ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Amar Sangbad

ইনস্টাগ্রাম

Amar Sangbad

এক্স

Amar Sangbad


লিংকডইন

Amar Sangbad

পিন্টারেস্ট

Amar Sangbad

গুগল নিউজ

Amar Sangbad


হোয়াটস অ্যাপ

Amar Sangbad

টেলিগ্রাম

Amar Sangbad

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Amar Sangbad


ফিড

Amar Sangbad

ঢাকা সোমবার, ২০ জুলাই, ২০২৬

চট্টগ্রামে প্রথম টি-টোয়েন্টিতে লজ্জাজনক হার

ক্রীড়া প্রতিবেদক

ক্রীড়া প্রতিবেদক

নভেম্বর ২৭, ২০২৫, ০৯:৪৮ পিএম

চট্টগ্রামে প্রথম টি-টোয়েন্টিতে লজ্জাজনক হার

চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে সিরিজের প্রথম টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশ যেন শুরু থেকেই ছন্দ খুঁজে পায়নি। ব্যাটিং, বোলিং কিংবা ফিল্ডিং কোনো বিভাগেই স্বাগতিকদের আত্মবিশ্বাসী লাগেনি। ফলে সিরিজের প্রথম ম্যাচেই আইরিশদের কাছে ৩৯ রানের হতাশাজনক হার বরণ করতে হয়েছে লাল–সবুজদের।

১৮২ রানের কড়া লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে বাংলাদেশ ইনিংস জুড়েই ছিল ধুঁকতে থাকা এক দল। তাওহীদ হৃদয়ের অসাধারণ লড়াই কিছুটা ব্যবধান কমালেও ফল বদলানো সম্ভব হয়নি। 

৫০ বলের ঝড়ো ৮৩ রানে শেষ পর্যন্ত অপরাজিত থাকলেও দলকে বিপর্যয় থেকে টেনে তুলতে পারেননি তিনি। বাংলাদেশের রান তাড়া শুরু হয় দুঃস্বপ্ন দিয়ে। স্কোরবোর্ডে মাত্র ১৮ রান উঠতেই সাজঘরে ফিরে যান প্রথম চার ব্যাটার। তানজিদ হাসান তামিম এবং পারভেজ হোসেন ইমন দুজনেই সংগ্রহ করেন মাত্র ১ রান করে। অধিনায়ক লিটন দাসও ব্যর্থ ২ রান করে এলবিডব্লিউর ফাঁদে পড়েন। 

সাইফ হাসান কিছুক্ষণ টিকে থাকার চেষ্টা করলেও ১৩ বলে ৬ রান করে তিনি ফেরেন। ব্যাটিংয়ের মূল ভরসা টপ অর্ডার এমন ভঙ্গুরভাবে ভেঙে পড়ায় চাপ দ্বিগুণ হয়ে যায় দলের ওপর। 

প্রাথমিক বিপর্যয়ের পর পঞ্চম উইকেটে তাওহীদ হৃদয় ও জাকের আলী অনিক চেষ্টা করেন ইনিংস গোছাতে। দুজন মিলে ৪৮ রানের একটি মূল্যবান জুটি গড়ে ম্যাচে ফেরার ক্ষীণ আশা তৈরি করেছিলেন। কিন্তু ব্যারি ম্যাকার্থির এক উঠতি দৈর্ঘ্যের বলে ডিপ থার্ড ম্যান অঞ্চলে ক্যাচ তুলে দেন জাকের। ১৬ বলে ২০ রান করে ফেরেন তিনি। তার বিদায়ের পর আবারো ইনিংস ভেঙে পড়ে। 

এক প্রান্তে লড়াই চালিয়ে গেলেও অন্য প্রান্তে আসা–যাওয়ার মিছিল চলে। আইরিশদের বোলিং আক্রমণে উজ্জ্বল ছিলেন লেফট-আর্ম স্পিনার ম্যাথিউ হামফ্রিস। তিনি যেন বাংলাদেশের মিডল অর্ডারের দুঃস্বপ্ন হয়ে নামেন। 

