
সভায় বক্তারা বলেন, পৃথিবীতে যত মহান মনীষীর জন্ম হয়েছে তাঁদের অন্যতম হলেন আমিরুল মু’মিনিন হযরত আলী (রা.)। তিনি এমন এক মহান ব্যক্তিত্ব ছিলেন, যাঁর সম্মান, মর্যাদা, জ্ঞান ও সাহসী ভূমিকা ইসলামের ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে আছে। রাসূলে খোদার পর ধর্মীয়, সাংস্কৃতিক এবং জ্ঞান-গবেষণার ক্ষেত্রে যাঁর প্রচেষ্টাকে যুগান্তকারী বলে মনে করা হয়, তিনি হলেন হযরত আলী (রা.)।
বক্তারা আরও বলেন, মহানবী (সা.)-এর জামাতা ও চাচাতো ভাই আলী (রা.) ছিলেন বীরত্ব, মহানুভবতা ও ন্যায়বিচারের প্রতীক। হযরত আলী (রা.) ছিলেন সেই ব্যক্তিত্ব যাঁর সম্পর্কে রাসূলে পাক (সা.) বলেছেন, “মুসার সাথে হারুনের যে সম্পর্ক, তোমার সাথে আমার সেই সম্পর্ক; শুধু পার্থক্য হলো হারুন (আ.) নবী ছিলেন, তুমি নবী নও।” বিশ্বনবী (সা.) আরও বলেছেন, “আমি জ্ঞানের নগরী আর আলী তার দরজা।” অর্থাৎ বিশ্বনবীর জ্ঞানের শহরে কেবল হযরত আলী (রা.)-এর মাধ্যমেই প্রবেশ করা সম্ভব।
বক্তারা উল্লেখ করেন, হযরত আলী (রা.)-এর আকাশছোঁয়া বীরত্ব ও মহত্ত্ব কেবল মুসলিম কবি, সাহিত্যিক বা মনীষীদেরই প্রভাবিত করেনি, অমুসলিম পণ্ডিতরাও তার সুবিশাল ব্যক্তিত্বের ব্যাপকতায় অভিভূত হয়েছেন। তার বরকতময় জীবনের আলোচনা মানুষের ঈমানকে সতেজ করে তোলে।
ইএইচ