আমার সংবাদ ধর্ম ডেস্ক
মার্চ ১৬, ২০২৬, ০৯:৩৭ পিএম
ইসলাম ধর্মে অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ ও গুরুত্বপূর্ণ একটি রজনী হলো শবে কদর। ‘শবে কদর’ একটি ফারসি শব্দ, যার অর্থ হলো সম্মানের রাত। আরবিতে একে বলা হয় ‘লাইলাতুল কদর’, যেখানে ‘লাইলাতুন’ মানে রাত এবং ‘কদর’ মানে সম্মান বা ভাগ্য। পবিত্র কোরআনে এই রাতকে হাজার মাসের চেয়েও উত্তম ও শ্রেষ্ঠ বলে ঘোষণা করা হয়েছে।
শবে কদরের রাতে মুসলমানরা মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে সারা রাত নফল নামাজ, কোরআন তেলাওয়াত, জিকির-আসকার, কবর জিয়ারত এবং নিজের গুনাহর জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করে থাকেন। তবে নির্দিষ্ট করে কোন রাতটি শবে কদর, তা কোরআন বা হাদিসে সরাসরি বলা হয়নি। তবে রাসূলুল্লাহ (সা.) রমজানের শেষ দশকের বেজোড় রাতগুলোতে (২১, ২৩, ২৫, ২৭ ও ২৯) শবে কদর তালাশ করার নির্দেশ দিয়েছেন।
শবে কদরের নামাজ পড়ার নিয়ম: লাইলাতুল কদরের জন্য বিশেষ কোনো ধরাবাঁধা নামাজের নিয়ম বা পদ্ধতি নেই। অন্য সাধারণ নফল নামাজের মতোই দুই রাকাত করে এই নামাজ আদায় করতে হয়। দুই রাকাত করে যত খুশি নফল নামাজ পড়া যায়। এই রাতে নামাজের রাকাত সংখ্যার চেয়ে গুণগত মান বা নামাজের একনিষ্ঠতা বেশি গুরুত্বপূর্ণ। নামাজের পাশাপাশি আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য বেশি বেশি কোরআন তেলাওয়াত, দোয়া, ইস্তেগফার ও তওবা করা উচিত।
লোকমুখে প্রচলিত আছে যে, এই রাতে বিশেষ কিছু সুরা পড়তে হয় এমন ধারণার কোনো শক্ত ভিত্তি নেই। তবে নামাজের দীর্ঘ কেরাত এবং অধিক সময় রুকু ও সেজদা করা সওয়াবের কাজ। নামাজের পাশাপাশি সুরা কদর ও সুরা ইখলাস বেশি বেশি পাঠ করা যেতে পারে।
শবে কদরের বিশেষ দোয়া: রমজানের শেষ দশকের প্রতিটি বেজোড় রাতেই শবে কদরের অন্বেষণে ইবাদত করা মুমিনদের কর্তব্য। এই রাতে হাদিসে বর্ণিত একটি বিশেষ দোয়া পড়ার জন্য তাগিদ দেওয়া হয়েছে।
উম্মুল মুমিনিন হযরত আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি একবার রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর কাছে জানতে চান, “হে আল্লাহর রাসূল! আমি যদি জানতে পারি যে কোন রাতটি লাইলাতুল কদর, তবে আমি কোন দোয়াটি পড়ব?” রাসূলুল্লাহ (সা.) তাকে এই দোয়াটি পড়তে বলেন:
اللَّهُمَّ إِنَّكَ عَفُوٌّ تُحِبُّ الْعَفْوَ فَاعْفُ عَنِّي উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা ইন্নাকা আফুউন তুহিব্বুল আফওয়া ফাফু আন্নি। অর্থ: হে আল্লাহ! আপনি মহানুভব ক্ষমাশীল। আপনি ক্ষমা করতে পছন্দ করেন। অতএব, আপনি আমাকে ক্ষমা করুন। (তিরমিজি, হাদিস: ৩৫১৩)
শবে কদরের মহিমা ও ফজিলত অর্জনে পুরো রাত ইবাদত-বন্দেগি ও তওবার মাধ্যমে অতিবাহিত করাই মুমিনের সার্থকতা।
জেএইচআর