একই ওভারে রিশাদ হোসেন, নাসুম আহমেদ ও তানজিম হাসান সাকিবকে সাজঘরে ফেরান। মাত্র ১৩ রান খরচায় ৪ উইকেট নিয়ে বাংলাদেশ ইনিংস ছিন্নভিন্ন করতে বড় ভূমিকা রাখেন এই স্পিনার। তারই স্পেলে ম্যাচ থেকে কার্যত ছিটকে যায় বাংলাদেশ। 

নবম উইকেটে শরিফুল ইসলামকে সঙ্গে নিয়ে চেষ্টা করেন হৃদয়। দুজন মিলে ৪৮ রানের জুটি গড়ে হারের ব্যবধান কমানোর চেষ্টা করেন। শরিফুল ১৩ বলে ১২ রান করে আউট হলে সেই জুটি ভেঙে যায়। 

যদিও শেষ পর্যন্ত হৃদয় নিজের ক্যারিয়ারের সেরা টি-টোয়েন্টি ইনিংস খেলেন। তার ব্যাট থেকে আসে ৭ চার ও ৩ ছক্কা—মোট ৮৩ রান। আয়ারল্যান্ড শেষদিকে কয়েকটি সহজ ক্যাচ হাতছাড়া না করলে বাংলাদেশ আরও কম রানে থামতে পারত। 

টস হেরে ব্যাট করতে নেমে আয়ারল্যান্ড শুরুটা সাবধানীভাবে করলেও পরে রানের গতি বাড়াতে থাকে। হ্যারি টেক্টর পুরো ইনিংস জুড়ে আক্রমণাত্মক ছিলেন। ৪৫ বলের ইনিংসে ৫টি ছক্কা ও ১টি চারের সাহায্যে ৬৯ রানে অপরাজিত থাকেন। টিম টেক্টর ১৯ বলে ৩২ রান এবং কার্টিস ক্যাম্ফার ১৭ বলে ২৪ রান যুক্ত করায় স্কোর সহজেই ছুঁয়ে ফেলে ১৮০ পেরিয়ে যায়। 

নির্ধারিত ২০ ওভারে ৪ উইকেট হারিয়ে আয়ারল্যান্ড সংগ্রহ করে ১৮১ রান—টি-টোয়েন্টির মানদণ্ডে প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক স্কোরের চেয়েও বেশি। 

বাংলাদেশের বোলারদের কেউই উল্লেখযোগ্য প্রভাব রাখতে পারেননি। মোস্তাফিজুর রহমান কৃপণ বোলিং করলেও (৪ ওভারে ২৩ রান) উইকেট শূন্য থেকে যান। তানজিম সাকিব নেন সর্বোচ্চ ২ উইকেটতবে ৪১ রান খরচে। শরিফুল ইসলাম ও রিশাদ হোসেন ১টি করে উইকেট পেলেও রান দিয়েছেন বেশ। বোলিংয়ে অমন নিয়ন্ত্রণহীনতা শেষদিকে বড় ব্যবধানে হার ত্বরান্বিত করে।

তিন ম্যাচ সিরিজে আয়ারল্যান্ড এখন ১–০ ব্যবধানে এগিয়ে। সিরিজে টিকে থাকতে হলে ২৯ নভেম্বর একই মাঠের দ্বিতীয় ম্যাচে বাংলাদেশকে ঘুরে দাঁড়াতেই হবে। ব্যাটিংয়ের ব্যর্থতা, বোলিংয়ে পরিকল্পনার ঘাটতি এবং ফিল্ডিংয়ে অমনোযোগ সব মিলিয়ে বাংলাদেশ দলকে নিজেদের নতুন করে সাজানোর প্রয়োজন স্পষ্টই হয়ে উঠেছে প্রথম ম্যাচের ফলাফলে। বিশেষ করে টপ অর্ডারের ব্যর্থতা কাটিয়ে উঠতে না পারলে সিরিজ ফিরে পাওয়া কঠিন হয়ে যাবে।

Link copied!