ক্রীড়া প্রতিবেদক
আগস্ট ২৫, ২০২২, ০২:৩৩ এএম
আপনি হয়তো অনেক যুদ্ধই দেখেছেন কিংবা শুনেছেন। কিন্তু ক্রিকেটের ময়দানেও যে যুদ্ধ হয় তা হয়তো অনেকেই জানেন আবার অনেকেই জানেন না। ক্রিকেটের বাইশ গজের যুদ্ধটা কেমন হয় তা হয়তো ক্রিকেটপ্রেমীরাই ভালো জানেন।
আর যারা ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ দেখেছেন, তারা তো খুব ভালো করেই জানেন যে ক্রিকেট যুদ্ধটা আসলে কি। ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ হলেই, মাঠে কিংবা বাইরে; যুদ্ধ শুরু হয়ে যায় সব জায়গাতেই। তবে মাঠের ভেতরে ব্যাটে বলে যুদ্ধ হলেও মাঠের বাইরের যুদ্ধটা হয় কথার। আগামী পরশু দিন শ্রীলঙ্কা ও আফগানিস্তানের ম্যাচ দিয়ে পর্দা উঠবে এবারের এশিয়া কাপের।
পরদিন রোববারই মাঠে নামবে চির প্রতিদ্বন্দ্বী ভারত ও পাকিস্তান। তবে এবারের যুদ্ধটা হয়তো একটু অন্যরকমই হতে পারে। গত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতকে ১০ উইকেটে হারিয়েছে পাকিস্তান। ভারত কি সেই ক্ষত এখনো ভুলতে পেরেছে? অবশ্যই সেই প্রতিশোধটাই নিতে চাইবে এই ম্যাচে।
বরাবরেই মতো এবারও এই ম্যাচ ঘিরে শুরু হয়ে গেছে কথার যুদ্ধ। দুই দেশের মধ্যে কথার যুদ্ধটা কদিন আগে থেকেই শুরু হলেও সেই যুদ্ধটা আরও একটু উস্কে দিয়েছেন পাকিস্তানি অলরাউন্ডার আসিফ আলি।
তিনি বলেন, আমি এমন একটা জায়গায় ব্যাট করতে নামি যখন ওভারে ১০ রানের বেশি তুলতে হয়।
তার জন্য প্রথম বল থেকেই বড় শট খেলতে হয়। আমি রোজ অনুশীলনে ১০০ থেকে ১৫০ ছক্কা মারছি। যাতে ম্যাচের সময় অন্তত চার-পাঁচটা ছক্কা মারতে পারি। বড় শট মারতে পারেন বলে চোখ বন্ধ করে ব্যাট চালাতে রাজি নন আসিফ। উল্টে বল দেখে সেই অনুয়ায়ী শট মারতে চান পাকিস্তানি এই ক্রিকেটার।
আসিফ আরও বলেছেন, ম্যাচের পরিস্থিতির ওপর সবটা নির্ভর করছে। আমি যখনই ব্যাট করতে নামি, আমার ওপর চাপ থাকে। সবাই বড় শট দেখতে চায়। আমি বলের লাইন ও লেংথ দেখে শট খেলি। একই শট বার বার খেলার কথা ভাবি না। ২০১৮ সালে পাকিস্তানের হয়ে টি-টোয়েন্টি অভিষেক হয় আসিফের।
পাকিস্তানের হয়ে ৩৯টি ম্যাচে ১৭.৪০ গড়ে ৪৩৫ রান করেছেন তিনি। স্ট্রাইক রেট ১৩৩.৮৪। সর্বোচ্চ রান ৪১। অন্যদিকে সোশ্যাল মিডিয়ায় এক ভক্তের প্রশ্নের জবাবে পাকিস্তানি সাবেক অলরাউন্ডার বুমবুম খ্যাত শহীদ আফ্রিদি বলেন, বাবর আজমের তারুণ্যে ভরা পাকিস্তান টি-২০ টিম বিশ্বের তাবড় তাবড় দলগুলিকে টেক্কা দেয়ার ক্ষমতা রাখে।
গত বছর টি-২০ বিশ্বকাপে ভারতের বিরুদ্ধে ঐতিহাসিক জয়ের পর বাবর, শাহিনরা রাতারাতি নায়ক বনে যান। এশিয়া কাপ অভিযানে তেমনই ফলাফলের আশায় বসে পাক সমর্থকরা। কিন্তু অন্ধ সমর্থকের মতো মন্তব্য করতে রাজি নন শহীদ আফ্রিদি। মাঠে নেমে ক্রিকেট নামক খেলাটাকে খুব কাছ থেকে দেখেছেন, খেলেছেন।
অতএব, কোন দল সবচেয়ে শক্তিশালী বা কে জিতবে ভারত-পাক ম্যাচ? এমন প্রশ্নের আলটপকা জবাব দিতে চান না। অযথা বিতর্কের সৃষ্টি না করে আফ্রিদি বলে দিলেন, যে দলের ভুলের পরিমাণ কম থাকবে তারাই জিতবে।
অর্থাৎ, ভারত বা পাকিস্তান কোনো টিমকেই আদর্শ বলে মনে করছেন না পাক কিংবদন্তি। যতটা সম্ভব ভুলভ্রান্তি কম করে মেগা ক্ল্যাস জিতে নেয়ার বার্তা দিলেন।
এদিকে ভারতের খেলা বিষয়ক চ্যানেল স্টার স্পোর্টসের মিডিয়া সেশনে সমপ্রতি হাজির ছিলেন ওয়াসিম আকরাম।
সেখানে ওয়াসিম আকরাম বলেন, ভারতের বিপক্ষে ঐতিহাসিক জয়ের পর থেকেই পাকিস্তান এখন অনেক আত্মবিশ্বাসী। তারা এখন এতটাই ধারাবাহিক, যেকোনো দিন কিংবা যেকোনো সময় তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়তে পারে। হাই-ভোল্টেজ দ্বৈরথে পাকিস্তানের ব্যাপারে আশাবাদী ওয়াসিম আকরাম। তবে দুর্বলতার জায়গাটাও ধরিয়ে দিলেন তিনি।
বলেন, ‘আমাদের টপ অর্ডার দুর্দান্ত। গেল বিশ্বকাপেও ৬৭.৫৩ শতাংশ রান করেছেন টপ অর্ডারের তিন ব্যাটার বাবর আজম, মোহাম্মদ রিজওয়ান এবং ফখর জামান। এবারও তাদের হালটা ধরতে হবে। কারণ, আমাদের মিডল অর্ডার নিয়ে আমি চিন্তিত।’