আমার সংবাদ ডেস্ক
মে ১৪, ২০২৬, ০৪:১৬ পিএম
পবিত্র জিলহজ মাসে সামর্থ্যবান মুসলিমদের ওপর কোরবানি করা ওয়াজিব। এই বিশেষ আমলের পাশাপাশি কোরবানিদাতার জন্য চুল, দাড়ি ও নখ ছাঁটাই নিয়ে ইসলামে কিছু সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা রয়েছে।
যিনি কোরবানি করার সংকল্প করেছেন, তার জন্য জিলহজ মাসের চাঁদ ওঠার পর থেকে কোরবানি সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত শরীরের কোনো অংশ থেকে চুল, পশম বা নখ না কাটা মুস্তাহাব। অর্থাৎ, কোরবানি সম্পন্ন হওয়ার পরই কেবল চুল ও নখ কাটা উচিত।
রাসূলুল্লাহ (সা.) এর এ সম্পর্কিত একটি হাদিস রয়েছে: “যার কোরবানির পশু রয়েছে, সে যেন জিলহজ মাসের নতুন চাঁদ ওঠার পর থেকে কোরবানি করার পূর্ব পর্যন্ত তার চুল ও নখ না কাটে।” (আবু দাউদ, হাদিস: ২৭৯১)
এই মুস্তাহাব হুকুমটি কেবল তখনই কার্যকর হবে, যখন চুল বা নখ না কাটার ফলে পরিচ্ছন্নতার মেয়াদ ৪০ দিন অতিক্রম না করে। যদি এই আমল পালন করতে গিয়ে নাভির নিচের পশম বা বগলের লোম পরিষ্কারের মেয়াদ ৪০ দিন ছাড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে, তবে অবশ্যই তা আগে পরিষ্কার করে নিতে হবে।
হজরত আনাস ইবনে মালেক (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে বলা হয়েছে, গোঁফ ছাঁটা, নখ কাটা এবং শরীরের অপ্রয়োজনীয় লোম পরিষ্কার করার সময়সীমা ৪০ দিন নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়েছিল, যাতে এর বেশি দেরি না হয়। (মুসলিম, হাদিস: ৪৮৭)
যাদের কোরবানি দেওয়ার সামর্থ্য নেই, তাদের জন্যও এই দিনগুলোতে চুল-নখ না কাটা উত্তম বা সওয়াবের কাজ। রাসূলুল্লাহ (সা.) এক ব্যক্তিকে বলেছিলেন যে, কোরবানির দিন চুল, নখ ও মোঁচ পরিষ্কার করা এবং নাভির নিচের পশম পরিষ্কার করাই আল্লাহর দরবারে তার পূর্ণ কোরবানি বলে গণ্য হবে। (সহিহ ইবনে হিব্বান)
সাহাবায়ে কেরাম ও তাবেয়িরাও জিলহজের প্রথম দশ দিন শিশুদের চুল-নখ কাটা অপছন্দ করতেন। তাই সম্ভব হলে এই আমলটি প্রত্যেকেরই করার চেষ্টা করা উচিত।
জেএইচআর